২১ জুলাই ২০১৯

পিতার স্বীকৃতি চাওয়ায়...

প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুর পল্লীতে পিতার স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ১৮বছরের যুবক সুমন হোসেন। সমাজপতিরা তার স্বীকৃতি আদায় করার কথা বলে থানার অভিযোগ নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামে। কিন্তু ........ যা হবার তাই। বিক্রি হচ্ছেন নেতারা। এসমাজে সুমন কি পাবে না তার পিতার পরিচয়?

মহেশপুরের বলিভদ্রপুর গ্রামের রাহাতন খাতুন গরীব অসহায় মহিলা করতেন পরের বাড়ী ঝি এর কাজ। ১৮ বছর আগে এনজিওর মাধ্যমে মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় লাগানো হয়েছিল তুত গাছ নামক একটি রেশম গাছ। সে সময় গ্রামের মহিলাদেরকে রাস্তায় পাহারাদার হিসাবে রাখা হতো।

মহেশপুরের বলিভদ্রপুর গ্রামের রাস্তায় তুত গাছ লাগিয়ে এনজির কর্মকর্তারা রাহাতন খাতুনকে পাহারাদার নিয়োগ করেন। তিনি প্রতিদিন খুব ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত রাস্তা পাহারা দিতেন। এ অবস্থায় গ্রামের সমাজপতি লিয়াকতের কু নজরে পড়ে রাহাতন । তাকে বিয়ে করবে বলে একাধীক বার শাররিক সম্পর্ক গড়ে তোলে । এর মধ্যে রাহাতনের পেটে সন্তান চলে আসে।তিনি বার বার লিয়াকত কে বিয়ের কথা বললে তিনি আর রাজি হয়নি। এ নিয়ে অনেক দেনদরবার হওয়ার পর সে সময় লিয়াকত পার পেলেও রাহাতন একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তিনি বিয়ে বন্ধনে আর আবদ্ধ হননি। ছেলে কে মানুষ করতে থাকেন।

সুমন হোসেন জানান, আমার ৬/৭ বছর বয়স হলে গ্রামের সবাই আমাকে জারজ সন্তান বলে থাকে। লিয়াকতের অবৈধ্য সন্তান বলে টিটকারী মারে। তখন আমি আমার মায়ের কাছে পিতার পরিচয় জানতে চাই। তিনি আমাকে লিয়াকতের কথা বলেন যে লিয়াকত তোমার জন্মদাতা পিতা আমার স্কুলে ও অনেক জায়গায় লিয়াকতের নাম ব্যবহার করি। সুমন বলে আমার তো কোন দোষ নেই তিনি আমার মায়ের সাথে সম্পর্ক করে বিয়ের নাম করে মেলামেশা করতেন। মা বলেছে লিয়াকত তোমার পিতা। আমার এখন পিতার পরিচয় পাওয়ার প্রয়োজন। তাই আমি ১৮ বছর বয়সে এসে পিতার দাবি নিয়ে থানায় ওসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগটি ওসি আমলে নিয়ে এস আই বজলুর রহমানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে।

মহেশপুর থানার এস আই বজলুর রহমান জানান, সুমন নামের একটি ছেলে ঝিনাইদহের আব্দুস সামাদ নামের এক সংবাদকর্মীকে সাথে নিয়ে অফিসার ইনচার্জকে একটি দরখাস্ত তুলে দেন । পরে তিনি আমাকে তদন্ত কারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করলে আমি সেখানে যায়। পরবর্তিতে সুমনকে সাথে করে সামাদ সাহেব, অসীম, মেহেদী, তবিবর, হাসান ও আকিদুল আবার ওসির সাথে স্বাক্ষাত করে চলে যান। আমাকে বলা হয় ১ সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গ্রামে মিমাংসা করা হবে। সেটা গত শুক্রবার শেষ হয়েছে। তবে এখনও মিমাংসা হয়নি বলে আমি শুনেছি। তিনি এ বিষয়ে আর তদন্ত করেনি বলে জানান। ভুক্ত ভোগী সুমন হোসেন জানান আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা এনেছিলেন গ্রামের এক নেতা আমি টাকা নিতে রাজী হয়নি। তিনি জানান আমার পিতার পরিচয়ের মূল্য ৩০ হাজার টাকা বলে বিচারক রা মনে করছেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন আমি আর বিচার চাই না । ঢাকায় চলে যাবো। এ বিষয়ে বিচারক মেহেদী এর কাছে ৩০ হাজার টাকা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে জানান আমার কাছে কোন টাকা নেই। তবে আমরা আবার মিমংসায় বসবো।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi