১৫ আগস্ট ২০১৮

চায়ের জন্য জেল!

-

অ্যালেক্সি নভিকভ। রাশান এ ব্যক্তির হারবাল চা খুব প্রিয়। শখ করে তাই সুদূর পেরু থেকে এক প্যাকেট ভেষজ উপাদান মিশ্রিত চা আনান; কিন্তু শখ করে আনা এ চা এখন তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার শুরু ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। অ্যালেক্সি যাচ্ছিলেন রাশিয়ার সামারা প্রদেশে স্ত্রী-কন্যার কাছে। দীর্ঘ পথ এড়িয়ে সংপ্তি পথে গন্তব্যে পৌঁছতে তিনি পাশের দেশ কাজাখস্তান দিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন। প্রায়োজনীয় কাগজপত্রসহ তিনি কাজাখস্তান সীমান্তে হাজির হন। সীমান্তরীরা তাকে তল্লাশি করার সময় ব্যাগে পান একটি চায়ের প্যাকেট। সন্দেহের চোখে তারা জানতে চান, এটা চায়ের প্যাকেট না নেশার দ্রব্য। ভেষজ ওই চায়ের প্যাকেটটি দেখতে অবিকল নেশাজাতীয় দ্রব্যের মতো।
অ্যালেক্সি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, এমনকি প্যাকেটের গায়ে স্প্যানিশ অরে লেখাও দেখান; কিন্তু সীমান্তরীরা তা মানতে নারাজ। তারা পরীা করে দেখতে বিশেষজ্ঞ ডাকেন। পরীা শেষে যখন কিছুই পাওয়া গেল না তখন অ্যালেক্সি সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি পেলেন। তবে ঘটনার শেষ এখানেই নয়। এটা ছিল মূলত ঘটনার শুরু।
ওই ঘটনার মাস তিনেক পরে অ্যালেক্সির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রাশান পুলিশ। মাদক চোরাচালানের দায়ে তাকে আটক করে জেলে নেয়া হয়। আত্মপ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আদালতের রায়ে তাকে ১০ বছর এক মাসের জেল দেয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন অ্যালেক্সি ও তার পরিবার। আইনজীবী ডেকে তারা এ মামলার পুনঃতদন্তের দাবি জানান। তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল সত্য।
ওই সময়ে কাজাখস্তান সীমান্তরীরা অ্যালেক্সিকে সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দিলেও কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির ওই চায়ের প্যাকেটের জন্য তার নাম মাদক চোরাকারবারিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ তালিকা তারা রাশান পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একই সাথে ওই তালিকা মোতাবেক রাশান পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তারপর থেকে অ্যালেক্সি জেলেই আছেন।
চলতি মাসে অ্যালেক্সির অদ্ভূত সাজার বিষয়টি ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তা ছাড়া তার পরিবার ও আইনজীবীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বিষয়টি যেহেতু দু’টি দেশের মধ্যে গড়িয়েছে সেহেতু এ অদ্ভূত সাজা থেকে অ্যালেক্সির কবে মুক্তি মিলবে তা নিশ্চিত নয়। ইন্টারনেট।

 


আরো সংবাদ