২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঈদের ছুটি কাটাতে ভারতগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় বেনাপোলে

বেনাপোল চেকপোস্টে উপচে পড়া ভিড় - ছবি : নয়া দিগন্ত

কুরবানির ঈদের লম্বা ছুটি কাটাতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের বেনাপোল চেকপোস্টে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। হাজার হাজার বাংলাদেশী যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছে।

কেউ যাচ্ছে বেড়াতে কেউ যাচ্ছে ডাক্তার দেখাকে কেউ যাচ্ছে আত্বীয় স্বজনের বাড়ীতে। এদের অধিকাংশই তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে জানালেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

রোদ-বৃষ্টিতে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে শিশুও রোগী যাত্রীদের নিয়ে বিপাকে পড়ছে সঙ্গীরা। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রীদের লাইনে দাড়িয়ে কাস্টম ইমিগ্রেশন করার নিয়ম থাকলেও সংরক্ষিত এলাকায় বহিরাগতদের যানবাহন থাকায় যাত্রীদের মেইন সড়কে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।

যাত্রীদের সেবার নামে পোর্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রী প্রতি ৪২ টাকা ৭০ পয়সার স্থলে ৫০ টাকা আদায় করলেও সেবার কোন মান বাড়েনি এখানে। যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন নিত্যদিন। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার পাসপোর্ট যাত্রী দু’দেশের মধ্যে চলাচল করে থাকে।

এবার কুরবানির ঈদের লম্বা ছুটি পাওয়ায় বাংলাদেশী যাত্রীদের ভারতে যাওয়ার পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণের চেয়ে বেশী যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। প্রতিদিন এ চেকপোস্ট দিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার যাত্রী ভারতে যাচ্ছে।

কেউ যাচ্ছে বেড়াতে, কেউ যাচ্ছে ডাক্তার দেখাকে, কেউবা যাচ্ছে আত্বীয় স্বজনের বাড়ীতে। এদের অধিকাংশই তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন। যাত্রীদের সাথে থাকা শিশু, রোগী ও বয়স্ক যাত্রীদের প্রবেশে অগ্রাধিকারও দেয়া হচ্ছেনা। ৮ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার যাত্রী ভারতে যাতয়াত করেছেন। ভারত থেকে এসেছে কম। তবে চলাচলে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন।

একজন পাসপোর্ট যাত্রীকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পৌঁছাতে বাংলাদেশ সাইডে ৭ জায়গায় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। যাত্রীরা বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের সেবায় সন্তুষ্ট না।

তারা অভিযোগ করে বলেন, কর্তব্যরত আনসার ও পুলিশের সদস্যরা আমরা লাইনে দাড়িয়ে আছি অথচ আনসার ও পুলিশের সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে লাইন ছাড়া প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রী ঢুকিয়ে দিচ্ছেন।

তবে এখানে এসবি পুলিশের উপস্থিত থাকলে এমন অনিয়ম কিছুটা কম হয় বলে জানান যাত্রীরা। বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে পার হয়ে দু’দেশের নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় আবারও বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। ভারতীয় গেটে ধীর গতিতে পাসপোর্ট চেকিং করায় নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ লাইনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। ভারতীয় সীমান্তেও ঘন্টার পর ঘন্টা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এসব পাসপোর্ট যাত্রীদের। রোদ বৃষ্টি আর ব্যপসা গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠছে যাত্রীরা। বিশেষ করে ছোট বাচ্চা ও রোগীদের নিয়ে মহা বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোন যাত্রী যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় তার জন্য আমরা তদারকি করছি। রোগী ও শিশু সাথে থাকা যাত্রীদের লাইন ছাড়া প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ঈদের লম্বা ছুটির কারণে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার যাত্রী ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন দ্বিগুণ যাত্রী ভারতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, গত ৮ দিনে এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার যাত্রী ভারতে যাতয়াত করেছে। রোগী ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অগ্রাধীকার দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী এ প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারকদের হয়রানির কারণে এ বন্দর দিয়ে যেমন আমদানি রপ্তানি যেমন ধস নেমেছে যাত্রী হয়রানির কারণে পাসপোর্ট যাত্রীও ভারতে যাওয়া-আসা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। আনসার বা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আবুল বাশার।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy