১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

হাঁচি থেকে মুক্তি

-


হাঁচি হলো এক প্রকার শারীরিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর থেকে উদ্দীপক বা উত্তেজক বস্তু অপসৃত হয়। অ্যালার্জি আক্রান্ত ব্যক্তিরা উত্তেজক রাসায়নিক পদার্থ যেমন : হিস্টামিন নাক দিয়ে নির্গত হওয়ার সময় হাঁচি দেয়। কিছু স্পর্শকাতর দ্রব্য যেমন ধুলাবালি, পশুপাখি বা ফুলের পরাগের সংস্পর্শে এলে এলার্জি আক্রান্তদের এ সমস্যটি হয়। সাধারণত বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ফুলের পরাগের জন্য অ্যালার্জির কারণে হাঁচি হয়। হাঁচির জন্য অ্যালার্জিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। প্রায় যে কোনো জিনিসই যা নাকে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার কারণে হাঁচি হতে পারে। যেমন ধুলাবালু, তীব্র গন্ধ, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও সংক্রামক রোগ।
হাঁচি হচ্ছে একটি জটিল প্রক্রিয়া : হাঁচির শুরু নাকের ভেতরে চামড়ার বহিরাংশ উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে এবং এর নাক ও মুখ থেকে আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ আকারে বহুল পরিমাণে বায়ু নিঃসরণ। হাঁচির সময় স্নায়ু স্পন্দন নাক থেকে মস্তিষ্কে প্রবাহিত হওয়ার পর অন্যান্য স্নায়ুতে ফিরে আসে যা তলপেট, বুক, মধ্যচ্ছদা, ঘাড় ও মুখমণ্ডলের মাংসপেশি নিয়ন্ত্রণ করে। নাকের শ্লেষ্মা গ্রন্থি ও রক্তবাহী নালিকার ওপরও অনুরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সেজন্য হাঁচি দেয়ার সময় সাধারণত মামরা চোখ বন্ধ করে ফেলি এবং প্রায়ই পরবর্তীতে নাক দিয়ে সর্দি ঝরে। সে ক্ষেত্রে এন্টিহিস্টামিন অ্যালার্জি নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া অ্যালার্জি সৃষ্টি হাঁচি নিরাময়ে নাকে স্টেরয়েড স্প্রে ব্যবহার করা হয়, যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
হাঁচি দৌর্বল্যের কারণ : অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি পাঁচ জনে এক জন অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়। এখনও সেখানে একটি জটিল রোগের পরিবর্তে উপদ্রব হিসেবে অ্যালার্জিই বিবেচিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত যারা মারাত্মকভাবে অ্যালার্জি আক্রান্ত তারা খুবই দুর্বিষহ সময় কাটায় এবং সর্বোপরি শারীরিক ও মানসিকভাবে পর্যুদস্ত থাকে। তীব্র অ্যালার্জি বয়স্কদের ক্ষেত্রে জীবনযাপনের ধরন, ঘুম, মেজাজ, কর্মদক্ষতা এবং ছোটদের ক্ষেত্রে লেখাপড়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তীব্র পলিনোসিস কিছু চিকিৎসাগত জটিলতার সাথেও সম্পর্কিত, যেমন ঘন ঘন ঘা হওয়া, নাকের ভেতরে সংক্রমণ ইত্যাদি। সে জন্য অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে কঠিন। তবে সৌভাগ্যবশত এখন কিছু নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
হাঁচির ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় : সংস্কৃতিভেদে হাঁচিকে যেমন সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, আবার মৃত্যুর পূর্বাভাস বলেও বিবেচনা করা হয়। বাস্তবিক পক্ষে মনে করা হয় ঈশ্বর তোমার সহায় হোন উক্তিটির উত্থান হয় ষষ্ঠ শতকের বিউবৌনিক প্লেগ থেকে (যে রোগে গ্রন্থাস্ফীতি দেখা দেয় এবং যা দ্রুত ছড়ায়। এ রোগের একটি প্রধান উপসর্গ হলো হাঁচি।
হাঁচির উপাদানগুলো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে ২-৩ মি. এর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এটি জীবাণু ছড়ানোর অতি কার্যকর একটি মাধ্যম। কারো কারো ক্ষেত্রে প্লাক করার সময় ঠাণ্ডা লাগলে বা রোদে গেলে হাঁচি পায়। রোদের ফলে হাঁচি আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটি বংশগত এবং প্রতি চারজনে প্রায় একজন এতে আক্রান্ত হয়। হাঁচি দিয়ে বিশ্ব রেকট গড়েছেন যুক্তরাজ্যের ওরস্টারশ্যায়ার এবং ডোনা গ্রিফিথস। তিনি টানা ৯৭৮ দিন হাঁচি দেন যার সমাপ্তি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ সালে।
যারা পলিনোসিসে আক্রান্ত তাদের পক্ষে অ্যালার্জি থেকে রেহাই পাওয়া খুবই কঠিন। জলের নিচে সাবমেরিনে, স্কুবা ট্যাঙ্কে, এন্টার্কটিকায় এবং এমনকি মহাশূন্যেও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা যায়। তবে মহাশূন্যে কেউ আপনার হাঁচির শব্দ শুনতে পাবে না।
লেখক : অধ্যাপক ও অ্যালার্জি ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ, দ্য অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার, ৪৩ আর/৫সি পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা।
ফোন : ০১৭২১৮৬৮৬০৬, ০১৯২১৮৪৯৬৯৯


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik