১৪ নভেম্বর ২০১৮

মায়ের বুকের দুধের গুরুত্ব

-


শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ অপরিহার্য। কারণ মায়ের বুকের দুধে রয়েছে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ ও উপাদান আল্লাহ প্রদত্ত এমন খাবার, যা শিশু সহজেই হজম করতে পারে এবং সহজেই শিশুর দেহ বৃদ্ধিতে সহায়ক। তাই তো আল্লাহ তায়ালা হজরত মূসা আলাইহিস সালামের জন্মের পর তার মাকে নির্দেশ দেন, ‘আমি মূসার মায়ের অন্তরে ইঙ্গিতে নির্দেশ দিলাম, তাকে দুধপান করাও।’ (সূরা কাসাস : ৭) জন্মের পর শিশুর জন্য সর্বোত্তম খাবার হলো মায়ের বুকের দুধ। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবজাতক শিশুর জন্য মায়ের বুকে দুধ সৃষ্টি করে রাখেন। যা হালকা মিষ্টি ও উষ্ণ; নবজাতক শিশুর জন্য বিশেষ উপযোগী। নবজাতক শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘স্তনদানকারী ও গর্ভবতী মহিলা থেকে রমজানের রোজা রাখার বাধ্যকতা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (আবু দউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও মিশকত) মায়ের বুকের দুধ পান করানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বিধান ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা সূরা লোকমানের ১৪ নং আয়াতে বলেন, ‘আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করে। অতঃপর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে। (সূরা বাকারা : ২৩৩)
মায়ের দুধ উত্তম খাদ্য : মায়ের বুকের দুধ পান করলে শিশু মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে বেড়ে উঠবে। ১২টি উন্নয়নশীল দেশে শিশুর মৃত্যুর হার রোধ করার উদ্দেশে ইউনিসেফ একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচির নামকরণ করা হয় ‘মায়ের দুধই সেরা’। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মায়ের দুধ না পাওয়ার কারণে প্রতি বছর ১০ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে। কয়েক মিলিয়ন শিশু মায়ের দুধ না পান করার কারণে ইনফেকশনের শিকার হয় এবং নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যায়। এ কর্মসূচি যেসব দেশে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল সেগুলো হচ্ছে পাকিস্তান, বিলোটিয়, ব্রাজিল, মিসর, ঘানা, আইভরিকোস্ট, কেনিয়া, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও তুরস্ক। এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ শিশুদের দুধ খাওয়ানোর বিজ্ঞানসম্মত সুযোগ বৃদ্ধি করা। জাতিসঙ্ঘের সাহায্যপুষ্ট এবং এ সংস্থার বক্তব্য হচ্ছেÑ হাসপাতালের মায়ের দুধ না পাওয়ার কারণে শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে দুধ সরবরাহ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা উদ্ধৃতি নিয়ে ইউনিসেফ জানিয়েছেÑ যে সব শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে, তারা মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকে। কারণ মায়ের দুধ স্বাভাবিক শিশুদের পুষ্টি এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
বুকের দুধে থাকে মেধাশক্তি : যে সব শিশু মায়ের দুধ পান করে তারা অধিক মেধাবী হয়ে গড়ে ওঠে। তারা নানা প্রকার রোগ থেকে মুক্ত থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করেনি তারা স্কুলের কাসে প্রায়ই চুপচাপ থাকে। তাদের বন্ধুর সংখ্যাও কম। গবেষণা অনুযায়ী মস্তিষ্ক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার শিকার ৭০ ভাগ শিশুর আইকিউ রেকর্ড করা হয়েছে ১১০-এর গাভীর দুধ পানকারী শিশুদের আইকিউ রেকর্ড করা হয়েছে ১০০। একজন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের হিসাব অনুযায়ী, মায়ের দুধের মধ্যে এমন কিছু অংশ থাকে, যা শিশুর মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অথচ গাভীর দুধে এ রকম শক্তি থাকে না।
লেখক : প্রবন্ধকার

 


আরো সংবাদ