১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমার নিয়ে সুন্দরবনের নদীতে পাঁচ কচ্ছপ

সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করার আগে স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমার যুক্ত বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ - নয়া দিগন্ত

পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমার নিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে বয়ে চলা নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিলুপ্ত প্রজাতির বাটাগুর বাসকা প্রজাতির পাঁচ কচ্ছপ। স্বপ্রজাতির সন্ধানে দ্বিতীয় দফায় অবমুক্ত করা হয়েছে এই কচ্ছপগুলোকে।

মঙ্গলবার অবমুক্ত করার পর পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে নিয়মিত স্যাটেলাইট সিগনাল মিলছে তাদের। প্রায় এক বছর আগে প্রথম দফায় স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমারসহ অবমুক্ত করা দুটি কচ্ছপের একটি জেলেদের জালে ধরা পড়লেও অপরটির কোনো হদিস মেলেনি ।

তবে দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাশিত সফলতা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রায় এক মাস ধরে সুন্দরবনের করমজল প্রজনন কেন্দ্রে স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমারযুক্ত কচ্ছপগুলোকে পর্যবেক্ষন শেষে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় করমজল কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রে এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অষ্ট্রিয়া জুভিয়েনা চিড়িয়াখানার পরিচালক বিজ্ঞানী ডা. টনি পিটার, গবেষক ডা. রুপালী বিশ্বাস, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক আমীর হোসেন চৌধুরী, পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদারসহ বনবিভাগের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনের করমজল বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ আব্দুর রব জানান, সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের বেকনর নদীর কালির চর এলাকায় পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমার সংযুক্ত ৫টি কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়। অবশ্য অবমুক্ত করা এ কচ্ছপের পিঠে এবার কোন টাওয়ার নেই। যুক্ত করা হয়েছে ২৫০ গ্রাম ওজনের স্যাটেলাইট ট্রান্সফরমার। প্রত্যেকটি কচ্ছপের ওজন ১০ থেকে ১২ কেজি ও বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ।

অবমুক্ত করার পর কচ্ছপগুলো ট্রান্সফরমার পিঠে নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্র মোহনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের বিচরণ-আবাসস্থলসহ পারিপার্শ্বিক সচিত্র তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত প্রায় ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণ ও প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তারের জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ গবেষণার এই প্রজাতির কচ্ছপের স্বভাব, খাদ্য সংগ্রহ, বিচরণ, পরিবেশসহ বঙ্গোপসাগেরর গভীর না অগভীর পানিতে থাকতে পছন্দ করে সে সব বিষয়েও জানা সম্ভব হবে।

এছাড়া এই কচ্ছপগুলো বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ অংশ ছেড়ে ভারত ও শ্রীলংকাসহ অন্যদেশের সমুদ্রসীমায় যায় কিনা সেটাও জানা যাবে।

এখন থেকে আগামী এক বছর কচ্ছপগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পর্যলোচনা ও গবেষণা শেষে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কচ্ছপ আরও অবমুক্ত করা হবে।

এ লক্ষ্যে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন এলাকায় ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয় ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র। এ কেন্দ্র থেকে কচ্ছপের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর সেগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হলে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে অবমুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

এর মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় এই কচ্ছপ প্রজাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বে বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন এলাকায় ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির কচ্ছপ সংখ্যা মাত্র ১০০ টি। চলমান গবেষনা এই প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষন ও বংশবৃদ্ধিতে বিরাট ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ট্রান্সফরমার সংযুক্ত কচ্ছোপগুলোর প্রেরিত তথ্য, ছবি ও অবস্থান স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে পাওয়া যাবে।

আর এর মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ প্রজাতির জীবনাচরণ নিয়ে করা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।


আরো সংবাদ