১৪ নভেম্বর ২০১৮

এবার ট্রাকের চাকায় পিষ্ট বিপণন কর্মকর্তা

প্রতীকী ছবি। - সংগৃহীত

পেট্রোল পাম্পের জ্বালানী পণ্যবাহি ট্রাকের ধাক্কায় মোশরাফ হোসেন (৪০) নামে এক মোটর সাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের সংগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যায়। নিহত মোশরাফ হোসেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী গ্রামের শেখ আবু ইউসুফের ছেলে ও তিব্বত কোম্পানীর সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ রিপ্রেজেনটেটিভ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান মোশাররফ হোসেন পেশাগত কাজে বুধবার ১০টার দিকে মোটর সাইকেলে নিয়ে বাসা হতে সদর হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি সংগ্রাম মেডিকেলের সামনে পৌঁছালে মজুমদার ফিলিং স্টেশনের একটি জ্বালানী পণ্যবাহি ট্রাকের তার মোটর সাইকেলের পিছন দিকে ধাক্কা মারে। এতে তিনি রাস্তার উপর পড়ে গেলে ওই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘাতক ট্রাকটি আটক করা যায়নি। নিহত মোশাররফ হোসেন তিববত কোম্পানীতে চাকুরি করেন বলে তিনি জানান।

 

আরো দেখুন: বান্ধবীকে বাড়ি পৌঁছাতে গিয়ে ট্রাকে পিষ্ট ছাত্রী

কুমিল্লার চান্দিনায় ট্রাক চাপায় আকলিমা আক্তার(১৬) নামে এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও এক ছাত্রী।  মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোমতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আকলিমা মুরাদনগর উপজেলাধীন বাবুটিপাড়া গ্রামের কৃষক আবিদ মিয়ার একমাত্র মেয়ে। সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন গোমতা এলাকার গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। আহত তামান্না একই গ্রামের মনির হোসেন এর মেয়ে। তারা একই সাথে লেখাপড়া করতো।


এদিকে এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রায় দেড় ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে অন্তত ১১টি ট্রাক ভাংচুর করে। বেলা ৩টায় হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল হান্নান সরকার জানান, ক্লাস চলাকালিন সময়ে দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তামান্না অসুস্থ হয়ে পড়ে। টিফিনের বিরতির সময় অসুস্থ তামান্না ছুটি চেয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি লিখিত দরখাস্ত দিলে প্রধান শিক্ষক তার ছুটি মঞ্জুর করে বাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন। তামান্না একা বাড়ি যেতে পারবে না বিধায় তার সহপাঠি একই গ্রামের আকলিমাকেও ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠান।

তারা মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে বাড়ি ফেরার সময় পিছন থেকে বালুবাহী ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলেই আকলিমা নিহত হয়। এতে আহত হয় তামান্নাও। তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের বোন (নিহত আকলিমা ও আহত তামান্না) মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলো, কিন্তু ট্রাক চালকের বেপরোয়া গতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (ইন্সপেক্টর) মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপর ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ