১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
কাস্টমস হাউসের লকার ভেঙ্গে প্রায় ২০ কেজি স্বর্ণ চুরি 

সন্দেহের তীর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দিকে

সন্দেহের তীর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দিকে - ছবি : সংগৃহীত

এই প্রথম বেনাপোল কাস্টম হাউসের নিরাপদ গোপনীয় লকার ভেঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আটককৃত ১৯ কেজি ৩০০ গ্রাম স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে গেছে দূর্বিত্তরা। শুক্রবার থেকে রোববার তিন দিনের বন্ধের যে কোন দিনে লকারের সামনের দুটি দরজা ভেঙ্গে লকার ভাঙ্গতে সক্ষম হয় দূর্বিত্তরা। লকারে কাষ্টসম, শুল্ক গোয়েন্দা ও বিজিবি’র আটক করা স্বর্ণ, ডলার, টাকা, কষ্টি পাথর ও বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সম্পদ ছিল বলে কাষ্টম সুত্রে জানাগেছে।

এর আগে দুর্বৃত্তরা কাষ্টমসের সিসি ক্যামেরার সবগুলি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে লকারের দায়িত্বে থাকা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাবুল সর্দার সহ ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার ৩দিন পার হলেও এখনো চুরি যাওয়া কোন মালামাল উদ্ধার করতে পারিনি থানা পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। দিন দিন সন্দেহের তীর যেন কাস্টম কর্তৃপক্ষের দিকে মোড় নিচ্ছে।

এখনো পর্যন্ত কাস্টম হাউসের মুল ফটকে দায়িত্বরত অস্ত্রধারী আনছার সদস্যদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তাছাড়া কাস্টম হাউস সংরিক্ষত এলাকা ঘোষনা করা হলেও এ হাউসের ভিতরে রয়েছে প্রায় ২শ জন বহিরাগত যুবক। যারা এনজিও নামে পরিচিত। এদের সম্পুর্ন বেতন হয় ঘুষের টাকা থেকে। সরকারী কোন কর্মচারী এরা নয়। এদের কাস্টম হাউসে অবাধ বিচরণ। কাস্টম হাউসের প্রতিটি টেবিল থেকে এরা অফিসারদের নামে ঘুষের টাকা আদায় করে থাকেন। অফিসারদের সাথে রয়েছে এদের সখ্যতা। কাস্টম হাউসের সমস্ত গোগন তথ্য এদের জানা। কাস্টম হাউসের মধ্যে রয়েছে বহিরাগতদের বসবাস। শাজান হুজুর নামে এক বহিরাগত দীর্ঘদিন ধরে কাস্টম হাউসের মধ্যে সরকারী কোয়াটার দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে। তার পরবারের ৫/৬জন সদস্যসহ আত্বীয় স্বজনদের অবাধ যাতয়াত কাস্টমস হাউসের মধ্যে। সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে শাজান হুজুরের বসবাস জনমনে সন্দেহাতিত। রাতে সে সমস্ত বহিরাগতদের এখানে গার্ড হিসাবে রাখা হয়েছে তাদের অধিকাংশই চোরের দুর্নাম রয়েছে। বেনাপোলের বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে এ সব বহিরাগতদের এখানে নিয়ে এসেছে কতিপয় কাস্টম অফিসার। এসব বহিরাগতরা রাতেও কাস্টম অভ্যন্তরে অবস্থান করে থাকেন। বলা চলে অরক্ষিত রয়েছে কাস্টম হাউস। আর এ অবস্থায় এখানে চুরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

কাষ্টমসও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বেনাপোল কাষ্টমস’র পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোপনীয় কক্ষের তালা ভাঙ্গার পর লোহার লকার ভাঙ্গে দুর্বিত্তরা। লকারের মধ্যে ৩০ কেজির মতো স্বর্ণ, ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার. কোটি টাকার উপরে বাংলাদেশী টাকা সহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সম্পদ রক্ষিত ছিল। দুর্ধর্ষ এ চুরির রহস্য উদঘাটনের জন্য সোমবার সকালে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে পোর্ট থানা পুলিশ,র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি (ক্রাইম সিন) পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত সহ লকারে রক্ষিত মালামালের ইনভেন্টির কাজ শুরু করেন। ইনভেন্টির কাজ সন্ধ্যা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলে।

ইনভেন্টি শেষে দেখা যায় লকারে অন্যান্য মালামাল ঠিক থাকলেও ১৯ কেজি ৩০০ গ্রাম স্বর্ণ কম পাওয়া রয়েছে। যা দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে এ ভোল্টে রাখা জিনিষ পত্রের রেজি; খাতায় যা লিপি বদ্ধ করা আছে সে খাতা এখনো সঠিক ভাবে দেখায়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চুরি যাওয়া মালামালের যে ঘোষনা দেয়া হয়েছে তাও সন্তোষ জনক নয়।

যশোর জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি তৌহিদুর রহমান বলেন,ইনভেন্টির কাজ করে দেখা গেছে লকারে অন্যান্য মালামাল ঠিক আছে তবে ৩০ কেজি স্বর্ণের মধ্যে ১৯ কেজি ৩০০ গ্রাম স্বর্ণ কম পাওয়া গেছে। এসব স্বর্ণগুলি দুর্বিত্তরা লকার ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে। বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ জিঞ্জাসাবাদের জন্য ৭জনকে আটক করেছে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাষ্টমসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান কাষ্টমসের যুগ্ন কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। লকারের দায়িত্বে থাকা ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik