১৬ জুন ২০১৯

নড়াইলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবেন মাশরাফি

বোরো ধানের দাম কম পেয়ে সারাদেশের কৃষকেরা যখন হতাশ, সেই মুহুর্তে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় ক্রিকেট দলে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা বলেছেন।

রোববার (১৯ মে) জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার সঙ্গে ফোনে কথা বলে ধান কেনার ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দেন মাশরাফি। সরকারিভাবে ধান কেনার ক্ষেত্রে কৃষকেরা যাতে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এমপি মাশরাফির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) জামিল আহমেদ সানি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি (জামিল) বলেন, এমপি মহোদয় (মাশরাফি) কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা বলেছেন। কোনো সিন্ডিকেট বা মধ্যসত্ত্বভোগীর কাছ থেকে ধান কেনা যাবে না। এ ধরণের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি (এমপি) জানিয়েছেন।

এদিকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং কৃষকরা মাশরাফিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা যায়, ত্রিদেশীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ের পর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা গত শনিবার (১৮ মে) রাতে দেশে ফিরেন। পরে কৃষকদের দুরাবস্থার কথা মাশরাফি জানতে পেরে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা নড়াইলের জেলা প্রশাসককে জানিয়ে দেন। এতে মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম কমবে বলে মনে করছেন কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। কৃষকেরা সরকারি মূল্যে এক মণ ধান ১০৪০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। তবে বর্তমানে নড়াইলের হাটবাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উঠছে না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে নড়াইলের তিন উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৫৯ মেট্রিক টন ধান এবং ৩ হাজার ৯০৮ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ৬৬২ মেট্রিক টন ধান এবং ১ হাজার ৭০৪ মেট্রিক টন চাল, লোহাগড়া উপজেলায় ২৬৪ মেট্রিক টন ধান এবং ৯৪৪ মেট্রিক টন চাল এবং কালিয়া উপজেলায় ৫৩৩ মেট্রিক টন ধান এবং ১ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৫ এপ্রিল থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। খাদ্য বিভাগের তালিকাভূক্ত ৫২ জন মিল মালিকের কাছ থেকে গত ৯ মে থেকে প্রতিকেজি ৩৬ টাকা দরে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কৃষকদের তালিকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধান ক্রয় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনোতোষ কুমার মজুমদার।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা মাশরাফি বিন মর্তুজার ফোনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য যেন পান, সেদিকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।


আরো সংবাদ