২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গল্ডগণ্ড বা গয়টার

থাইরয়েড গ্লাড ফুলে যাওয়াকে গল্ডগণ্ড বলে - সংগৃহীত

মানব দেহের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধি বৃদ্ধি এবং শরীরের যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদনে বিভিন্ন গ্লান্ড জড়িত। এর মধ্যে অ্যান্ডোক্রাইন গ্লান্ড অন্যতম। থাইরয়েড গ্লাড এমনই একটি অ্যান্ডোক্রাইন গ্লান্ড। এই গ্লান্ড ফুলে যাওয়াকে গল্ডগণ্ড বা গয়টার বলে।

থাইরয়েড গ্লান্ডের অবস্থান কোথায়?
গলার সামনে মাঝামাঝি এর অবস্থান।

থাইরয়েড গ্লান্ডের কাজ কী?
থাইরক্সিন নামক হরমোন এই গ্লান্ড তৈরি করে। এই হরমোন শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
থাইরয়েড হরমোন কম বেশি হলে কী হয়?
জন্ম থেকে এই হরমোন কম বা ঘাটতি হলে শিশু শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায় এবং বড়দের ক্ষেত্রে এর অভাবে মিক্সইডিমা ও হরমোন অধিক হলে থাইরট এক্সকাসিস নামক রোগ হয়।
থাইরয়েড গ্লান্ডের কী কী রোগ হয়?
বহু ধরনের থাইরয়েড গ্লান্ডের রোগ হতে পারে। তার মধ্যে গলগ বা গয়টার কমন।
গলগণ্ড বা গয়টার কী?
থাইরয়েড গ্লান্ড ফুলে যাওয়াকে গলগণ্ড বা গয়টার বলে।

গয়টার বা গলগণ্ড রোগ কত প্রকার?
১। সাধারণ বা সিম্পল গয়টার
এ ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্লান্ডটি ফুলে যায়। হরমোন লেভেল স্বাভাবিক থাকে এবং হরমোনজনিত কোনো সমস্যা থাকে না।
২। মাল্টি নডুলার গয়টার
এখানে থাইরয়েড গ্লান্ডটিতে ছোট বড় অসংখ্য চাকা থাকে। হরমোন লেভেল কম, বেশি বা স্বাভাবিক যে কোনোটি থাকতে পারে।
৩।সলিটারি থাইরয়েড নডিউল
এক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্লান্ডে একটি মাত্র চাকা থাকে
৪। টিউমার গয়টার
থাইরয়েড গ্লান্ডের টিউমারজনিত কারণে এই গয়টার হতে পারে।
৫। থাইরয়েড গ্লান্ডের ক্যান্সার বা ক্যান্সার গয়টার
৬। ইনফেকশনজনিত গয়টার।
৭। স্বাভাবিক গয়টার

প্রেগনেন্সি ও উঠতি বয়সে থাইরয়েড গ্লান্ড অধিক হরমোন তৈরি করে থাকে এবং এই সময় থাইরয়েড গ্লান্ডটি ফুলে যায়। এবং এই ধরনের গয়টারকে স্বাভাবিক গয়টার বলা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে কাজ শেষে থাইরয়েড আবার নরমাল সাইজে ফিরে যায়।

গয়টার বা গলগণ্ডের কারণ কী?
১। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণ জানা যায়নি।
২। খাদ্যে আয়োডিনের অভাব গয়টারের একটি অন্যতম কারণ।
৩। শরীর গঠন বা অধিক বৃদ্ধির সময় স্বাভাবিক গয়টার সৃষ্টি হতে পারে।
৪। কোনো কারণে গলায় রেডিয়েশন দেয়া হলে পরবর্তী থাইরয়েড গ্লান্ডের ক্যান্সার (ক্যান্সার গয়টার) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

— কিভাবে গয়টার রোগ নির্ণয় করা যায়?
স্বাভাবিক অবস্থায় থাইরয়েড গ্লান্ডটি গলার সামনে দেখা যায় না। যখন থাইরয়েড গ্লান্ড ফুলে যায়। অর্থ্যাৎ যখন গয়টার হয়, তখন গলার সামনে মাঝ বরাবর ঢুকে গিলার সাথে গ্লান্ডটিকে উপর নিচ উঠা নামা করতে দেখা যায় দ্বিতীয় রক্তে হরমোন লেভেল দেখে এটা সিম্পল না টঙ্কি বলা যায়। সিম্পলগয়টারে হরমোন লেভেল স্বাভাবিক এবং টঙ্কিগয়টারের ক্ষেত্রে হরমোন লেভেল রক্তে বেড়ে যায়। তা ছাড়া, হরমোন লেভেল কম বা বেশি হলে বিভিন্ন প্রকার উপসর্গও লক্ষ করা যায়। গ্লান্ডের কষ পরীক্ষা (ঋঘঅঈ) করে ও রোগ নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসা : থাইরয়েড গ্লান্ডটি যেকোনো কারণেই একবার ফুলে গেলে এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আর স্বাভাবিক পর্যায় ফিরে যায় না। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
কেন সার্জারি বা অপারেশন লাগে?
১। দেখতে কুৎসিত বা অসুন্দর লাগে।
২। গ্লান্ডটি ফুলে গিয়ে আশপাশের এরিয়াতে চাপ বা প্রেসার দেয়। যার ফলে শ্বাসকষ্ট বা খেতে-ঢোক গিলতে কষ্ট হতে পারে।
৩। ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
সুতরাং, এই সব কারণে সঠিক রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসার জন্য সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

লেখক : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
জেনারেল লেপারোসকাপিক, কলোরেক্টাল ও ক্যাসার সার্জন। (সার্জারি বিভাগ)
মোবাইল : ০১৭১১-৫৩৩৩৭৩
চেম্বার : সেন্ট্রাল হাসপাতাল লি:, বাড়ি ২,
রোড # ৫, গ্রিন রোড ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫


আরো সংবাদ