১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন মসিউর

সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন মসিউর - ছবি : সংগৃহীত

নিজের বক্তব্যের জন্য জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা। বুধবার জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন মসিউর রহমান। এ সময় তিনি তার বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

গত রোববার এক অনুষ্ঠানে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘নেশাগ্রস্ত’ অভিহিত করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মসিউর। সেদিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একাধিক সাংসদ তাকে সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। সেদিন সংসদে ছিলেন না মসিউর।

মসিউর রহমান বলেন, ১০ নভেম্বর গণতন্ত্র দিবস নিয়ে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি ছোট সভা ছিল। বাইরে কোনো মাইক ছিল না। একই দিনে নূর হোসেন দিবসও ছিল। পুরোনো ঢাকা থেকে কিছু লোক অনুষ্ঠানে এসেছিল। আসার পথে তারা শুনতে পায় নূর হোসেনের চত্বরে এরশাদকে গালাগালি করা হয়। এরশাদের দুই গালে জুতো মারো তালে তালে- এ ধরনের কিছু কথা বার্তা শোনার পরে তারা অনুষ্ঠানে এসে তা বলেন। তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদের শান্ত থাকতে বলেন।

এ সময় সাংসদেরা হইচই শুরু করেন। স্পিকার মসিউরকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন।

মসিউর বলেন, সংসদে তাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তিনি মনে করেন, জ্যেষ্ঠ হিসেবে তারা তাকে শাসন করেছেন।
জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমি একটা ভুল করেছি। এ জন্য আমি নূর হোসেনের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। এটা নিয়ে আমি বিবৃতিও দিয়েছি।’

মসিউর বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি অজস্রবার জয় বাংলা বলেছেন, জাতির পিতা বলেছেন। জাতির পিতাকে নিয়ে কোনো রকম ভুল বলে থাকলে এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এ সময় তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

মসিউর বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদ-দুর্নীতিবাজ এগুলো বলেননি। বলেছেন বিশ্বজিৎ হত্যা, জেলখানার হত্যার বিচার হয়েছে। ক্যাসিনোরও বিচার হয়েছে। ১৯৯০ সালের পরে যখন খালেদা জিয়ার সময় কৃষক হত্যার কথা, একুশ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার কথা বলেছেন। তারপরও ভুল করে থাকলে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছেন। সবাইকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

মসিউর বলেন, তিনি মনে করে তার দল ক্ষমতায় এলেও তিনি মন্ত্রী হতে পারতেন না। প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্নেহ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই ভালো সম্পর্কই থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

মসিউর বলেন, ‘নূর হোসেন কিন্তু মৃত্যুবরণ করেছেন। এরশাদ সাহেব গুলি করে মারুন বা না মারুন, এটা সত্য যে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমি পত্র দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু একসাথে অ্যালায়েন্স করে নির্বাচনে এসেছি আমার যদি কোনো ভুলত্রুটি হয় তা আপনারা ক্ষমা সুন্দর সৃষ্টিতে দেখে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik