১৮ এপ্রিল ২০১৯

ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা

-

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি তীব্র আকর্ষণ কিংবা নিয়ম না মানার মানব প্রবৃত্তির এক অন্তর্নিহিত পরিণাম দৈনিক খাদ্য গ্রহণে যথাযথ নিয়ম না মানা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা থেকে থেকে হঠাৎ অতিভোজন কিংবা অতিভোজন পরবর্তী ওজন নিয়ন্ত্রণের কল্পে কঠোর প্রয়াস প্রভৃতি ডায়াবেটিস রোগীদের এক অতি সাধারণ ব্যাপার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে ভাব। চরম পর্যায়ে যার পরিণতি হতে পারে সুচিবাই গ্রস্ততা। থেকে থেকে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে হঠাৎ গ্লুকোজের অতিরিক্ত হ্রাস কিংবা বৃদ্ধিতে দেখা দিতে পারে চিত্তবিভ্রম কিংবা দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিভ্রষ্টতা। কিংবা ডায়াবেটিসের জটিলতায় স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী পর্যায়ে হতাশা কিংবা স্মৃতিভ্রষ্টতার ঘটনাও এক অতি সাধারণ ব্যাপার। ডায়াবেটিস কিংবা এর জটিলতার তীব্র মনোবেদনা যেন মানব শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে নানা শারীরিক উপসর্গ যেমন- ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনিভাব, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হাত-পা জ্বালা-পোড়া প্রভৃতির ছদ্মাবরণে প্রকাশ পেতে পারে। তাছাড়া তীব্র জটিল ও দীর্ঘমেয়াদে নানা মানসিক রোগ যেমন- হতাশা, সিজোফ্রেনিয়া প্রভৃতিতে আক্রান্ত রোগীরা সাধারণ মানুষদের তুলনায় অধিক হারে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।
মূলত ডায়াবেটিসে এসব মনোগত সমস্যার ফলে এর নিয়ন্ত্রণে দেখা যেতে পারে অতিশিথিলতা কিংবা বিরল ক্ষেত্রে অতিচিকিৎসা কিংবা কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে নানা জটিলতা যেমন- হঠাৎ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া। আস্থাহীনতা দেখা দিতে পারে রোগের চিকিৎসায়। বেড়ে যেতে পারে রোগীর যথাযথ ওষুধ গ্রহণ ও রোগ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা। বেড়ে যেতে পারে ডায়াবেটিসের জটিলতা। সেই সাথে ডায়াবেটিসের জটিলতাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা। এক জরিপে দেখা যায় আমাদের এই পাক-ভারত উপমহাদেশে বছরে প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসের নানা জটিলতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে।
সমস্যার সমাধানে
১। সবার আগে প্রয়োজন ডায়াবেটিস এবং এর নানা মনো-শারীরিক জটিলতা সম্পর্কে যথোচিত স্বাস্থ্য শিক্ষা। কেননা রোগ ও রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে একমাত্র সঠিক স্বাস্থ্য শিক্ষাই সরিয়ে দিতে পারে ভ্রান্তির সকল কালো পর্দা।
২। পরে ডায়াবেটিসসহ এর জটিলতার চিকিৎসাসহ এর নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার এক নাতিদীর্ঘ বিবরণ।
৩। “জীবনে ডায়াবেটিসের আবির্ভাব” একে মেনে নিন জীবনের অন্যান্য অবাঞ্চিত ঘটনার মতো। যে সহে, সে রহে; তাই এর প্রতি তীব্র ভীতি বা উদ্বেগ নয়। বরং এর যথাযথ নিয়ন্ত্রণে আজই নিন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ।
৪। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ডায়াবেটিসের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কিংবা এর জটিলতা প্রশমনকল্পে যথাযথ চিকিৎসা নিন।
৫। নয় ডায়াবেটিসের অনিয়ন্ত্রণ কিংবা অতি-নিয়ন্ত্রণ। চাই এর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ। সেই সাথে প্রয়োজন রোগীসহ রোগীর অভিভাবকে ডায়াবেটিস ও এর চিকিৎসায় সৃষ্ট নানা জটিলতা যেমন- রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ অতিরিক্ত কমে যাওয়ার লক্ষণ ও এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান।
৬। ধূমপান বিষপান। তাই আজই ধূমপান পরিহার করুন। স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য গ্রহণ যেমন- টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ও সামুদ্রিক মাছের তেল প্রভৃতির রয়েছে মানব বুদ্ধি বৃত্তীয় প্রক্রিয়ার উপর হিতকর প্রভাব। কাঁচা লবণ পরিহার করুন।
৭। মানসিক যাতনা দূরীকরণে মদ ও অন্যান্য মাদক সর্বদাই বর্জনীয়। কারণ স্বল্পমেয়াদে তা মনের সকল উদ্বেগ, হতাশা কিংবা উৎকণ্ঠার আগুন চাপা দিয়ে রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সকল সমস্যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো ফুঁসে উঠতে পারে। জ্বেলে-পুড়ে তচনচ করে দিতে পারে জীবনের সকল সম্ভাবনা।
৮। মানসিক সমস্যার তীব্র পর্যায়ে ওষুধ কিংবা মনো-চিকিৎসার জন্য একজন মনো-চিকিৎসক কিংবা মনোবিদ হতে পারে এক হিতকর পরামর্শক।
৯। একটুখানি রোগ ও রোগের উপসম কিংবা নিরাময়ের আশ্বাস মনের সাজানো বাগানে বয়ে দিতে পারে প্রশান্তির সুবাতাস।
১০। জীবনকে সর্বদাই গতিশীল ও কর্মক্ষম রাখুন। জীবনের সকল নেতিবাচক চিন্তাসমূহকে প্রতিস্থাপিত করুন ইতিবাচক আশার স্ফূরনে। কেননা নেতিবাচক চিন্তার অপর দিকেই থাকতে পারে ভবিষ্যতের ইতিবাচক চিন্তার সঠিক অভিধান।
লেখক : মেডিসিন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা। ফোন : ০১৫৫৭৪৪০২৮৭


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al