১৬ জুন ২০১৯

স্বা স্থ্য ত থ্য

-

তেলাপোকা থেকে অ্যাজমা

তেলাপোকা আমাদের কাছে খুব চেনা একটি প্রাণী। রান্নাঘরের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা, তেলাপোকা কারো কাছে ভীতি, কারো কাছে বিরক্তির বিষয়। চীনারা আবার খুব প্রীতি নিয়েই ওদের স্যুপ বানিয়ে খায়। কিন্তু আমেরিকার টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ওদের এত সহজভাবে নিচ্ছেন না। তারা তেলাপোকা নিয়ে রীতিমতো একটা গবেষণাই করে ফেলেছেন। আর গবেষণার ফলে তারা জানতে পেরেছেন তেলাপোকা শিশুদের অ্যাজমায় আক্রান্ত করে। সেই সাথে যাদের অ্যাজমার সমস্যা আছে তাদের সমস্যাটাকেও আরো তীব্র করে তোলে। গবেষকদের মতে, তেলাপোকারা এক ধরনের মাইট বহন করে, যা অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। পোষা কুকুর বা বিড়ালের গায়ে যে অ্যালার্জেনগুলো থাকে তার থেকে এর ধরনটা আরো খারাপ। সুতরাং তেলাপোকা হতে সাবধান। আজই তৎপর হোন আর তেলাপোকার বংশ ধ্বংস করুন।
দধি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে

দধির উপকারিতা অনেক। সম্প্রতি জানা গেছে এ সংক্রান্ত নতুন এক তথ্য, দধি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। গবেষকেরা বলছেন, দধি খেলে হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা কমে। আর এই হাইড্রোজেন সালফাইড হলো মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ। সুতরাং হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা কমলে দুর্গন্ধও দূর হয়। দধিতে যে বিভিন্ন পদের ব্যাকটেরিয়া থাকে তারাই এই উপকারটি করে থাকে। গবেষকেরা আরো বলছেন, দধি খেলে শুধু মুখের দুর্গন্ধই নয়, দাঁত ও মাড়ির বেশ কিছু রোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
শিশুর ইনফেকশন প্রতিরোধে সূর্যমুখীর তেল

নবজাতক শিশুরা বিশেষ করে যারা অপরিপক্ব হয়ে জন্মায় অর্থাৎ ‘প্রিম্যাচ্যুর বেবি’ তারা ইনফেকশনে ভোগে বেশি। মূলত শরীরের ইনফেকশন প্রতিরোধ করে ত্বক। ইনফেকশন প্রতিরোধে ত্বক একটি ভালো প্রতিবন্ধক। কিন্তু প্রিম্যাচুর শিশুদের ত্বকও থাকে প্রিম্যাচুর। অর্থাৎ পরিণত ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতাটি তারা অর্জন করতে পারে না। ফলে ওইসব শিশু নানা রকম ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়। তাদের অনেকেই সেপ্টিসেমিয়া হয়ে মারাও যায়। ইদানীং পশ্চিমা দেশগুলোতে ডাক্তাররা শিশুদের সূর্যমুখীর তেল দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে শিশুদের শরীরে সরিষার তেল মাখানোর একটা রীতি চালু আছে। কিন্তু এই সরিষার তেল শিশুদের কোনো উপকারে আসে না, বরং ক্ষতিকর। জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিতরা সরিষার তেলকে আখ্যা দিয়েছেন ‘টক্সিক বা বিষাক্ত বলে। তারা বলছেন, শিশুদের জন্য সূর্যমুখীর তেল হলো সবচেয়ে ভালো। এই তেল শিশুদের মাথা ও মুখ ছাড়া পুরো শরীরে দিনে দু’তিনবার মাখালে নবজাতকের ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
পেপটিক আলসারে রেনিটিডিনের সাথে ব্রোমাজিপাম

পেপটিক আলসারের রোগীরা রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধ খায় হরহামেশা। সারা পৃথিবীতেই এটা খুব জনপ্রিয় একটি ওষুধ। আলসার থেকে মুক্তি পেতে এর ব্যবহার নতুন নয়। তবে সম্প্রতি জানা গেছে একটি নতুন তথ্য। রেনিটিডিনের সাথে ব্রোমাজিপাম গ্রুপের ওষুধ খেলে রেনিটিডিনের কার্যকারিতাও বেড়ে যায়। ফলে পেপটিক আলসার অনেক দ্রুত সারে। আসলে অ্যাসিডিটির সাথে দুশ্চিন্তা-টেনশনের একটা যোগসূত্র আছে। দুশ্চিন্তা করলে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় আলসার। ব্রোমাজিপাম বেনজোডায়াজেপিন গ্রুপের এক অভিজাত সদস্য। ট্রাঙ্কুইলাইজার বা দুশ্চিন্তা নিরাময়কারী ওষুধ হিসেবে এটি ভালো কাজ করে। সুতরাং, রেনিটিডিনের সাথে এই ওষুধটিও যদি খাওয়া হয় তাহলে ফল খুব ভালো হয়। আলসার সারে দ্রুত। তবে তাই বলে নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না। ওষুধ খাবেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
ষ ডা: রুমানা চৌধুরী

 


আরো সংবাদ