১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডায়রিয়া প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়

-

ডায়রিয়া বাংলাদেশের সাধারণ একটি রোগ হলেও বন্যাপরবর্তী সময়ে তা মহামারী আকারে পরিলক্ষিত হয়। এ রোগ সহজেই নিরাময়যোগ্য। তবে অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে ডায়রিয়া থেকে মৃত্যুবরণ পর্যন্ত হতে পারে। ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা করাও জরুরি। এ জন্য ডায়রিয়া সম্পর্কে সবারই জ্ঞান থাকা এবং সচেতন হয়ে তা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা একান্ত প্রয়োজন।

ডায়রিয়া প্রতিরোধের উপায়
১. ডায়রিয়া পানিবাহিত জীবাণুর দ্বারা সংঘটিত হয় বলে পানি ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য জন্য নিরাপদ বা বিশুদ্ধ পানি পানসহ সংসারের সব কাজে বিশুদ্ধ বা নিরাপদ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আর্সেনিক মুক্ত টিউবওয়েলের পানি বা কুয়া-পুকুর-নদীর পানি ১০ মিনিট টগবগিয়ে ফুটানোর পর পানি বিশুদ্ধ হয়। তা ছাড়া, পানি শোধন ট্যাবলেট, ফিল্টার, ফিটকিরি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করা যায়।
২. পচা-বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত অখাদ্য-কুখাদ্য বা দূষিত খাবার না খাওয়া। ঠাণ্ডা বা বাসি খাবার গরম করে খাওয়া।
৩. খাদ্যদ্রব্য মাছি, পোকা-মাকড় ও ধুলাবালু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঢেকে রাখা।
৪. উঁচু স্থানে গর্ত করে পায়খানা তৈরি করে ছোট-বড় সবারই মল ত্যাগ করা। বাচ্চারা যেখানে সেখানে পায়খানা করলে সাথে সাথে পরিষ্কার করে গর্তে পুঁতে রাখা।
৫. প্রত্যেকবার শৌচকার্যের পর ও খাওয়ার আগে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করা।

ডায়রিয়া প্রতিকারের উপায়
১. ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা শুরু হওয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক খাবারের সাথে ঘরের তৈরি লবণ-গুড়ের শরবত বা স্যালাইন অথবা প্যাকেট স্যালাইনের শরবত খেতে দিতে হবে।
২. ডায়রিয়ার সময় অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ দিতে হবে। এ সময় ভাতের মাড়, চিঁড়ার পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, চালের গুঁড়ার সাথে লবণ মিশিয়ে জাউ খাওয়া খুবই উপকারী।
৩. ডায়রিয়ার সময় ঘন ঘন পাতলা পায়খানার সাথে আক্রান্ত ব্যক্তি ঘন ঘন বমিও করতে পারে। বারবার পাতলা পায়খানা বা বমি করার পর প্রতিবার আক্রান্ত অবস্থায় স্যালাইন খাওয়াতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় স্যালাইন খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।
৪. স্যালাইন একবার তৈরি করে ছয় ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করে অতিরিক্ত থাকলে ফেলে দিতে হবে।
৫. ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা মারাত্মক (যেমন অতিরিক্ত বমি ও পায়খানা করে নির্জীব হলে) ডাক্তার দেখাতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।


আরো সংবাদ

সকল