২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭ বৈশাখ ১৪৩১, ১০ শাওয়াল ১৪৪৫
`

চৌগাছায় জামায়াত বিএনপির ৪৬ নেতা কর্মীর নামে মামলা : আটক ২

-

যশোরের চৌগাছা উপজেলার বিএনপি জামায়াতের ৪৬ নেতাকর্মীর নামে আবারো নাশকতার মামলা দিয়েছে পুলিশ। আসামীদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নানকে আটক করেকারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, চৌগাছা থানার এসআই জামাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পাতিবিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ও পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও চৌগাছা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও সিংহঝুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ধুলিয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক
নজিবর রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম ভোদড়, জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ লতা, একই ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা রওশন জামিল, পাতিবিলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা মিজানুর রহমান,
স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হবিবর রহমান মেম্বর। আরো যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন বিএনপি নেতা নিয়ামতপুর গ্রামের মজনু মেম্বর, চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম, চৌগাছা বিশ্বাস পাড়ার হিরা বিশ্বাস, যাত্রাপুর গ্রামের ফারুক হোসেন, তাহেরপুর গ্রামের আব্দুল
মজিদ, পুড়াপাড়া বাজারের মিলন, সৈয়দপুর গ্রামের আলাউদ্দিন, বাদেখানপুর গ্রামের মজনুর রহমান, হাজরাখানা গ্রামের মিজানুর রহমান, হোগলডাঙ্গা গ্রামের আলী আহম্মদ, আড়কান্দি গ্রামের মহিদুল ইসলাম, আড়পাড়া গ্রামের আব্দুল মমিন, ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মেম্বর, আজমতপুর গ্রামের শামনুর মাস্টার ও ভদু, শাহাজাদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক, খড়িঞ্চা গ্রামের শফি উদ্দিন, মমিনুর রহমান, আব্দুল ওহাব ঝন্টু, স্বরূপদাহ গ্রামের বাবু মেম্বর, আন্দারকোটা গ্রামের মন্টু মিয়া, বহিলাপোতা গ্রামের শফি উদ্দিন, মাধবপুর গ্রামের আমিনুর ডাক্তার, স্বর্পরাজপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ ও চৌগাছা গ্রামের আব্দুল হালিম। জাময়াত নেতাদের মধ্যে আরো যারা আসামী হয়েছেন তারা হলেন খড়িঞ্চা গ্রামের সাবেক মেম্বর আব্দুল মজিদ, গুয়াতলী গ্রামের সবুর উদ্দিন ও ফজর আলী এবং নিয়ামতপুর গ্রামের ডাক্তার নাসির উদ্দিন। আসামীদের মধ্যে যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে বুধবার পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠালে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
মামলার বাদী এসআই জামাল হোসেন এজহারে উল্লেখ করেছেন এ সমস্ত আসামীরা ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা দাখিল মাদ্রাসার মাঠে সমাবেশ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিল। এসময় অর্তকিত পুলিশ এসে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ বৈদ্যুতিক আলোর সাহায্যে সকল আসামীদের চিনে ফেলে।
পুলিশ এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর লেখা ৪ টি জিহাদী বই , ৫৫ টি সরকার বিরোধী লিফলেট, ২ টি কালো টেপ দিয়ে জড়ানো বোমা, টিনের কৌটা, ৩৭টি জালের কাঠি ও কিছু গোড়া পাটের সুতালী উদ্ধারের দাবী করেছে। মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলী দফাদার, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ জানান মামলাটি শতভাগ মিথ্যা। তারা আরো বলেন অন্তত দশ বছরের মধ্যে তারা খড়িঞ্চা দাখিল মাদ্রাসায় কোন মিটিং করেননি। তারা আরো বলেন আমরা তো একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্ততি নিচ্ছি তাহলে কেন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবো? পুলিশের উর্বর মস্তিস্ক এ মামলা তৈরী করেছে।
এদিকে মামলার এজেহার কপিতে পুলিশ খড়িঞ্চা গ্রামের শ্রী রণজিৎ হালদার, মো: রহিম ও সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের বিএম আইন আলীকে সাক্ষী করেছেন। এসব সাক্ষীদের সাথে আসামীরা ও এলাকার মানুষ কথা বললে তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন আমরা কিভাবে সাক্ষী হলাম জানিনা। আমরা এ ধরনের কোন ঘটনা সর্ম্পকে কিছুই জানিনা।
পুলিশ কেন আমাদেরকে এর সাথে জড়িয়েছে তাও আমরা জানিনা। এদিকে মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবী করে তা প্রত্যাহরের দাবী জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক যশোর জেলা আমীর মাওলানা আজীজুর রহমান, সাবেক এমপি মুহাদ্দিস আবু সাঈদ শাহাদৎ হুসাইন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হুদা , সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, জামায়াতের জেলা (পশ্চিম) আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারী অধ্যাপক নাজির হুসাইন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। তারা এধরনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ



premium cement