২৩ জুন ২০১৮

যাত্রীর চাপ নেই মহাখালী বাস টার্মিনালে

-

সরকারি ছুটির দিনে গতকাল মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বিলম্ব ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে বাস ছেড়ে গেছে। সকালে এসেও বাসের টিকিট কিনতে পেরেছেন যাত্রীরা। এমনকি যাত্রী সঙ্কটে দেরিতে ছেড়ে গেছে অনেক বাস।
ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। গত কয়েক দিন থেকে বাস-ট্রেন ও লঞ্চে গাদাগাদি করে যাত্রা করছে মানুষ। গতকাল ছিল শবেকদরের সরকারি ছুটি। কিন্তু মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়নি। স্বাভাবিক অন্য সময়ের মতোই যাত্রীর আনাগোনা ছিল।
সাধারণত মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নিলফামারী, লালমনিরহাট, নওগাঁ, সিলেট, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়।
হবিগঞ্জে যাওয়ার জন্য মহাখালী বাস টার্মিনালে আসেন যুবায়ের আহমেদ নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি জানান, তিনি সকাল ৯টার দিকে টার্মিনালে এসে সাড়ে তিন শ’ টাকা দিয়ে এনা পরিবহনের টিকিট কাটেন। অন্য সময়ও একই দামে টিকিট বিক্রি হয়। বেলা ১টা ১০ মিনিটে তার গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা। যুবায়ের আহমেদ বলেন, অন্য সময় টিকিট কাটার ১৫ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টার মধ্যে বাস ছেড়ে যায় কিন্তু আজ চার ঘণ্টা পরে বাস ছেড়ে যাবে। যুবায়ের আহমেদ ঢাকায় থাকেন না; সিরাজগঞ্জে তার কর্মস্থল। সেখান থেকে দুই শ’ টাকা দিয়ে ঢাকায় আসার পর তাকে হবিগঞ্জ যেতে হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ ঘুরে যেতে হয়। কিন্তু ওই সড়ক ভালো না বলে জেনে ঢাকা হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেন। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে সরাসরি যেতে পারলে মাত্র তিন শ’ টাকা লাগত; কিন্তু এখন তার সাড়ে পাঁচ শ’ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।
টার্মিনালে শাহ ফতেহআলী পরিবহনের সামনে বেশ কিছু যাত্রীর ভিড় দেখা যায়। এর মধ্যে আহমেদ পারভেজ এসেছেন রংপুর যাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, গত ৪ জুন চারটি টিকিট কেটেছি। আগে চারটি টিকিট দুই হাজার টাকা দিয়ে কিনতাম। কিন্তু ঈদের জন্য আট শ’ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কর্মচারীরা জানান, ঈদে গাড়ি যাওয়ার পর খালি ফিরে আসে। এ জন্য একটু বেশি ভাড়া নিতে হয়। তারা বলেন, নওগাঁয় যাওয়ার জন্য আগে চার শ’ টাকা ভাড়া নেয়া হতো, ঈদের জন্য এক শ’ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।
অন্য দিকে যাত্রী সঙ্কটের কথা জানান স্টারলিক কাসিক পরিবহনের সহকারী মাস্টার মো: আব্বাস। তিনি বলেন, সকালে দু’টি গাড়ি সময়মতো ছাড়তে পারলেও যাত্রী সঙ্কটের কারণে দুপুরের গাড়ি ছাড়তে দেরী হচ্ছে। বাসের মোট সিটের সংখ্যা ৪৫ হলেও বেলা একটা পর্যন্ত ৩০ জন যাত্রী পাওয়া যায়। সিরাজগঞ্জ যেতে এ বাসে আড়াই শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী সিরাজগঞ্জের ভাড়া ২৮৩ টাকা। কিন্তু আমরা ২৫০ টাকা নিই। ঈদের সময়ও বাড়ানোর সুযোগ নেই। যেখানে যাত্রী সঙ্কট সেখানে বেশি নেয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান। আব্বাস আশা প্রকাশ করে বলেন, আজ সব অফিস ছুটি হয়ে যাবে। এতে বিকেল থেকে টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে পারে।
ওই বাসের চালক জুলহাস জানান, রাস্তায়ও এবার তেমন যানজট নেই। তবে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সড়কে যানজট সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশের নিয়মিত অবস্থান রয়েছে। রয়েছে র‌্যাবের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বিআরটিএ এর উদ্যোগে খোলা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। সাথে আছে ভিজিলেন্স টিমও। আর টিভি স্ক্রিনে সম্প্রচার করা হচ্ছে নানা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ