২০ জুলাই ২০১৯

ভয়ঙ্কর জলজ ড্রোন ও নতুন পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়ার জলজ ড্রোন  - এএফপি

পানির নিচে চলাচলে সক্ষম এমন একটি ড্রোনের ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এ ছাড়া রুশ সেনাবাহিনী শিগগিরই অ্যাভাঙ্গার্ড নামের নতুন একটি পরমাণু অস্ত্র পেতে যাচ্ছে বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এসব অস্ত্র রাশিয়াকে যেমন অন্য দেশ থেকে সামরিক দিক দিয়ে এগিয়ে নেবে, ঠিক তেমনি অন্য দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করে দেবে।
রুশ সেনাবাহিনীর প্রদর্শিত একটি ভিডিওচিত্রে বলা হয়, দুই মেগাটন পরমাণুর ওয়ারহেড যুক্ত এ ড্রোন পশ্চিমা দেশগুলোর বন্দরগুলোকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হবে। শত্রুদের নৌঘাঁটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা পোসেইডন টর্পেডো নামের এই ড্রোন ঘণ্টায় ৭০ নট গতিতে চলতে পারে। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন গত মার্চে ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ ভাষণে এই জলজ ড্রোনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তখন তিনি এ পরমাণু অস্ত্রের কথা ঘোষণা করে বলেছিলেন, নতুন এ অস্ত্র শত্রুদের হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপদ থাকবে। এ অস্ত্রের নেপথ্যে থাকা বিজ্ঞানীদের তিনি প্রশংসা করে ‘আমাদের সময়ের নায়ক’ বলে আখ্যা দেন। মস্কোতে বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে পুতিন বলেছিলেন, অস্ত্রটিতে একটি পরমাণুচালিত ক্রুজ মিসাইল, একটি পরমাণুচালিত জলজ ড্রোন এবং এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে নতুন হাইপারসনিক মিসাইল। এ সময় এগুলোর ভিডিও একটি বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়। ওই ভিডিওতে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লে¬ারিডা অঙ্গরাজ্যের ওপর বৃষ্টির মতো বোমা ফেলা হচ্ছে। ভাষণে পুতিন বলেন, এই নতুন অস্ত্র ন্যাটোর মার্কিন নেতৃত্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে একেবারেই অর্থহীন করে তুলেছে। 
সেনাবাহিনীর জন্য নতুন পরমাণু অস্ত্র 

এ দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার সোচিতে দেয়া এক বক্তৃতায় বলেন, রুশ সেনাবাহিনী শিগগিরই নতুন পরমাণু পেতে যাচ্ছে। অ্যাভাঙ্গার্ড নামের নতুন এই অস্ত্র আগামী বছর থেকেই আসা শুরু করবে। আর নতুন সারমাট নামের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করবে। গত মার্চেই পুতিন এই অস্ত্র দু’টির কথা ঘোষণা করেছিলেন। 


পুতিন বলেন, অ্যাভাঙ্গার্ড শব্দের চেয়ে ২০ গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। অতি দ্রুত চলার কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এটিকে দুই হাজার সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। অস্ত্রটি এর গন্তব্য পথে কোর্স ও উচ্চতা দু’টিই পরিবর্তন করতে পারে, যা তাকে যেকোনো মিসাইল প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে অভেদ্য করে তুলতে পারে। 


অন্য দিকে সারমাট এর আগে সোভিয়েত আমলে তৈরি করা ভোয়াভোডার স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে। ১০টি পরমাণু ওয়ারহেড বহনকারী ভোয়াভোডা পশ্চিমা বিশ্বের কাছে শয়তান নামে পরিচিত। পুতিন মার্চে বলেছিলেন, সারমাটের ওজন ২০০ মেট্রিক টন ও এটি ‘শয়তান’-এর চেয়ে অনেক ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারে এবং বেশি ওয়ারহেড নিয়ে চলতে পারে। 


এসব অস্ত্রের কারণে রাশিয়া অন্য দেশের চেয়ে কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশক এগিয়ে যাবে। এসব অস্ত্র অন্য দেশের দামি প্রতিরক্ষা সিস্টেমকে অকার্যকর করে তুলবে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দেয়া ও যুক্তরাজ্যে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপল এবং তার মেয়েকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা চলার মধ্যেই পুতিন এসব অস্ত্রের ঘোষণা দিলেন।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi