১৬ জুন ২০১৯

বাড়িতে লুকানো এলার্জেন

বাড়িতে লুকানো এলার্জেন - ছবি : সংগ্রহ

বাড়িঘরের ধুলাবালি, মাকড়সার জাল, ডাস্ট মাইট, ছত্রাক, ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে অনেক সময় হাঁচি হয়, কাশি হয়, হাঁপানি হয়, শরীর চুলকায়, ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে ‘এলার্জেন’। বাড়িঘরে এসব এলার্জেন লুকিয়ে থাকার জায়গাগুলো পরিষ্কার রেখে হাঁচি-কাশি, হাঁপানি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।

বিছানাপত্র : বিছানার চাদর, বালিশের কভার, বালিশ, লেপ, তোষক, মেট্রেস, কাঁথা-কম্বল- এগুলোতে থাকে ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইট। বিছানার ধুলাবালি আর ডাস্ট মাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার চাদর, বালিশের কভার, লেপের কভার ধুয়ে দিতে হবে। লেপ, কাঁথা, কম্বল রোদে দিতে হবে। তোষক, মেট্রেসও রোদে দেয়া উচিত। রোদের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মিতে হাউজ ডাস্ট মাইট মারা যায়।

আসবাবপত্র : চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট, আলমারি, ওয়্যারড্রোব, ইত্যাদির উপরে ও ফাঁকে ফাঁকে ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইট থাকে। আর্দ্র জায়গা হলে ছত্রাকও জন্মায়। ছত্রাকও এলার্জেন। এগুলো প্রতিদিনই ঝাড়া মোছা করতে হবে।
কারপেট, ম্যাট :
ঘরের মেঝেতে বিছানো কারপেট ও ম্যাট প্রচুর ধুলা ও ডাস্ট মাইট জমা হওয়ার উৎকৃষ্ট স্থান। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মেঝেতে কারপেট বা ম্যাট বিছানো না থাকলে প্রতিদিনই ঘর ঝাড়– দিয়ে ঘরের মেঝে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে।
দরজা, জানালা, দরজা-জানালার পর্দা :
দরজা জানালা ও দরজা-জানালার পর্দায় জমে থাকে ধুলাবালি, মাকড়সার জাল, ডাস্ট মাইট। নিয়মিত ঝেড়ে মুছে দরজা জানালা পরিষ্কার রাখতে হবে। দরজা-জানালার পর্দা ঘন ঘন ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

রান্নাঘর :
আর্দ্র রান্নাঘরে বাসা বাঁধতে পারে ছত্রাক। রান্নাঘরের ধোঁয়া, তা ও এলার্জেন। কাজ শেষে রান্নাঘর ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে শুকনো রাখতে হবে। রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া বাইরে বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বই পুস্তক : টেবিলে, বইয়ের তাকে বা আলমারিতে রাখা বই দীর্ঘদিন নাড়াচাড়া না করলে এগুলোতে ধুলা জমে, ডাস্ট মাইট বাসা বাঁধে। বই যত্ন করে শুধু তুলে না রেখে নিয়মিত নাড়াচাড়া করতে হবে, পড়তে হবে। তাহলে পরিষ্কার থাকবে। ধুলা জমবে না, ডাস্ট মাইট ছত্রাক বাসা বাঁধতে পারবে না।

শিশুর খেলনা : শিশুর নরম খেলনা, যেগুলোর উপরে কাপড়ের আবরণ বা প্রাণীর লোমের মতো থাকে, সেগুলোতে ধুলা ও ডাস্ট মাইট জমে থাকে। ধোয়া যায়, এমন খেলনাগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। অন্যগুলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজ্ড মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ


আরো সংবাদ