২০ অক্টোবর ২০১৯

আবরারকে দাফনের পর খুনিদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

আবরারকে দাফনের পর খুনিদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ - ছবি : নয়া দিগন্ত

হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা এবং দোয়া নিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে হাজার হাজার মুসল্লীর অংশগ্রহণে রায়ডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে আবরারের তৃতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে এলাকাবাসী শিলাইদহ সড়কের উপর বিভিন্ন প্লেকার্ড হাতে ফাহাদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন। পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দেন। পরে পুলিশি বাধায় বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করে।

এর আগে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আবরারের লাশবাহী গাড়ি কুষ্টিয়া শহর থেকে গ্রামের বাড়ি রায়ডাঙ্গা বিশ্বাস বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। বৃদ্ধ দাদা এবং দাদী তার বড় নাতী আবরারের লাশ দিখে মুর্ছা যান। তারা চিৎকার দিয়ে বিলাপ বকতে থাকেন। সত্তর উর্ধ্বো দাদা আবুল কাশেম বিশ্বাসকে আজ সকালেই নাতীর মৃত্যুর খবর জানানো হয় আর দাদী মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবারই কুষ্টিয়া শহরের বাসায় গিয়েছিলেন।

ভোর থেকেই রায়ডাঙ্গা গ্রামের বিশ্বাস বাড়িতে ফাহাদের লাশ দেখার জন্য হাজার হাজার নারী ও পুরষের উপস্থিতি ছিলেন। ফাহাদের লাশ পৌঁছানোর খবরে মহিলা পুরুষ সহ সব বয়সের মানুষেরা সেখানে ভিড় জমান। সোয়া এক ঘণ্টা ফাহাদদের বাগান বাড়িতে লাশবাহী গাড়ি থামে। সেখানে ফাহাদের লাশ শেষবারের মত সবাই দেখেন। আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি সাধারন মানুষকে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহিলাদের বিলাপ করতে দেখা গেছে।

ফাহাদের গ্রামের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার দিশা, কুষ্টিয়া কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাত সোয়া ১০টায় বুয়েট থেকে রওনা হওয়া ফাহাদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়ায় পৌছায় ভোর সাড়ে ৫টায়। ফাহাদের লাশের অপেক্ষায় পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি সাংবাদিকেরাও সারা রাত্রি কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়ির আশেপাশে বিচরন করছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ি ঘেষা ফাহাদের বাড়িটি। সোমবার সারাদিন হানিফ কুষ্টিয়ায় অবস্থান করলেও তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে ফাহাদের বাড়িতে যাননি। তবে হানিফ ফাহাদের বাবার সাথে মোবাইলে কথা বলে খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়। মঙ্গলবার ভোরের আলো দেখার আগেই ফাহাদের লাশ কুষ্টিয়ায় বাসায় পৌঁছায়।

সেখানে তার মা এবং আত্মীয় স্বজনেরা ফাহাদের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় আহাজারি করতে থাকেন এবং দোয়া পড়তে থাকেন। স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ফাহাদের লাশ দেখতে যান। সকাল সোয়া ৬টায় এমপি হানিফের বাড়ির সামনের সড়কে ফাহাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কয়েক হাজার মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে সকাল ৭টায় ফাহাদের মা প্রথমবারের মত ফাহাদের লাশের গাড়ির সামনে আছেন। ১০ মিনিট পর দ্বিতীয়বারের মত ফাহাদের মা লাশবাহী গাড়ির সামনে এসে ফাহাদের লাশ দেখেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং আহাজারি করতে থাকেন। তিনি আল্লাহর দরবারে খুনিদের শাস্তি চেয়ে আহাজারি করেন।


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik