১৭ অক্টোবর ২০১৯

পরামর্শভিত্তিক কাজে আল্লাহ খুশি থাকেন

-

যেকোনো একটি ভালো কাজ শুরু করার আগে পরামর্শ করে নিলে, ওই কাজের সাফল্য নিশ্চিত। কারণ পারস্পরিক পরামর্শ কাজের গতি বৃদ্ধি করে। আশপাশের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। পরামর্শভিত্তিক কাজ করলে ভুলত্রুটি কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরামর্শ করে কাজ করলে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের সব সহকর্মী ও সহযোগী খুশি থাকেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে মুমিনদের পরামর্শ করে কাজ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কাজেকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতঃপর যখন সঙ্কল্প করবে, তখন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন’ (সূরা আলে ইমরান-১৫৯)।
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা পরামর্শভিত্তিক কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাই একে অপরের সাথে পরামর্শ করার অর্থই হলো আল্লাহর নির্দেশ মান্য করা। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করলে সাফল্য আসবেই। এতে কোনোরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই। এককভাবে চিন্তা করে কাজ করলে এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ ছাড়া প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা চিন্তা, মত, পথ ও দর্শন রয়েছে। তাই যেকোনো কাজের শুরুতে পরামর্শ করে নিলে ওই কাজটি আরো বেশি সমৃদ্ধশালী হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘এদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শের ভেতরে কোনো কল্যাণ নিহিত নেই, তবে যদি কেউ কাউকে কোনো দান-খয়রাত, সৎকাজ ও অন্য মানুষের মাঝে সংশোধন আনয়নের আদেশ দেয় তা অন্য কথা; আর আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যদি কেউ এসব কাজ করে তাহলে অতি শিগগিরই আমি তাকে মহাপুরস্কার দেবো’ (সূরা নিসা-১১৪)। ‘আর যারা তাদের প্রভুর ডাকে সাড়া দেয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, যাদের কাজকর্মগুলো পারস্পরিক পরামর্শই হয় তাদের (কর্ম) পন্থা, আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে’(সূরা শুরা-৩৮)।
কাজের শুরুতে কিংবা কাজের ফাঁকে পরামর্শ করে নিলে, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। যেকোনো কাজে পরামর্শ করার মাধ্যমে মুমিনের উদারতা ও বিনয়ের প্রকাশ পায়। পরামর্শ নেয়ার মাধ্যমে অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। কারো সাথে সলাপরামর্শ করলে ওই ব্যক্তি নিজেকে সম্মানিত বোধ করে। ওই কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। অন্য দিকে দাম্ভিক ও অহঙ্কারী ব্যক্তি কখনো অন্যের সাথে পরামর্শ করে না। অন্য কারো মতামতকে মূল্যায়নও করে না। দাম্ভিক ব্যক্তি স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন বিধায় সবাই মন থেকে ঘৃণা করে। এ ছাড়া দাম্ভিক ব্যক্তিকে সমাজের কেউ মন থেকে পছন্দ করে না। আল্লাহ তায়ালাও দাম্ভিক ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক, অহঙ্কারীকে’ (সূরা নিসা-৩৬)।
হাদিস শরিফেও পরামর্শভিত্তিক কাজের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাসূল সা: বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাহাবিদের পরামর্শ করেছেন। হজরত আনাস রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি এস্তেখারা করল, সে কোনো কাজে ব্যর্থ হবে না, যে পরামর্শ করল, সে লজ্জিত হবে না, আর যে মধ্যমপন্থা অবলন্বন করল, সে দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হবে না’ (আল-মুজামুস সগির)। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা: বর্ণনা করেন, ‘রাসূল সা: লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর তিনি বললেন, যারা আমার পরিবারের কুৎসা রটনা করে বেড়াচ্ছে, তাদের সম্পর্কে তোমাদের কাছে আমি পরামর্শ চাচ্ছি। আমি কখনো তাদের কোনোরূপ মন্দ কিছু দেখিনি’ (বুখারি)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেন, ‘যখন তোমরা তিনজন এক সাথে থাকো, তখন একজনকে বাদ দিয়ে দু’জন কোনো সলাপরামর্শ করবে না যে পর্যন্ত না তোমরা অনেক লোকের মধ্যে মিশে যাও। কারণ এভাবে সলাপরামর্শ করাটা তাকে দুঃখ দিতে পারে’ (মুসলিম)। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।
লেখক : প্রবন্ধকার


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa