১৭ নভেম্বর ২০১৮

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত চিকিৎসা বিজ্ঞানীর অভাবনীয় সাফল্য

মস্তিস্ক রক্তক্ষরণ, আবিস্কার
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লিনিক্যাল সায়েন্টিস্ট ডা. রামিন শাকুর - ছবি : ইন্টারনেট

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত একজন ব্রিটিশ চিকিৎসা বিজ্ঞানী হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত ও বিপজ্জনক স্পন্দন শনাক্ত করার মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর একটি যান্ত্রিক কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। ব্রিটেনের একটি বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল এ খবর জানায়।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লিনিক্যাল সায়েন্টিস্ট ডা. রামিন শাকুর বিশ্বের প্রথম এই হার্ট বিট রিডিং ডিভাইসটি উদ্ভাবন করেছেন। এটি হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক স্পন্দন শনাক্ত করতে সক্ষম এবং ফলে এটি রক্তক্ষরণের প্রভাবও কমাতে পারে।

ক্যামব্রিজ সায়েন্স পার্ক জার্নাল জানায়, এই ডিভাইসটির নির্মাতা কোম্পানি উদ্ভাবনী ও নতুন হার্ট মনিটরিং ডিভাইসের মাধ্যমে সঠিক সময়ে অনিয়মিত ও বিপজ্জনক হার্ট বিট শনাক্ত করার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ পরবর্তী ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে।

কারো ইসিজি করানো প্রয়োজন হলে ‘হল্টার মনিটর’ নামে একটি ডিভাইস ব্যবহার করতে হয়। এতে রোগীর বুকে ১২টি লিড পরাতে হয়, যা ক্ষতিকর।

‘কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত ডিভাইসটি ‘দ্য ক্লাউড’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেই হার্ট বিট কাউন্ট করতে পারে, যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।’ ডা. রামিন শাকুর লন্ডন থেকে ফোনে বাসসকে এ কথা বলেন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের ক্লিনিক্যাল ফেলো ডা. রামিন বলেন, এটি তাৎক্ষণিকভাবে ইসিজি প্রদর্শনের জন্য বিশ্বের একমাত্র ডিভাইস। আর এটি দিনে ১০-১৫ জন লোক ব্যবহার করতে পারবে।

৩৬ বছর বয়সী তরুণ এই চিকিৎসা বিজ্ঞানী এই ডিভাইসটি বাংলাদেশে চালু করতে আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এই ডিভাইসটি চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।

 

আরো পড়ুন: ধূমপান থেকে হৃদরোগ

ডা: কাজী আরিফুর রহমান

১৭ জুন ২০১৫,বুধবার

ধূমপান ও হৃদরোগের মধ্যে জৈবিক যোগসূত্র সম্পর্কিত একটি নতুন অধ্যয়ন প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা রক্ত পরীক্ষা করে এডভানসড গ্লাইকেশন ইন্ডপ্রোডাক্টস (এজিই) নামক রক্তের একটি উপাদান পৃথক করেছেন, যা ধূমপায়ীদের বেড়ে যায়।

আগে গবেষকেরা মনে করতেন যে, নিকোটিন রক্তনালীকে সঙ্কুচিত করে ও প্লাক তৈরি করে রক্ত সঞ্চালন কমায় এবং হৃদরোগ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

তামাক পাতা শুকানোর সময় এজিই তৈরি হয়। এটা চিনি তৈরি করে, যা রক্তে প্রবেশের পর এক প্রকার আণবিক আঠায় পরিণত হয়। যখন একজন ধূমপায়ী ধূমপান করে, চিনিগুলো ফুসফুসে শোষিত হয়, রক্তনালীর গায়ে লেগে যায় এবং ক্রমেই ধমনীগুলোকে অবরোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে এটা স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) বা হৃদরোগ ঘটায়। পিকোভার ইনস্টিটিউটের এনথোনি সিরামি বর্ণনা করেন ‘এটা এক প্রকার আণবিক আঠা হিসেবে কাজ করে, যা মূলত আমিষগুলোকে একত্রে বাঁধে এবং তাদের শক্ত করে ও একটি অন্যতম দিক হলো, যারা ধূমপান করে তাদের ধমনীগুলো শক্ত হয়ে যায়।’

সিরামি ও তার সহকর্মীরা একটি রক্ত পরীক্ষা বের করেছেন, যার মাধ্যমে শরীরে এই কার্যকর চিনির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব।

সিরামি বলেন, ‘আমরা বলতে সক্ষম হবো এক মাসে তারা সম্ভাব্য কী পরিমাণ ধূমপান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তারা কী পরিমাণ ধোঁয়ার প্রভাবাধীন হয়েছেন তার সদাজাগ্রত (মনিটরিং) দৃষ্টি রাখার পন্থা তৈরি হবে।’ পরীক্ষাটি এখনো পরিশোধিত হচ্ছে এবং একদিন চিকিৎসকদের হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে সাহায্য করবে।

সিরামি বলেন, ফলাফলটি কার্যকর চিনিকে সরিয়ে নিরাপদতম সিগারেট তৈরিতে সাহায্য করবে সিগারেট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন যে, এটা একজন ধূমপায়ীর ফুসফুসের ক্যান্সারের আশঙ্কা কমাবে না।

গবেষকেরা ধূমপায়ীদের প্রদর্শন করেননি, তাদের ফলাফল বের হয়েছে বছরঅবধি ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণার পর। বিজ্ঞানীরা জেনেছেন ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে বেশি পরিমাণ কার্যকর চিনি থাকে এবং ধূমপায়ীদের রক্তে একই জিনিস আবিষ্কার করেছেন। একই কারণে তারা বলেন, যেসব ডায়াবেটিক রোগী ধূমপান করেন, বিশেষ করে তারাই হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

১৯৯৫ সালের জরিপ মতে, প্রতি বছর ১,৯১,০০০ আমেরিকান ধূমপানজনিত হৃদরোগে মারা যায়, যা ধূমপানজনিত ফুসফুসে ক্যান্সার থেকে ৪৪% বেশি

 


আরো সংবাদ