২৫ মে ২০১৯

হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে বিজ্ঞানসম্মত নতুন চিকিৎসা

হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে বিজ্ঞানসম্মত নতুন চিকিৎসা - ছবি : সংগ্রহ

বিশ্বের এক নম্বর মারণব্যাধি হৃদরোগ। কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়াই যেকোনো সময় এটি কেড়ে নিতে পারে মানুষের জীবন। বিশ্বের মোট মৃত্যুর অর্ধেকই হয় হার্টের রোগ ও স্ট্রোকে। প্রতিবছর লাখ লাখ লোকের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। এদের মধ্যে ২৫ ভাগের মৃত্যু হয় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই। হার্ট অ্যাটাক হলেও অনেক সময় বেঁচে থাকতে হয় নানা
অক্ষমতা আর হঠাৎ মৃত্যুর ভয় নিয়ে। লিখেছেন ডা: গোবিন্দ চন্দ্র দাস

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমেরিকায় গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৬০০ লোক মারা যাচ্ছে হৃদরোগের শিকার হয়ে। সেখানে হৃদরোগীর সংখ্যা ষাট মিলিয়ন। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পর বহুসংখ্যক মানুষ প্রতিনিয়ত এই ব্যাধির সঙ্গে সংগ্রাম করে চলেছে। স্ট্রোকের ঝুঁকির ভেতর বসবাস করছে অগণিত মানুষ। পাশাপাশি জীবনযাপনে সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে বহু লোক মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে এনেছে।

হার্ট অ্যাটাককে ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। মানবদেহে এই ‘ভূমিকম্প’ আসতে অনেক বছর লেগে যেতে পারে। কিন্তু এই ভূমিকম্প হয় কোনো পূর্বাভাস না দিয়েই। পৃথিবীর ভূমিকম্প ঠেকানো যায় না, কিন্তু মানবদেহের ‘হৃদকম্প’ বা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা যায়।

বাংলাদেশে ৩০ বছর বয়সের পর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। ৪০-৪৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের হৃদরোগ তো অজানা নয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট সম্প্রতি জানিয়েছে- বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনে একজনের হার্টের সমস্যা আছে। এদের সমস্যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরো জটিল হয়। তারা আরো জানায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১৫-২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হচ্ছে। এ দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব যতই থাকুক না কেন, রোগভীতিও এ থেকে মৃত্যুভয় কিন্তু কম নয়।

বাংলাদেশে হৃদরোগ বাড়ার কারণ : বর্তমানে আমাদের জীবন ধারার পশ্চিমা ধাঁচে পরিবর্তন হচ্ছে। ফাস্টফুডের সাথে দ্রুততালে বাড়ছে ফ্যাট খাওয়ার প্রবণতা। কমেছে শাকসবজি, ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস ও টাটকা খাবার খাওয়ার ঝোঁক।

জীবনের গতি বাড়তে বাড়তে জেটগতির জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এক শ্রেণীর মানুষ। ফলে ইঁদুর দৌড়ের জীবনে বাড়ছে টেনশন, মানসিক চাপ- মন হয়ে পড়ছে ক্ষতবিক্ষত, হৃদরোগ বেড়ে চলেছে এভাবে। অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে চলেছে ধূমপান। এর বিপক্ষে সচেতনতা সৃষ্টি ও মোটিভেশনও যেন রুখতে পারছে না এর অগ্রযাত্রাকে। ধূমপান এখন আর শুধু বড়দের সঙ্গী নয়, ছোটদেরও বন্ধু। অতীতে বাঙালি ছিল কর্মমুখর, পরিশ্রম নির্ভরতায় চলছিল জীবন। জীবনযাপনের এ পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে মানুষ। গ্রামের এক শ্রেণীর মানুষ এখন মোটরসাইকেলে চড়েন বেশি, সাইকেলে চড়েন কম, হাঁটেন আরো কম। শহরাঞ্চলে লাফ দিয়ে বাড়ছে গাড়িচড়া, বসে বসে কাজ করা ও আয়েশী জীবনযাপনের মানসিকতা। কমছে শরীরের ব্যায়াম, বাড়ছে স্থূলতা। ব্যায়াম মানে তো হার্টরেট উঠছে ১৪০-এ আর ঘাম ঝরবে টপটপ করে।

প্রচলিত চিকিৎসা : রক্তনালীতে ব্লক ধরা পড়লে অ্যানজিওপ্লাস্টি বা করোনারি বাইপাস সার্জারি করা হয়। উভয় পদ্ধতি বেশ খরচসাপেক্ষ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত। দেখা যায় কয়েক বছর পর জীবনীশক্তি অর্ধেকে নেমে আসে। যে হারে হৃদরোগের সংখ্যা বাড়ছে সে হারে বাড়ছে না নির্ভরযোগ্য অ্যানজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারির সেন্টারের সংখ্যা। এভাবে বাড়তে থাকলে আগামীতে হৃদরোগ চিকিৎসার হাসপাতাল ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কয়েকগুণ বেশি প্রয়োজন হবে। যা রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেয়া, তবে এ রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ও নিয়মিত ওষুধ খেলে এর জটিলতা বহুলাংশে এড়ানো সম্ভব।

খাদ্যের মাধ্যমে কোলেস্টেরল ও চর্বি গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলে এটা একদিকে যেমন নতুন ব্লকেজ সৃষ্টি রোধ করবে, অন্যদিকে তেমনি ধমনিতে জমে থাকা মেদকেও অপসারণ করবে। চিন্তার বিষয় হলো হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক নিরাময় প্রযুক্তি, যেমন বাইপাস সার্জারি বা এনজিওপ্লাস্টি বিফলে যায় শুধু নতুন নতুন ব্লকেজ সৃষ্টি এবং অপারেশনের পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণেই।

বিজ্ঞান থেমে থাকেনি। হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লকেজ সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। দেখা গেছে, ব্লকেজ সৃষ্টি যে কারণে হয় সেই সমস্যার সমাধান না করেই অস্ত্রোপচারের চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। এই সূত্র ধরেই নতুন ধরনের চিকিৎসার পথ খোঁজা হতে থাকে। গবেষণা করেই হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই সর্বসাম্প্রতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মুক্তির পথ মিলেছে।

কী সেই মুক্তির পথ?
শুধু নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর কিছু নিয়ম অনুসরণ করলেই কঠিনতর হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটাকেই বলা হচ্ছে করোনারি আর্টারি ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড রিগ্রেশন প্রোগ্রাম বা সংক্ষেপে ‘সিএডিপিআর’। কোনো ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই কেবল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ এনে হৃদরোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ এবং নিরাময় করা সম্ভব।

চিকিৎসা যখন ওষুধ ও অস্ত্রোপচার ছাড়া :
১৯৮৮ সালে ডা: অরনিসের অবদানের কথা বিশ্ববাসী জানতে পারেন, তিনি করোনারি আর্টারি রোগে আক্রান্ত কিন্তু বাইপাস সার্জারি করতে রাজি হচ্ছেন না এমন রোগীদের দু’টি গ্রুপে ভাগ করেন। প্রথম গ্রুপের রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেন কম ফ্যাট ও বেশি আঁশযুক্ত খাবার দিয়ে। এ ছাড়া স্ট্রেসমুক্ত থাকার পদ্ধতি, প্রাণায়াম-যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করার উপদেশ ও দীক্ষা দেন। অপর গ্রুপকে দেয়া হলো হৃদরোগে সচরাচর ব্যবহৃত ওষুধ।

এ দুই গ্রুপের রোগীদেরই বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হলো। কিছুদিন পর পর রোগীর অগ্রগতি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হলো। পাওয়া গেল অদ্ভুত ফল। ডা: অরনিসের আবিষ্কৃৃত পদ্ধতি যারা অনুসরণ করেছেন, তাদের ধমনিতে জমে থাকা চর্বি বা কোলেস্টেরল পরিষ্কার হয়ে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তারা ভীতিকর বুকব্যথা থেকে মুক্তি পান এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে আসে।

অপর দিকে, দ্বিতীয় দলের রোগীদের অবস্থা আগের অবস্থায় থেকে গেল। অর্থাৎ অবস্থার কোনো উন্নতি হলো না। কারো কারো ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি হলো।
ভারতের গবেষণা : ভারতের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাও এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা : ৩৮ বছরের এক বাংলাদেশী। গত ৩ মাস আগে করা অ্যানজিওগ্রামে তার লেফট ইন্টেরিয়র ডিসেন্ডিং আর্টারিতে ৮৫-৯০ শতাংশ ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তাররা তাকে তাৎক্ষণিক অ্যানজিওপ্লাস্টি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি তা করতে পারেননি। তাকে প্রাণায়াম ও মেডিটেশন পদ্ধতি চালিয়ে যেতে বলা হলে বিগত আড়াই-তিন মাস থেকে এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। যেখানে তার আগে আধা মাইল হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন তিনি কষ্ট ছাড়াই দুই-তিন মাইল পর্যন্ত হাঁটতে পারেন। তিনি এরই মধ্যে ভারতের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে এসেছেন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার বর্তমান অবস্থা দেখে তাকে আগের পদ্ধতিগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন এবং আপাতত অ্যানজিওপ্লাস্টি করার প্রয়োজন নেই বলে মত দেন।

এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিতে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধকে একেবারে বাদ দেয়া হয় না। পাশাপাশি ওষুধ সেবন চলতে থাকে। তবে ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থার উন্নতি হলে তখন এ ওষুধ আর চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এই নবধারার চিকিৎসা পদ্ধতিতে খাদ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা কি খুব জরুরি। সেই শিক্ষাই দেয়া হয় এই প্রোগ্রামে; আরো শেখানো হয় যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন। সামগ্রিক চাপ মোকাবেলা করার বিশেষ ট্রেনিংও এর অন্তর্ভুক্ত। এর জন্য পাঁচ দিনের একটি কোর্সের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এটা বিস্ময় জাগায় যে মাত্র কয়েক সপ্তাহ খাদ্যগ্রহণে পরিবর্তন এনে, নিয়মতান্ত্রিক ব্যায়াম করে, চাপমুক্তির কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে এবং মেডিটেশন চর্চা করে বুকের ব্যথা সম্পূর্ণভাবে দূরীভূত করা সম্ভব। এক-দু’বছরের চেষ্টায় ধমনির ব্লকেজও অপসৃত হয়ে থাকে।

‘সিএডি পিআর’ থেকে কারা হবেন উপকৃত

০১. যার একবার বা একাধিকবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে।
০২. নিকট ভবিষ্যতে যিনি এনজিওপ্লাস্টির পরিকল্পনা করেছেন।
০৩. নিকট ভবিষ্যতে যিনি বাইপাস সার্জারির পরিকল্পনা করেছেন।
০৪. যিনি ইতোমধ্যে এনজিওপ্লাস্টি বাইপাস সার্জারি করেছেন।
০৫. এনজিওপ্লাস্টি বাইপাস সার্জারির পর যার পুনরায় ব্লকেজ ধরা পড়েছে।
০৬. যিনি এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারির জন্য অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছেন।
০৭. যিনি উচ্চ রক্তচাপে (হাইপারটেনশন) ভুগছেন।
০৮. যিনি অসম্ভব মুটিয়ে গেছেন।
০৯. যার হৃদরোগের দীর্ঘ পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে।
১০. যার অস্বাভাবিক মাত্রায় রক্তে কোলেস্টেরল বিদ্যমান।
১১. যিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা উঁচু।
১২. সেইসব কর্মজীবী যাদের অত্যন্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়।

বেশির ভাগ ডাক্তার মনে করেন, করোনারি আর্টারি একবার ব্লক হতে শুরু করলে এর গতি আর পাল্টানো যায় না। এর একমাত্র চিকিৎসা অ্যানজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি। কিন্তু উপরোক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনধারা পরিবর্তন করে বিশেষ করে খাওয়ার পরিবর্তন, সুচিন্তা, প্রাণায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে ব্লক সারানো সম্ভব। আমাদের দেশের লাখ লাখ হৃদরোগী যারা এ রোগের নিরাময়ের জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় করে এমনকি অনেকে বাড়িঘর, জমিজমা বিক্রি করে অ্যানজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস অপারেশন করেছেন বা অনেকে বিদেশে যাচ্ছেন, আবার অনেকের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তারা উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবন পেতে পারেন। এখনই সময় নিজের জীবনধারায় কিছু নিয়ন্ত্রণ এনে ভবিষ্যৎকে হাতের মুঠোয় পোরার। একবার কষ্ট করে পরিবর্তনের ধারায় এলে পরে আর সেটা কষ্টসাধ্য মনে হবে না।

লেখক : অধ্যাপক, ইমুনোলজি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।
চেম্বার : হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার, ৫৭/১৫ পান্থপথ, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১১৫৯৪২২৮

 


আরো সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বিপজ্জনক : ইরান প্রেমিক যুগলের নগ্ন ভিডিও ধারণ : কারাগারে ইউপি সদস্যের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বাড়ি দোকানপাটে হামলা স্কুল জীবন থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দরকার : প্রধানমন্ত্রী হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে রুই জাতীয় মা মাছ যারা ক্রিম খেতে রাজনীতিতে আসেনি ভবিষ্যতে তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে বোল্টের দাপটে বিপাকে ভারত ভারত আঙ্গুল দিয়ে দেখাল গণতন্ত্র কী : ড. মোশাররফ আফগানিস্তানে গুঁড়িয়ে গেল মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভারত-নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখী পুকুরে ডুবে মেডিকেল কলেজ ছাত্রের মৃত্যু দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি

সকল




Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa