০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

হাসপাতলে ভর্তি ডাক্তার-নার্সরাও

মুগদা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড - ছবি : মোরশেদ মুকুল

দিন যতই যাচ্ছে ডেঙ্গুতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা থাকতে পারে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সাধারণ নাগরিকদের মতো চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরাও আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। যে কারণে চিকিৎসা সেবা কিছুটা হলেও ব্যহত হচ্ছে। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. রেহনুমা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একই মেডিকেলের ক্যাবিনে ভর্তি। আরো কয়েকজন চিকিৎসক এখান থেকে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকসানা ও ইসরাত জাহান। আবার কারো মা-বাবা কিংবা বাচ্চা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। একইভাবে মেডিকেলের গ্যাস্ট্রেলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. রুকনুজ্জামানের ছেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে মেডিকেলে।

মুগদা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের প‌রিচালক আমিন আহমদ খান জানান, ডাক্তার ও নার্স মি‌লি‌য়ে ৩০ জ‌নের ম‌তো ডেঙ্গু আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছে। যা‌দের অনেকে এখ‌নো ছু‌টি‌তে আছেন। এছাড়া ডাক্তার , নার্স ও অন্যান্য স্টাফ‌দের প‌রিবা‌রের সদস্যরা ডেঙ্গু‌তে আক্রান্ত।

স্বাভাবিকভাবেই যার প্রভাব পড়ছে চিকিৎসা সেবায়। তি‌নি ব‌লেন, আমরা নিরলসভা‌বে সেবা দি‌য়ে যা‌চ্ছি। সবাই ডিউ‌টির নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ কর‌ছে। কা‌জের মধ্যেও অনেকে অসুস্থ্য হ‌চ্ছে। ডেঙ্গুর বিষ‌য়ে আমরা ও চি‌ন্তিত ব‌লে জানান তি‌নি।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যাদের পরিবারের সদস্যরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন তাদেরও ঠিক মতো সেবা করতে পারছেন না বলে জানান অনেকে। সিনিয়র স্টাফ নার্স কাঞ্চনা জানান, কয়েকদিন থেকে তার বাচ্চা অসুস্থ। তাকে সময় দেয়া প্রয়োজন; কিন্তু হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চাপে তা হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে বিছানা না যাওয়া পর্যন্ত কারো কোন ছুটি মিলছে না। আমাদেরও তো পরিবার পরিজন আছে। দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকতে না পারলে কি হয়? খাওয়া-দাওয়াও ঠিক সময়ে হচ্ছে না।

কাঞ্চনা বলেন, ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধির আগে ডিউটি শেষ হলেই বাসায় ফিরতে পারতাম। এখন সেখানে অনেক দেরিতে বাসায় ফিরতে হচ্ছে।
সুপার ভাইজার সিনিয়র স্টাফ নার্স গৌরি জানান, তারা সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছেন সেবা দিতে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নার্সরা দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্তি সময় দিচ্ছেন। কাজের চাপে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে স্বাভাবিক অবস্থা ভেঙে পড়বে।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik