১৯ জুন ২০১৮

নড়াইলে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ১৩ দিন পর প্রেমিকসহ আটজনের নামে হত্যা মামলা

-

নড়াইলের জামরিলডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ১৩ দিন পর কালিয়া থানায় আটজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে স্কুলছাত্রী রোজিনা খানমের মা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ আরো ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা দায়ের করেন। রোজিনা কালিয়া উপজেলার জামরিলডাঙ্গা জেএমপি আলতাফ মোল্যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো। গত ২৯ মে ময়নাতদন্ত শেষে রোজিনাকে দাফন করা হয়।
রোজিনার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালিয়ার জামরিলডাঙ্গা গ্রামের আকিবুর মল্লিকের মেয়ে স্কুলশিক্ষার্থী রোজিনাকে প্রায়ই উত্যক্ত করত পাশের কদমতলা গ্রামে হেবজুল্লাহ বিশ্বাসের ছেলে আজিমুল বিশ্বাস (১৮)। স্কুলে যাতায়াতের পথে এবং সুযোগ বুঝে রোজিনাদের বাড়িতে গিয়েও উত্যক্ত করত আজিমুল। এক পর্যায়ে গত ২৭ মে রাতে রোজিনার ঘরে প্রবেশ করে আজিমুল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আগে আজিমুল রোজিনাকে নিয়ে ২৮ মে সন্ধ্যায় তাদের (আজিমুল) বাড়িতে যায়।
পরের দিন সকালে জামরিলডাঙ্গা গ্রামের একটি বাগানে গাছের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় রোজিনার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে রোজিনার মা তাহমিনা বেগম বলেন, ২৮ মে গভীর রাতে আসামিরা আমার মেয়েকে (রোজিনা) আজিমুলদের ঘর থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রোজিনাকে মারাত্মক মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এরপর আজিমুলসহ অন্যরা রোজিনার ব্যবহৃত ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তাকে গাছের ঝুঁলিয়ে রাখে। এ ঘটনায় আজিমুলসহ তার বাবা হেবজুুল্লাহ বিশ্বাস (৪৯), মা হিনা বেগম (৪০), হাফিজ শেখ (৫২), আব্দুল্লাহ বিশ্বাস (৩৬), ফসিয়ার বিশ্বাস (২৬), হাদিস শেখ (২৫) ও মামুন বিশ্বাস (৩০) নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের সবার বাড়ি কালিয়ার কদমতলা গ্রামে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাহমিনা বেগম।
এদিকে এ মামলার আসামিসহ তাদের স্বজনেরা বলেন, রোজিনার মৃত্যু জন্য আমরা দায়ী নই। আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হচ্ছে। আজিমুল সঙ্গে রোজিনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজিমুল তাকে (রোজিনা) উত্যক্ত করত না। এ হত্যা মামলার সঠিক তদন্তের দাবি জানান তারা। এছাড়া বিভিন্ন পেশার মানুষকে এ মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ কারণে রোজিনার মৃত্যুর পর জামরিলডাঙ্গা ও কদমতলা গ্রামের অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রোযার সময় সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে তাদের।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইকরাম হোসেন জানান, রোজিনার মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত রিপোর্টের সূত্র ধরে এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরো সংবাদ