২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন ৭ দিনের জন্য স্থগিত

রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি দাবি মানার আশ্বাসের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, বিজেএমসি ও শ্রমিকদের মধ্যে নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের আন্দোলন নিয়ে বৈঠক হয়। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শেষে পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন টানা ১৫ দিনের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা আলোচনার পর শ্রমিকরা ঘোষণা দেন, চলতি সপ্তাহে দুটি বকেয়া এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বকেয়া প্রদানের পাশাপাশি বুধবার বন্ধ মিলগুলোতে জরুরিভাবে কর্মরত শ্রমিকদের হাতে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করে পে স্লিপ প্রদান করার শর্তে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

৩ শর্ত মেনে নেয়ার একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেন খুলনা জেলা প্রশাসক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন, খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনিচুর রহমান, উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন, পাটকল শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দীন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, বিজেএমসি খুলনা অঞ্চলের লিয়াজো কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, পাটকলের প্রকল্প প্রধানদের মধ্যে বনিজ উদ্দীন মিয়া, মঈনুল করিম, শফিকুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন, খলিলুর রহমান, মোস্তফা কামাল, শাওন মাহমুদ, ড. জুলফিককর, শ্রমিক নেতাদের মধ্যে পাটকল শ্রমিক লীগ নেতা মোঃ মুরাদ হোসেন, মোঃ সোহরাব হোসেন, হেমায়েত উদ্দীন আজাদী, সাহানা শারমিন, হুমায়ুন কবির, সাইফুল ইসলাম লিটু, আঃ হামিদ সরদার, বেল্লাল মল্লিক, আঃ মান্নান, আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ, শেখ মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ খলিলুর রহমান।

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) গত পনের দিনে খুলনা অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য। যার বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। খুলনা অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে গত ১২ সপ্তাহের শুধুমাত্র শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া পড়েছে ৪২ কোটি টাকা।

এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বেতনের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে শুধুমাত্র মজুরি ও বেতন বাবদ। পক্ষান্তরে ৯ মিলে উৎপাদিত পণ্য মজুদ রয়েছে তিনশ’ কোটি টাকারও বেশি।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে বিকাল থেকে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলে কর্মবিরতি শুরু হয়। এরপর ১৩ মে থেকে সারাদেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে এ কর্মবিরতি ছড়িয়ে পড়ে।


আরো সংবাদ