২৩ জুন ২০১৮

সুচিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিন : খন্দকার মাহবুব হোসেন

-

রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সুচিকিৎসা নেয়ার সুবিধার্থে মানবিক বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। গতকাল রাজধানীর মালিবাগের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় কারারুদ্ধ রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। তিনি বয়স্ক মহিলা এবং তার বিভিন্ন রোগ আছে। ফলে তার জীবনহানির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে পরিত্যক্ত জেলখানায় বা একটি পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়েছে। সেখানে যেকোনো সুস্থ লোকও অসুস্থ হয়ে পড়বে। সে কারণে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়া হোক। আইনি প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে, এ সময় দেয়া ঠিক হবে না, দ্রুত চিকিৎসা নেয়ার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দিন।
তিনি বলেন, দু’টি মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সরকার আপিল করেছে, আগামী ২৪ জুন এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি। নি¤œœ আদালতেও বেশ কিছু মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে বের করতে হলে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ এবং কারাগারে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তার রোগ আরো বৃদ্ধি করেছে। বর্তমান অবস্থায় তার জীবনহানির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক কারণে তাকে দ্রুত সুচিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। সুচিকিৎসার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া উচিত, যেহেতু আপিল বিভাগে তার জামিন নিয়ে কয়েকটি মামলা পেন্ডিং আছে। এ ছাড়া ঈদের কারণে উচ্চ আদালত ও নি¤œ আদালত বন্ধ। অন্য দিকে নি¤œœ আদালতেও বেশ কিছু মামলায় জামিন নিতে হবে। এ অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত তার মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং তার সুচিকিৎসার জন্য একটাই পথ খোলা রয়েছে, তা হচ্ছে প্যারোলে মুক্তি।
খালেদা জিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার প্রস্তাব দেয়া হবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক, তার ইচ্ছার প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত।
সামরিক শাসনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সেনাশাসনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এভাবে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন এবং তিনি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন। এমনকি তিনি প্যারোলে মুক্ত হয়েই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। খালেদা জিয়াকেও তেমন সুযোগ দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সব কিছু বাদ দিয়ে সুচিকিৎসার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কারণে জীবন রক্ষার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দিন, যাতে তিনি নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা নিতে পারেন। যেহেতু ইতঃপূর্বে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার নজির রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কারাগারে দুইবার আমি খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছি। সেখানে যে অবস্থায় তিনি আছেন তাতে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহজে তাকে মুক্তি দেয়া সময়সাপেক্ষ। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব প্যারোলে মুক্তি পেলে দ্রুত তার সুচিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, আজ সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করছে। আইনি প্রক্রিয়ায়ও তাকে বের করতে দেরি হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার যদি বলে তাহলে দলের নেতারা প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এখানে সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমি আইনজীবী হিসেবে বলছি, প্যারোলে মুক্তি দিলে খালেদা জিয়া তার ইচ্ছানুযায়ী চিকিৎসা নিতে পারবেন। কারণ সরকার স্বীকার করছে তিনি অসুস্থ, তার সুচিকিৎসা দরকার। এ জন্য অবিলম্বে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিন।

 


আরো সংবাদ