esans aroma gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indir Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অ্যাজমার ওষুধ ও অস্থিক্ষয়

-

অস্থিক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস হচ্ছে এমন একটি অসুখ যার ফলে অস্থি বা হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। হাড়ের শক্তি কমে যায়, ফলে প্রবণতা তৈরি হয় হাড় ভাঙার। অস্টিওপোরোসিসের দ্বারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় যে হাড়গুলো, তা হচ্ছে মেরুদণ্ডের ছোট ছোট হাড় (কশেরুকা), কবজি, বাহু এবং
বস্থি প্রদেশের হাড়গুলো। একবার ভেঙে গেলে আবার ভাঙার আশঙ্কা থাকে, সাথে থাকে তীব্র ব্যথা, ফলে চলাফেরায় অক্ষমতা।
সে কারণেই রোগীর প্রয়োজন হয় অপারেশনের। লিখেছেন অধ্যাপক ডা: গোবিন্দ চন্দ্র দাস
অস্টিওপোরোসিস আমেরিয় ২৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। বয়স্ক মানুষ, বিশেষত মহিলা, যাদের মেনোপজ (ঋতুবন্ধ) হয়ে গেছে তারাই সবচেয়ে ঝুঁঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। অন্য যে সব বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে, সেগুলো হচ্ছেÑ
> পারিবারিক ইতিহাস
> জাতি। শ্বেতাঙ্গ এবং এশীয়দের মধ্যে এই রোগ বেশি হয়। আফ্রিকানদের মধ্যে কম।
> খাদ্যে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি কম থাকা।
> শরীরচর্চার অভাব।
> ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান।
> ওজনহীনতা।
> মহিলাদের কিছু মাসিকের ত্রুটি, সেগুলোর ফলে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাপ কমে যায়।
> কিছু ওষুধ যেমনÑ গ্লুকোকর্টিকোস্টেরয়েড, খিচুঁঁনিরোধী ওষুধ।

অ্যাজমার সাথে অস্টিওপোরোসিসের সম্পর্ক
যেহেতু অ্যাজমা হচ্ছে ফুসফুসের প্রদাহজনিত একটি রোগ, তাই অ্যাজমা রোগীকে প্রচুর প্রদাহরোধী ওষুধ খেতে হয়। এদের মধ্যে গ্লুœুকোকর্টিকোস্টেরয়েড হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী সিম্পেসিক এবং নিঃশ্বাসের সাথে নেয়ার বা স্থানীয়।
দীর্ঘদিন ধরে কোনো অ্যাজমা রোগী যদি মুখে খাওয়ার গ্লুকোকর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করেন (যেমনÑ প্রেডনিসোলোন টেবলেট) তাহলে তিনি যতগুলো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অস্টিওপোরোসিস। অন্য দিকে ইনহেলার হিসেবে যে গ্লুœুকোকর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়, সেগুলো অ্যাজমা প্রশমনে যেমন কার্যকরী, তেমনই সেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। আপনার ডাক্তার তাই আপনাকে সেই ওষুধ ব্যবহার করতে বলবেন, যেগুলোর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম।

অস্টিওপোরোসিস বা অস্থিক্ষয় কিভাবে রোধ করবেন
বেশি ক্যালশিয়াম গ্রহণ : ক্যালসিয়াম শরীরের সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে যখন এটি খাদ্যের সাথে অল্প পরিমাণে সারা দিন ধরে খাওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম থাকে দুগ্ধজাত খাদ্যে। এসব খাবারে ভিটামিন ডি থাকে কিছু পরিমাণে। যেমনÑ এক গ্লাস স্কিমড মিল্কে থাকে ৩০২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৮৫ ক্যালরি। কম স্নেহজাতীয় ইফোগার্টে থাকে ৪১৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ১৪৫ ক্যালোরি শক্তি।
শরীরে প্রতিদিন ক্যালসিয়াম চাহিদা নি¤œরূপÑ
> এক থেকে ১০ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন ৮০০ মিলিগ্রাম।
> ১১ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম। গর্ভবর্তী এবং স্তন্যদানরত মায়ের জন্য প্রতিদিন এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম।
> ২৪ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষ প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম। ঋতুবন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে মহিলাদের জন্য প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম।
> যাদের অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁঁকি আছে এমন পুরুষ-মহিলা প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম।
কিছু মানুষের শরীরে ল্যাকটেজ নামক এনজাইমের ঘাটতি থাকে। এই এনজাইম ল্যাকটোজ নামক দুগ্ধ শর্করা হজমে সাহায্য করে থাকে। এই এনজাইমের অভাব ঘটলে মানুষ দুধ খেয়ে হজম করতে পারে না। তবে কেউ কেউ ইফোগার্ট এবং মাখন কিছুটা হজম করতে পারে। অন্যদের জন্য ল্যাকটোজ মিশ্রিত দুধ ব্যবহার কম সহজ। দুধ ছাড়া অন্য যে সব খাদ্যে ক্যালসিয়াম ভালো পরিমাণে থাকে, সেগুলোর মধ্যে টফু (প্রতি ৪ আউন্সে ১৫০ মিলিগ্রাম), বাঁধাকপি, (সেদ্ধ এক কাপে ১৩৬ মিলিগ্রাম), কলার্ড (প্রতি কাপে ১৫০ মিলিগ্রাম), শালগম (প্রতিকাপে ২০০ মিলিগ্রাম) এবং সার্ডিন মাছ (প্রতি ৩ আউন্সে ৩৭৫ মিলিগ্রাম) অন্যতম।
যারা খাদ্যর সাথে ঠিকমতো ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে না, তাদের ক্যালসিয়াম সরবরাহ করতে হবে। তবে নিশ্চিত করতে হবে ওষুধের মধ্যে প্রকৃত ক্যালসিয়ামের পরিমাণ। দিনে একসাথে ৫০০ বা ৬০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা চলবে না। কিংবা ক্যালসিয়ামের সাথে আঁশজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে সীসা বা অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে। এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে।
ভিটামিন-ডি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয় : প্রতিদিন ভিটামিন ডি গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৪০০ আন্তর্জাতিক একক (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট)। বেশির ভাগ মাল্টিভিটামিন ওষুধে এই পরিমাণেই ভিটামিন-ডি থাকে। দেখা গেছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ আন্তর্জাতিক একক পর্যন্ত ভিটামিন-ডি খেলে ক্যালসিয়াম বিশোষণ ও অস্থির বিপাক ক্রিয়ায় তা সহায়তা করে। এই ভিটামিন পাওয়া যায় ডিমে, লোনা পানির মাছে, গরুর কলিজায়। ইদানীং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াকৃত দুধ বাজারে পাওয়া যায়।
ব্যায়াম : হাঁটা, উপরের দিকে ওঠা বা জগিং জাতীয় ব্যায়াম করতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্যায়াম করতে হবে এক দিন পরপর কিংবা সপ্তাহে চার দিন। প্রতিদিন কতক্ষণ ধরে ব্যায়াম করতে হবে তা নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরনের ওপর। ৪০ থেকে ৬০ মিনিট হাঁটার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ধূমপান ত্যাগ করতে হবে এবং বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল সেবন করা যাবে না : ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরের অন্যান্য ক্ষতির পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিসের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
রক্তের এস্ট্রাজেনের পরিমাণ মনিটর করুন : আপনি নারী হলে এবং আপনার মেনোপজ শুরু হলে ইস্ট্রোজেন প্রতিস্থাপন চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
মহিলাদের হরমোন রিপ্লেসমেন্ট : মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি মহিলাদের অস্টিওপোরোসিসের আশঙ্কা কমায়, তবে অন্য ক্ষতির সম্মুখীনও করে। কাজেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার আপনার চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।
টেস্টোস্টেব্লন মনিটর করুন : পুরুষ রোগীরা গ্লুকোকর্টিকোস্টেরয়েড (প্রেডলিসালোন) খেলে রক্তের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই এটি মনিটর করতে হবে।
চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখুন নিয়মিত : যদি আপনার অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁঁকি থাকে বা আপনাকে যদি অ্যাজমার জন্য প্রেডনিসলোন খেতে হয়, তাহলে হয়তো আপনার চিকিৎসক আপনার অস্থির ঘনত্ব পরীক্ষা করে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
লেখক : অধ্যাপক ও অ্যালার্জি ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ, দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার
৪৩ আর/৫সি পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা।
ফোন : ০১৭২১৮৬৮৬০৬


আরো সংবাদ




short haircuts for black women short haircuts for women Ümraniye evden eve nakliyat