২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যতœ

-


ডায়াবেটিসের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাগুলোর মধ্যে পায়ের সমস্যা অন্যতম। অপ্রিয় হলেও সত্য অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সম্পর্কে উদাসীন। দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণে পা হারানোর কথা বাদ দিলে অন্য যেসব কারণে অপারেশন করে পা কেটে ফেলতে হয় তার প্রায় ৫০ শতাংশই এর জন্য দায়ী ডায়াবেটিসজনিত পায়ের গ্যাংগ্রিন। অঙ্গহানির কারণে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব। এই জাতীয় পায়ের সমস্যার জন্য মূলত দায়ী ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুরোগ ও রক্তনালীর রোগ। এর মধ্যে বেশির ভাগই স্নায়ুরোগের কারণে এবং কিছু ক্ষেত্রে দুটোরই ভূমিকা থাকে। এর সাথে যোগ হয় বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের ক্ষতিকর প্রভাব। ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুরোগ যেভাবে পায়ের ক্ষতি করে তা হলোÑ
ষ পায়ের স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে একই স্থানে বারবার ছোটখাটো আঘাত যা চামড়ায় ক্ষত সৃষ্টি করে।
ষ স্নায়ুরোগের কারণে পায়ের মাংসপেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শরীরের ওজন সঠিকভাবে বহন করতে না পারায় পায়ের আকৃতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং এর জন্য পায়ের কোনো কোনো স্থানে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে।
ষ ঘাম নিঃসরণকারী গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় পায়ের চামড়া শুষ্ক ও খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফলে ইনফেকশনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
ষ রক্তনালীগুলোর ওপর স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পায়ের সব অংশে প্রয়োজনীয় রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ডায়াবেটিসজনিত রক্তনালীর রোগ ও পায়ের সমস্যাÑ
ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহে বিঘœ ঘটে, যার জন্য বিশেষ করে পায়ে কোনো ক্ষত সহজে সারতে চায় না। ক্ষেত্রবিশেষে পচন পর্যন্ত ধরতে পারে।
কারো কারো পায়ে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি
ষ যাদের ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুরোগ বা রক্তনালীর রোগ আছে।
ষ আগে যাদের পায়ে একবার ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল।
ষ যাদের পায়ের আকৃতি পরিবর্তন হয়েছে যেমনÑ আঙুল ভাঁজ হয়ে যাওয়া।
ষ যাদের পায়ে কোনো স্থানে চাপ পড়ার ফলে কড়া (ঈধষষঁং) পড়ে।
ষ যাদের দৃষ্টিশক্তি কম।
ষ বয়োবৃদ্ধ রোগী যারা একা থাকেন।
ষ যাদের ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ আছে।
ষ শারীরিক অসুবিধার জন্য যারা নিজে থেকে পা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন না।
ষ সর্বোপরি ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।
পায়ের সমস্যা এড়াতে করণীয়
ষ প্রতিদিন পরিষ্কার পানিতে পা ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে আঙুলের ফাঁকসহ পুরো পা মুছে ফেলুন এবং পরীক্ষা করে দেখুন যাতে ছোটখাটো আঘাত দৃষ্টি না এড়ায়।
ষ কারো পা বেশি শুষ্ক থাকলে অলিভওয়েল লাগাতে পারেন।
ষ নখ কাটার সময় খেয়াল রাখুন যাতে নখে কোনাগুলো বেশি কাটা না হয়।
ষ জুতা পরার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন জুতার ভেতরে বা বাইরে আলপিন বা অন্য কিছু আছে কি না।
ষ জুতা কেনার সময় হাইহিল ও আঁটোসাঁটো জুতা কিনবেন না।
ষ উত্তপ্ত জিনিস যেমন হট ওয়াটার ব্যাগ ইত্যাদি থেকে পা দূরে রাখেন।
ষ ঘরে বা বাইরে খালি পায়ে হাঁটবেন না।
ষ ধূমপান পরিহার করুন ও কোনো অসুবিধা হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৬২৮৮৮৫৫
ফোন : ০১৬৭৩৪৪৯০৮৩ (রোমান)

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme