২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ঈদ বাজার

খুলনায় ক্রেতাদের পছন্দ সুতি কাপড়ে কাজ

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে পছন্দের পোশাক বাছাইয়ে ব্যস্ত খুলনার এক তরুণী - নয়া দিগন্ত

ঈদকে ঘিরে আনন্দ উচ্ছ্বাস ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কেনাকাটায় বেরিয়ে পড়ছেন সবাই। প্রচন্ড খরতাপ থাকায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল নাগাদ ক্রেতাদের ভীড়ে জমে উঠেছে খুলনার ঈদ বাজার। রমজানের প্রথম দিকে বেচা-বিক্রিতে হতাশ হলেও গত দুই-তিন দিনের বেচাকেনায় খুশি ব্যবসায়ীরা। বাকী দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের।

তবে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ কলকাতামুখী হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেকে। এদিকে ফুটপাথ থেকে শুরু করে নামী-দামী শপিংমল আর মার্কেটগুলোতে নানা রকম পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন পোশাক উঠেছে সব দোকানেই। পছন্দের পণ্য কিনতে ক্রেতাদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের ভিড় বেশী দেখা গেছে। কেনাকাটা চলছে মাঝ রাত পর্যন্ত। গরমে সুতি কাপড়ের আইটেম বেশি পছন্দ বলে জানান ক্রেতারা।

পোশাকে এবার তরুণীদের মন মজেছে সারারা-গারারায়। বড় ঘের, হাটুর নীচ থেকে কুচি দেয়া সালোয়ার, সাথে ভারি কাজ করা শার্ট অথবা মাঝারি কামিজ। বিভিন্ন কাপড়ে তৈরী এ পোশাকটির নাম দেয়া হয়েছে গারারা। নিউ মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্সসহ অভিজাত মার্কেটগুলোতে নতুন ফ্যাশান হিসেবে পোশাকটি তরুণীদের আকৃষ্ট করেছে।

এসেছে বাহারি কামিজের সাথে ধুতি ডিজাইনের সালোয়ার। পোশাকটির নাম সারারা। গারারার পরেই ঈদ কেনাকাটায় দ্বিতীয় অবস্থানে সারারা। তরুণীদের লং ফ্রক গাউনও ভাল চলছে। এগুলো বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার থেকে আট হাজার টাকায়।

এছাড়া কাতানের থ্রি পিচ, গতবারের লং কামিজ এবং ফ্রকও এবার বিক্রি হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন ফ্রগের মধ্যে ইয়োলো বিরি, রাধিকো, স্কাট ওয়েস্টার্ন, ওয়ান পিচ টপস, লং ফ্রক, গাউন, পিওর সিল্ক, পিওর জর্জেটে কাজ করা টু পিচ, থ্রি পিচ, পার্টি ফ্রক, গাউন, চায়না কাজ করা সুতি, জর্জেট প্রিন্ট, গুজরাটি, লিলেন পোশাক এবার নতুন এসেছে। এগুলো বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে ছয় হাজার টাকায়।

নগরীর পিকচার প্যালেস, জলিল টাওয়ার, ক্লে রোড, নিক্সন মার্কেট, সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকার দোকানগুলোতে মধ্যম আয়ের লোকদের ভিড় দেখা গেলেও নিউমার্কেট, আড়ং, কেডিএ এভিনিউ এলাকার অভিজাত বিপণীগুলোতে বিত্তবানদের কেনাকাটা চলছে বেশি। উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে খুলনা শপিং কমপ্রেক্স, নিক্সনমার্কেট এবং কিডস আইটেমের দোকানগুলোতে।

বুটিকসের দোকানগুলোতেও রয়েছে তরুণীদের ভিড়। তবে দাম কম- বেশি নিয়ে সবার মধ্যে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। পাঞ্জাবি খ্যাত আড়ংয়ে সবচেয়ে বেশী ভিড় দেখা গেছে। এখানে আটশ থেকে আট হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে। এবার সেফএনসেফ, নিউ মার্কেট, অঞ্জনস, দর্জিবাড়ি ইস্ট্যাসি, লা-রিভ ফ্যাশন, রং, কালার, নবরূপা, মিলান, মেনজ ক্লাব, ইনিফিনিটি, এ্যাডলিভ, ইজি ফ্যাশন, কে ক্রাফটে পাঞ্জাবি ভাল চলছে।

এছাড়া রেলওয়ে মার্কেট, জলিল টাওয়ার, আক্তার চেম্বার, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেটেও লাল, খয়েরি, কমলা, নীল, কালো, সাদা, ছাই, হালকা সবুজ বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে।

পাঞ্জাবি কিনতে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবিদ জানান, নতুন পাঞ্জাবি ছাড়া ছেলেদের ঈদ ভাবাই যায় না। তবে তা হতে হবে আড়ংয়ের। শাড়ীতে ভারতের চেয়ে ঢাকাইয়া ডেমরার জামদানি, দেশি টাঙ্গাইল, রাজশাহী সিল্ক সব সময় বিক্রির শীর্ষে থাকে। এ বছর পিওর সিল্কের ওপর কাঞ্জিভরণ কাতান শাড়িগুলো ভাল চলছে। এর দাম ৯ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশি জামদানি ৩ থেকে ১০ হাজার এবং দেশি টাঙ্গাইল ৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সুতির কাজ করা এ শাড়ির বিক্রি ভালো। শিফনের ওপর স্টোনের কাজ করা শাড়ি এবং শিফনের ওপর সুতার কাশ্মীরি কাজ করা শাড়িও ভালো চলছে। এগুলোর দাম ৭ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ব্যাংকার আব্দুল মজিদ মধু জানান, কদিন পর মার্কেটে ঢোকা মুশকিল হবে। তাই আগে থেকে কেনাকাটা করে রাখছি। অনেক গরম পড়েছে, তাই মেয়ের জন্য সুইচ কটন নিলাম।

কলেজ ছাত্র আলামীন বলেন, আগে থেকেই পছন্দ পাঞ্জাবী। এবার কালেকশান ভালো। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।

আড়ংয়ে কেনাকাটা করতে আসা কলেজ শিক্ষক হুমায়রা লিসা জানান, দাম বেশি হলেও পোশাকগুলো মানসম্পন্ন। ঈদ যত এগিয়ে আসছে, বাজারে ভিড় তত বাড়ছে। তাই কেনাকাটা সারতে আগাম বাজারে আসা।

দর্জিবাড়িতে আসা ইঞ্জিনিয়ার মোমেন জানান, প্রতিটি কালেকশানই এক্সক্লুসিভ। তবে সুতির কালেকশান এবার বেশি। ছোটদের পোশাকের দাম সবসময় একটু বেশী।

ফ্যান্সী বাহারের আরিফ হোসেন জানান, গরমে দিনের বেলায় ক্রেতা কম আসছে, গত শুক্র ও শনিবার ভাল বিক্রি হয়েছে। রেডিমেট পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

সিলো টেইলর এন্ড ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল হক জানান, ১৫ রোজা পর্যন্ত তেমন বিক্রি ছিল না। চাঁদ রাত পর্যন্ত ভাল বিক্রি না হলে লোকসান গুনতে হবে।

সোহরাওয়ার্দী মার্কেটের সুইটি ফ্যাশানের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, এবার তীব্র গরমে টিস্যু কাপড় এবং সুইচ কটনের পোশাকের বিক্রি বেশি।

তবে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, খুলনা থেকে রেল ও বাসে যাতায়াত সহজ হওয়ায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার যাত্রী কলকাতায় যাচ্ছেন। যার ফলে অনেকে বিদেশ ঘোরা এবং কেনাকাটা দুই কাজই সেরে আসছেন।

বন্ধন এক্সপ্রেসে করে কলকাতা থেকে খুলনায় পৌছে আইরীন পারভীন নামে এক যাত্রী বলেন, এনিয়ে দু’বছর কলকাতায় কেনাকাটা করছি। আমাদের মার্কেটগুলোতে তিন ভাগের এক ভাগ দামে কলকাতায় ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। এভাবে একটু বিদেশ ঘোরাও হয়, আবার কেনাকাটাও হয়।

এদিকে কলকাতা থেকে ঘুরে আসা সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ বলেন, কলকাতায় এখন শপিংয়ে মজা নেই। আমাদের দেশ থেকে বেশিরভাগ ক্রেতা কলকাতায় কেনাকাটা করায় সেখানকার দোকানীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিউ মার্কেটের জামদানি হাউজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম বলেন, গত তিন বছর যাবত খুলনার বেচাকেনায় আগের মত মজা নেই। ঈদকে কেন্দ্র করে কলকাতার ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হচ্ছে। আর আমরা লোকসানের মুখে আছি।

খুলনা নিউ মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গাফফার বিশ্বাস বলেন, ব্যবসায়ীরা ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাক এনে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বিক্রি নেই। ঈদ বাজার এভাবে কলকাতামুখী হওয়ায় ব্যবাসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন।


আরো সংবাদ

তরুণীসহ গ্রেফতার ২০, বিপুল মাদক ও টাকা জব্দ ইরানের ন্যাশনাল ব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আশা করি খেলাঘরের আন্দোলন সফলভাবে এগিয়ে যাবে : ড. আনিসুজ্জামান ধানমন্ডি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান বশেমুরবিপ্রবিতে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন চলছে চট্টগ্রামে অভিযানে ক্লাব বন্ধ : গ্রেফতার ২ ক্যাসিনো-মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ নৌকার প্রতীকে এমপি হতে চেয়েছিলেন জি কে শামীম বিএনপিই ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছিল : কাদের ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে আলোচিত র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার মাসাকাদজাকে জয় উপহার দিলো বিদায়ী ম্যাচ

সকল