১৪ নভেম্বর ২০১৮

অতিরিক্ত ঘুমাচ্ছেন? নিজের বিপদ ডেকে আনছেন

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চাইলে অতিমাত্রায় কম ঘুম অথবা বেশি সময় বিছানায় থাকা ঠিক নয় - ছবি : সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কত ঘণ্টার ঘুম জরুরি? বয়স ভেদে ছয় থেকে আট ঘণ্টা। যদি এর চেয়ে কম ঘুম হয় তো? তাহলেই বিপদ। আর যদি আট ঘণ্টার বেশি কেউ ঘুমায় তাহলে? তাতেও বিপদ। গবেষকরা জানিয়েছেন, হার্টের সুস্থতার জন্য ছয় থেকে আট ঘণ্টার ঘুম উপকারি। কেউ যদি রোজ এই সময়ের চেয়ে বেশি বা কম ঘুমায় তাহলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

জার্মানির মিউনিখের ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি কংগ্রেস এই গবেষণা চালিয়েছে। তাদের দাবি, 'হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চাইলে অতিমাত্রায় কম ঘুম অথবা বেশি সময় বিছানায় থাকা ঠিক নয়।'

গ্রিসের অনাসিস কার্ডিয়াক সার্জারি সেন্টারের ড. ইপামিনোনদাস ফন্তাস এই গবেষণা প্রতিবেদনটি লিখেছেন। তার ভাষ্য, 'আমাদের গবেষণা থেকে দেখা গেছে, 'ঘুম কম হওয়া ও খুব বেশি ঘুমানো- দুটিই হার্টের জন্য ক্ষতিকর।'

তবে তিনি এ কথাও জানিয়েছে, 'এই গবেষণা এখনো শেষ হয়নি। কেন এমনটা হয়, তা স্পষ্টভাবে জানার জন্য আরো সময় প্রয়োজন। তবে এতটুকু তো আমাদের জানাই যে, ঘুমের কারণে শারীরবৃত্তীয় কিছু প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় হয়- যা হার্টের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের উপর চালানো ১১টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই গবেষণার ফলাফল পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, 'যারা ছয় ঘণ্টার কম ঘুমাতেন অথবা আট ঘণ্টার বেশি তারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে ছিলেন অথবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কার্ডিয়াক নার্স এমিলি ম্যাকগ্রাথ বলেন, 'সুস্থ থাকার জন্য রাতে নির্বিঘ্ন ঘুম খুব জরুরি।'

তবে তিনি এই কথাও বলেছেন, 'ছুটির দিনটায় একটু বেশি সময় যাদের ঘুমানোর অভ্যাস তাদের দুশ্চিন্তায় থাকার দরকার নেই। তবে যারা প্রতিদিন ঘুমের সমস্যায় ভুগেন। তাদের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত।'

আরো পড়ুন :

শিশুর চোখ নিয়ে অবহেলা : হয়ে যেতে পারে মারাত্মক ক্ষতি
নয়া দিগন্ত অনলাইন 

শিশুদের চোখের সমস্যা স্থায়ী হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ সঠিক সময়ে তাদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় না। এবং এই সমস্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।


সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে ব্রিটেনের অ্যাসোসিয়েশন অব অপটোমেট্রিস্টস-এওপি।

তারা ১২শ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করে জানতে পারে যে এরমধ্যে এক চতুর্থাংশ শিশুর বাবা মা তাদের সন্তানদের সঠিক সময়ে চোখ পরীক্ষা করান না।

এছাড়া বাবা মায়ের ওপরে জরিপ চালিয়ে জানা যায় যে, তাদের ৫২ শতাংশই ভাবতেন যে তাদের সন্তানদের চোখ পরীক্ষা বুঝি তাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই দেয়া হবে।

এজন্য তারা আর নিজ উদ্যোগে সন্তানদের চোখ পরীক্ষা করাননি।

এটা ঠিক যে, ব্রিটেনের কিছু স্কুলে চোখ স্ক্রিনিংয়ের সুবিধা রয়েছে।

তবে ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস-এনএইচএস থেকে বিনামূল্যের যে সেবা দেয়া হয়, সেটা এই চোখ স্ক্রিনিং পরীক্ষার চাইতে অনেক ভালো।

তবে সঠিক সময়ে শিশুর চোখ পরীক্ষা না করালে, রোগের চিকিৎসার ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

শিশুদের চোখে যে সমস্যাটি হয়ে থাকে :
বিশ্বের প্রতি ৫০ জন শিশুর মধ্যে একজন চোখের অ্যাম্বলিওপিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

যেটা কিনা ‘অলস চোখ’ নামে পরিচিত। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর একটি চোখ অপরটির তুলনায় দুর্বল হয়ে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে দুটি চোখের দৃষ্টিশক্তিই দুর্বল হতে পারে।

মূলত, এই রোগের ফলে আক্রান্তদের একটি বা উভয় চোখ মস্তিষ্কের সঙ্গে শক্তিশালী সংযোগ সৃষ্টি করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।

এতে ওই শিশুগুলোর দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে বিকাশ লাভ করতে পারে না।

তবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে তা পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কোন বয়সে পরীক্ষা করাতে হবে?
ব্রিটেনের এনএইচএস সুপারিশ করে যে শিশুর বয়স চার বছর হলেই যেন তাদের চোখ পরীক্ষা করানো হয়।

কেননা ছয় বছর বয়সের পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চোখের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শিশুদের চোখের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সঠিক পাওয়ারের চশমা পরানো। সেইসঙ্গে আই প্যাচ ও চোখের ড্রপ দেয়া। যেন তাদের দুর্বল চোখগুলোকে সারিয়ে দৃষ্টি আরও স্পষ্ট করে তোলা যায়।

‘মনে হয়েছে আমি অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ’
জেন থম্পসনের মেয়ে, ইভ। এখন তার বয়স ১৪।

যখন তার বয়স সাত বছর ছিল তখন তার চোখে অ্যাম্বলিওপিয়া রোগটি ধরা পড়ে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইভের ব্যাপারে বলেন যে, তার রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরী হয়ে গেছে, এজন্য ইভকে আই প্যাচিংয়ের চিকিৎসা দেয়া যাবে না।

তবে প্রেসক্রিপশন চশমা ইভের দৃষ্টিশক্তি ঠিক করতে অনেকটা সাহায্য করেছে।

ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের বাসিন্দা জেন থম্পসন তার মেয়ের এই চোখের সমস্যার জন্য এখন নিজেকেই দোষারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার মনে হচ্ছিলো আমি বুঝি অনেক খারাপ একজন অভিভাবক। সত্যিই, কারণ আপনি আপনার সন্তানদের জন্য সবচেয়ে ভালোটাই করতে চান। তারপর উপলব্ধি করেন যে, এই সমস্যাটা যদি আগেই খুঁজে বের করা যেতো। কিন্তু আপনি এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন না। এটা মেনে নেয়াটা সত্যিই অনেক কঠিন।’

মিস্টার থম্পসনের মেয়ে ইভ বলে, ‘আমি সবসময় শুধু আমার ডান চোখ দিয়েই দেখতাম। তখনও আমি বুঝতে পারিনি যে কোনো সমস্যা আছে কিনা। কিন্তু চোখ পরীক্ষার সময় যখনই আমার ডান চোখটা ঢেকে দেয়া হল তখন দেখি আমার সামনের সব জিনিসই ঝাপসা, অস্পষ্ট। খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি আমার বাম চোখ দিয়ে প্রায় দেখিই না।’

উল্টোটা ঘটেছে নিকোলা রোথেরার ৫ বছর বয়সী মেয়ে ক্লোইর সঙ্গে।

ক্লোইর বয়স যখন তিন বছর তখন তার চোখ পরীক্ষায় অ্যাম্বলিওপিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

তবে বয়স কম থাকায় ক্লোইকে পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে আই প্যাচের চিকিৎসাই যথেষ্ট ছিল।

ব্র্যাডফোর্ডের বাসিন্দা নিকোলা বলেন, ‘যদি আমি ‌আমার মেয়ের চোখের অসুস্থতা ওই অবস্থাতেই ফেলে রাখতাম। তাহলে বাম চোখটি হয়তো এখনকার মতো স্বাভাবিক হতো না। আর এটা তার ভবিষ্যৎ জীবনকে সীমাবদ্ধ করে ফেলত।’

তাই একটি নির্দিষ্ট বয়সে শিশুর চোখ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে মনে করেন মিসেস নিকোলা।

মিসেস নিকোলা বলেন, ‘অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে তারা হয়তো ছয় বছর বয়সে, অথবা তার চেয়েও বেশি বয়সে তাদের প্রথম চোখ পরীক্ষা করিয়েছে। কিন্তু ততদিনে হয়তো সেই রোগ সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি কারও চোখে সমস্যা থাকে। তাহলে সেটা সঠিক সময়ে নির্ণয় করা গেলে হয়তো পুরোপুরি ঠিক করা সম্ভব।’

জেনে রাখা জরুরি:
অ্যাসোসিয়েশন অফ অপটোমেট্রিস্টস (এওপি) এ বিষয়ে আরও ১২৪৬ জন প্র্যাকটিসিং অপটোমেট্রিস্ট অর্থাৎ সেবায় নিয়োজিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের ওপর গত বছর একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে,

১. ৭৪% শতাংশ চিকিৎসকই জানান যে তাদের কাছে যেসব শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছিল, তাদের রোগটি আরও আগে সনাক্ত করা গেলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আরও সফলভাবে সমাধান করা যেত।

২. এর মধ্যে, ৮৯% পরীক্ষাতেই অ্যাম্বলিওপিয়া রোগটি নির্ণয় হয়। যদি তারা আরও আগে চিকিৎসা নিতে আসতো তাহলে আরো ভালো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হতো।

এওপি এর ফারাহ টপিয়া জানান, ‘শিশুর দৃষ্টিশক্তি বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে তার চোখের অবস্থা সম্পর্কে জানা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া অনেক জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বলিওপিয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসা আগেভাগে করালে দৃষ্টিশক্তি ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।’

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সব শিশু এনএইচএস তহবিলের আওতায় বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা করাতে পারে।

শিশুদের চোখের পরীক্ষায় আপনার আশেপাশে এ ধরণের আর কি কি সুযোগ সুবিধা রয়েছে সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করে তোলা ভীষণ জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসক ফারাহ টপিয়া।

এ ব্যাপারে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে এওপি। সেখানে তারা সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন তহবিল বা সুবিধার আওতায় শিশুদের প্রতিবছর চিকিৎসকের পরামর্শ চোখ পরীক্ষার ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন করে থাকেন।

সূত্র : বিবিসি

দেখুন:

আরো সংবাদ