২২ জুন ২০১৮

বিশ্বনেতাদের যে ছবি নিয়ে এত আলোচনা

আলোচিত সেই ছবিটি - ছবি : সংগ্রহ

কানাডায় সদ্য শেষ হওয়া জি-সেভেন সম্মেলনের একটি ছবি ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেছন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেন। এরপরই বিশ্বনেতাদের ওই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গম্ভীর হয়ে বসে আছেন। বুকে হাত বাধা তার। সামনে টেবিলের ওপর হাত ভর দিয়ে ঝুঁকে কিছু বলছেন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। চারপাশে দাড়িয়ে আছেন কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ জি-সেভেন সম্মেলনে অংশ নিতে আসা দেশগুলোর কর্মকর্তার।

কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের জি সেভেন সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্য নিয়ে মতৈক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিলো। তবে সম্মেলনটি খুব একটি প্রীতিময় হয়নি। দেশগুলো একটা পর্যায়ে সমঝোতায় পৌছলেও পরদিনই ট্রাম্প আর এ থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। দুইদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি ও কানাডার নেতাদের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্কের পর শনিবার সমঝোতা হয়।

মূলত বাণিজ্য, বিশেষ করে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে কানাডাসহ অনেক দেশের। ওই ছবিটিতেও এমন একটি পরিবেশ বোঝা যাচ্ছে- যেখানে খুব বেশী প্রীতিময় অবস্থান নেই বিশ্ব নেতারা। হয়তো ট্রাম্পকে কোন কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছেন মারকেল, কিন্তু তিনি বুঝতে চাইছেন না। বিবিসি তাদের অনলাইনে ছবিটিতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিত তুলে ধরেছে।

১. ডোনাল্ট ট্রাম্প : ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই প্রধান মার্কিন প্রতিবেশী মিত্র মেক্সিকো ও কানাডা সবেচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে। সম্প্রতি তিনি স্টিলের ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।
২. জল বোল্টন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
মাত্র তিন মাস আগে নিয়োগ পেয়েছেন জন বোল্টন। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রগুলোতে শুল্প আরোপের বড় সমর্থন তিনি।
৩. সনাক্ত করা যায়নি
৪. শিনজো আবে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের শুল্প আরোপের বিষয়ে প্রতিবাদ না করার কারণে অনেক দিন ধরেই চাপে আছেন শিনজো আবে। তিনি ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় দশবার বৈঠক করেছেন দুই নেতা।
৫. ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, জাপানের সহকারী মন্ত্রী পরিষদ সচিব। শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে কাজ করেন তিনি।
৬. অ্যাঞ্জেলা মারকেল
ট্রাম্পকে অন্যান্য দেশগুলোর দাবির বিষয়টি বোঝাতে সবচেয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল। ছবিতেও তেমন একটি ভাব ফুটে উঠেছে।
৭. ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট

আরো পড়ুন :

রাশিয়াকে জি-৭ জোটে ফিরিয়ে আনতে চান ট্রাম্প : ইউরোপ-কানাডা নারাজ
 গত শুক্রবার কানাডার কুইবেক প্রদেশের লা মালবায়ি শহরে শুরু হওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের একপর্যায়ে সম্মিলিত ছবি তুলতে পাশাপাশি দাঁড়ান বিশ্বনেতারা : এএফপি -
কানাডায় জি-৭ বৈঠকের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থানগত পার্থক্য বেশ ফুটে উঠেছে। ট্রাম্প জি-৭ এর সদস্য হিসেবে রাশিয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডাও ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ‘না’ বলে দেয়। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের বিষয়ে হওয়া আলোচনায়ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করে বাকি সদস্যরা। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপ করা শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করার পর জি-৭ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর এখন ট্রাম্প চাইছেন তাকে ফিরিয়ে আনতে। ট্রাম্প বলছিলেন, ‘আপনাদের ভালো লাগুক আর না লাগুক, এমন কি বিষয়টি যদি রাজনৈতিক দিক থেকে ভুল হয়েও থাকে তাহলেও বিশ্ব পরিচালনার স্বার্থে এখন যেটা জি-৭, রাশিয়াকে ফিরিয়ে এনে সেটাকে আবার জি-৮ হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।’ কিন্তু সম্মেলনের সভায় জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল জানিয়ে দেন, ইউক্রেনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হলে জি-৭ জোটে রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতী নন তারা। কানাডাসহ অন্য দেশগুলোও জার্মানির কথায় সমর্থন দেয়।
ট্রাম্প হঠাৎ রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন এ জন্য যে, ট্রাম্প ভালো করেই জানতেন ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়াকে ফেরত আনার বিষয়ে রাজি হবেন না। আর রাশিয়াও জানিয়ে দিয়েছে তারা জি-৭ টাইপের কোনো সংগঠনে যেতে ইচ্ছুক নয়, অন্য কোনো সংগঠনে যেতে আগ্রহী তারা। এরকম পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের রাশিয়াপ্রীতিকে নিছকই দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরানোর চাল হতে পারে। 

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপ করা শুল্কের বিষয়েও সদস্যরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। অন্য দিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শুল্ক, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বিপজ্জনক। তার ভাষ্য, ‘যা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে তা হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়েছে। আর তা সাধারণত যাদের সন্দেহ করা হয় তাদের মাধ্যমে নয় বরং এই ব্যবস্থার মূল আর্কিটেক্ট ও গ্যারান্টার যুক্তরাষ্ট্রের কারণে।’ ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প তাকে বলেছেন, শুল্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল তবে এখন তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে। জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, তারা সবাই একটি সমঝোতাই চাইছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মেলন শেষের দুই দিন আগেই কানাডা ত্যাগ করবেন। ১২ জুন সিঙ্গাপুরে তার উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে এক সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা।

 


আরো সংবাদ