১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

জিনের বাদশার ফাঁদ

জিনের বাদশার প্রতারণার ফাঁদ - ছবি : সংগৃহীত

আধ্যাত্মিক উপায় ভাগ্য বদলের প্রলোভন ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এক ভণ্ড পীরকে (জিনের বাদশা দাবিদার) আটক করেছে মংলা থানা পুলিশ। প্রতারক ফকির ফজলে রাব্বিকে (২৫) বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মংলার দিগরাজ বালুর মাঠ এলাকার বাসিন্দ মৃত নুরুল আাফসারের পুত্র দশম শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত হোসেনের সঙ্গে প্রায় এক মাস আগে ফজলে রাব্বির পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তন্ত্রমন্ত্রসহ অধ্যাতিক উপায়ে অর্থ উপর্জনের ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে। সর্বশেষ ওই স্কুল ছাত্র ও তার পরিবারের কাছে আরো তিন লাখ টাকা দাবি করে ভণ্ডপীর। আর এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় মোবাইল ফোনে তাকে (আরাফাত হোসেনকে) হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় মোবাইল শনাক্ত করে বুধবার রাতে বাগেরহাটের কাশিমপুর এলাকা থেকে পুলিশ ওই ওই প্রতারককে একটি খেলনা পিস্তলসহ আটক করে। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্র আরফাতের মা মোসাঃ রাহেলা আক্তার মংলা থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, কথিত জিনের বাদশার তৎপরতা ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ অতীষ্ট হয়ে উঠেছে। গভীর রাতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে জিনের বাদশা চক্রের সদস্যরা চাঁদা দাবি করে আসছে।

বিধবাকে মাথার চুল কেটে নির্যাতন!
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
বিধবার মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত উত্তম চৌধুরী। - ছবি: নয়া দিগন্ত
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক বিধবা নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়া ও পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

থানায় দায়ের করা ভুক্তভোগীর মামলা সূত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আফজাল হোসেন জানান, গত দেড়যুগ আগে উপজেলার রতপুর ইউনিয়নের রতপুর গ্রামের কানন চৌধুরীর স্বামী মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা শ্বাশুরী ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছিল কানন।


দেড় বছর আগে তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি মেয়ে বিথী রানীকে মাদারীপুর সদর থানার পূর্ব রাজদী গ্রামের ননী গোপাল দাসের ছেলে মিন্টু দাস এর সাথে বিয়ে দেন তিনি। মেয়ে বিথীর স্বাভাবিক জ্ঞান বুদ্ধি না থাকায় মেয়ে ও মেয়ে জামাতা কানন তার নিজের বাড়িতে রেখে সেখানে তার নিজের সম্পত্তিতে বসত ঘর নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটেন। মেয়ে জামাতাকে ঘরজামাই রাখতে ও গাছ কাটতে বাঁধা দেয় একই বাড়ির লোকজন। তারা বিথী ও বিথীর জামাতা ঝন্টুকে ওই বাড়িতে থাকতে দেবে না বলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধুমকি দিয়ে আসছিল।

বাড়ির লোকজনের বিরোধিতার পরেও মেয়ে বিথী ও মেয়ে জামাতা ঝন্টুকে বাড়িতে রাখায় ওই বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিধবার বিরুদ্ধে অপমানজনক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর খুব সকালে বিধবার বসত ঘরে প্রবেশ করে তার উপর মধ্যযুগীয় হামলা চালায়। মেয়ে জামাতা মিন্টু তার শাশুড়িকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাথারি মারধর করে জখম করে তারা।

এসময় বিধবাকে জোর করে আটকে তার মাথার চুল কেটে দিয়ে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে হামলাকারীরা। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী বিধবা কানন চৌধুরী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় নির্যাতনকারী একই বাড়ির মৃত রাজ্যেশ্বর চৌধুরীর ছেলে উত্তম চৌধুরী (৪৫) কে মঙ্গলবার রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জামাল হোসেন নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতকে বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 


আরো সংবাদ