১৫ নভেম্বর ২০১৮

বেনাপোল স্থলবন্দরে আনছার প্লাটুন কমান্ডারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

-

বেনাপোল স্থলবন্দরে নিয়োজিত আনছার প্লাটুন কমান্ডারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দর্নীতি ও চাদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে উক্ত কর্মকর্তার পদ ঠিক রাখার জন্য উপরি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য নিয়মিত মাদক সরবরাহ ও মাসহারা প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে প্রকাশ, বেনাপোল স্থল বন্দরে নিয়োজিত আনছার সদস্যদের পিসি (প্লাটুন কমান্ডার) এর অধীনে ১৪৯ জন আনছার সদস্য নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছে। প্লাটুন কমান্ডার বদিউজ্জামান এর নির্দেশে স্থল বন্দরে পণ্য চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিরাপত্তা প্রহরীরা কর্তব্যরত অবস্থায় সেড থেকে পণ্য চুরির সাথে জড়িতদের পক্ষ নিয়ে প্রতিনিয়ত চোরাই পণ্য পাচার করছে। চুরির সাথে জড়িতরা নির্ধারিত কয়েকটি গেট দিয়ে চোরাই পণ্য পাচার করছে। কিছু আনছার সদস্য ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় বদলী ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। প্লাটুন কমান্ডার নিজ দায়িত্বে বিভিন্ন শেড থেকে পন্য চুরির কাজে সহযোগীতা করে থাকেন। এছাড়া প্লাটুন কমান্ডার আমদানি রপ্তানিকৃত পন্যবাহী ট্রাক বন্দর থেকে বাহির হওয়ার সময় প্রতি গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে বাধ্যতামূলক পন্যবাহী ট্রাক থেকে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা হারে আদায় করছে। যা সম্পূর্ণ আইনের বহির্ভূত।

প্রতি গেটে ডিউটি নেওয়ার জন্য প্লাটুন কমান্ডারকে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়। ৮ ঘন্টা ডিউটি করার কথা থাকলেও ১২ ঘন্টা ডিউটি করে থাকে আনছার সদস্যরা। কারন ১৪৯ জন আনছার সদস্যর পরিবর্তে ১০০ জন আনছার নিয়মিত ডিউটি করে থাকেন। ঘাটতি আনছার সদস্যদের ডিউটি মেকআপ করার জন্য অতিরিক্ত ৪ ঘন্টা ডিউটি করিয়ে নিচ্ছেন প্লাটুন কমান্ডার। দুর্নীতিবাজ প্লাটুন কমান্ডার প্রতিদিন মদ্যপ অবস্থায় থাকেন। কোথায় কি ঘটছে কোন কিছুই খবর রাখেন না তিনি।

কোন আনছার সদস্য সাপ্তাহিক ছুটি নিতে হলে প্লাটুন কমান্ডার বদিউজ্জামানকে নির্ধারিত হারে ১নং গেইট থেকে ৩নং গেট পর্যন্ত দিতে হয় ২৫০ টাকা। ৪ নং ও ৫ নং গেইট থেকে দিতে হয় ৫০০ টাকা। ৬ নং গেইট থেকে দিতে হয় ৩০০ টাকা। ভারতীয় গেইট (৭নং) ৪০০ টাকা। ৮ নং গেইট ৩০০ টাকা, ১০ নং থেকে মাসিক ৫ হাজার টাকা, ১১ নং গেট থেকে মাসিক ৭ হাজার টাকা, ১৬ নং গেট থেকে সাপ্তাহিক ২ হাজার টাকা, ১৫ নং গেট থেকে সাপ্তাহিক ৩ হাজার টাকা ও ১৭ নং গেট থেকে সাপ্তাহিক ১ হাজার টাকা হারে আদায় করে থাকেন প্লাটুন কমান্ডর বদিউজ্জামান।

একাধিক কর্তব্যরত আনছার সদস্যরা অভিযোগ করে বলেছেন প্লাটুন কমান্ডর আমাদের কে সাপ্তাহিক ও মাসিক চাঁদা দিতে বাধ্য করে থাকেন। সেজন্য আমরা নিরুপায় হয়ে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করি নির্ধারিত হারে। তাছাড়া আনছার সদস্যদের ১২ ঘন্টা ডিউটি করে নেওয়া হয়। তাদেরকে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি তা দেন না। কোন আনছার সদস্য তার প্রাপ্য ছুটি নিতে চাইলে তাকে ৪ হাজার টাকা গুনতে হয়। প্রতি মাসে ১৫ জন আনছার সদস্যদের প্রাপ্য ছুটি দেওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য প্রতি মাসে ছুটি দিচ্ছেন অর্ধশত আনছার সদস্যদের।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্লাটুন কমান্ডর বদিউজ্জামানকে কতিপায় আনছার সদস্য মাহাবুব, মোস্তাফিজুর রহমান, মাছুম, আশরাফুল, শরিফুল, শাহাজান ও তৌহিদুল চাকুরী হারানোর ভয়ে প্রত্যেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ছুটিতে রয়েছে। ১০ দিনের ছুটি নিতে হলে প্লটুন কমান্ডরকে ১৫ শত টাকা দিতে হয়।

এব্যাপারে প্লাটুন কমান্ডর বদিউজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপরি মহলকে ম্যানেজ করে আমাকে চলতে হয়। তাছাড়া উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা শ্যামা স্যারকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। জেলা অফিসে এলডি মামুন সাহেকেও খুশী করতে হয়।

এব্যাপারে জেলা কমান্ডিং অফিসার মাকসুদ রসুল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, আনছার ব্যাটেলিয়ান একটি শক্তিশালী সুশৃঙ্খল বাহিনী। তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরো সংবাদ