২৬ এপ্রিল ২০১৯

বিষন্নতায় মুখের মারাত্মক সমস্যা

ট্রাইসাইক্লিক বিষন্নতানাশক ওষুধ সেবনের কারণে মুখ শুকিয়ে যায় - সংগৃহীত

যদি আপনি দিনের পর দিন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন এবং এ অবস্থা ছয় মাস বা তার অধিক সময়ব্যাপী স্থায়ী হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনি সার্বিক দুশ্চিন্তাযুক্ত ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। এক কথায় আপনি দুশ্চিন্তাযুক্ত অচলাবস্থার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আপনার মুখের অভ্যন্তরে প্রদাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি কথা খেয়াল রাখতে হবে, দুশ্চিন্তা যেন আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করে। আর যদি করে, তবে মুখের অসুখ কেন, কোনো অসুখই আপনার সহজে ভালো হবে না এটাই স্বাভাবিক।

দুশ্চিন্তা ক্রমাগত চলতে থাকলে আপনি একসময় বিষন্নতায় আক্রান্ত হবেন। বিষন্নতাগ্রস্ত রোগীদের সচরাচর যে সমস্যায় ভুগতে হয় তা হলো শুষ্ক মুখ। সাধারণত ট্রাইসাইক্লিক বিষন্নতানাশক ওষুধ সেবনের কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ওরাল ক্যান্ডিডোসিস হতে পারে এবং দন্তক্ষয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। শুষ্ক মুখের কারণে লালার প্রবাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণে দন্তক্ষয় থেকে শুরু করে মুখের নানাবিধ রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে বিষন্নতানাশক ওষুধ সেবনের কারণে খাবারের স্বাদ গ্রহণে ব্যাঘাত ঘটে এবং রোগীরা তাদের খাবারে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চান। এ অবস্থায় অনেক সময় বিষন্নতানাশক ওষুধ পরিবর্তন করে ভালো ফল পাওয়া যায়।

বিষন্নতায় মুখে যে সব সমস্যা হয় সেগুলো হলো : (ক) ব্যতিক্রমধর্মী মুখের ব্যথা; (খ) বার্নিং মাউথ সিনড্রোম- এ ক্ষেত্রে রোগী মুখে ও জিহ্বায় জ্বালাপোড়ার অভিযোগ করে থাকেন; (গ) টেস্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট বা চোয়ালে ব্যথা হতে পারে। যারা অনবরত মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তাদের শরীরে কর্টিসলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার কারণে মাড়ি ও শরীরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর মাড়ি রোগ বেশি পরিমাণে হলে আপনার হৃদযন্ত্রেও সহজেই সংক্রমণ বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই এ বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। মানসিক চাপ বা বিষন্নতার কারণে ৫০ শতাংশ মানুষ ঠিকভাবে বা নিয়মিতভাবে দাঁত ব্রাশ বা ফ্লস করেন না। বিষন্নতা, মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে শরীর ও মুখের যত্ন ঠিকভাবে নেয়া সম্ভব হয় না।

আবার অনেক ক্ষেত্রে বিষন্নতাগ্রস্ত রোগীদের মাঝে ধূমপান, অ্যালকোহল সেবনের মতো বদভ্যাস গড়ে ওঠে। এ ছাড়া মানসিক চাপ বা বিষন্নতাগ্রস্ত রোগীদের কেউ কেউ নিজের অজান্তেই দাঁত কিড়মিড় করতে পারে, যা ব্রুকসিজম নামে পরিচিত। অনবরত মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অবদমিত বা অকার্যকর করে বা করার চেষ্টা করে থাকে। পাশাপাশি ক্রমাগত মানসিক চাপে বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। মানসিক চাপে ক্যাটেকোলামাইন নামক হরমোন বৃদ্ধি পায়। মানসিক চাপের কারণে সাপ্রেসর টি সেলের লেভেল বৃদ্ধি পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অবদমিত করে থাকে বা ব্যাহত করে। যখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এ অংশ বা শাখাটি অকার্যকর হয় তখন মানুষের শরীরে ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যেমন ঠাণ্ডা এবং ফ্লু দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপের কারণে রক্তে হিস্টামিন নিঃসরিত হয়ে থাকে, যার কারণে এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে। সব চেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- ক্রমাগত বিষন্নতা বা দুশ্চিন্তায় আপনার মুখের অভ্যন্তরে জ্বালাপোড়া ভাব অনুভূত হতে পারে, যা বার্নিং মাউথ সিনড্রোম নামে পরিচিত। বার্নিং মাউথ সিনড্রোম বা মুখের জ্বালাপোড়া অনেক সময় মাসের পর মাস চলতে পারে। তাই বর্তমান অস্থির সমাজে সব বাধা অতিক্রম করে আমাদের অবশ্যই দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবনযাপন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আমরা যেন একটি দুশ্চিন্তা সমাধান করতে গিয়ে আরেকটি দুশ্চিন্তায় জড়িয়ে না পরি। আর সমাজে কেউ বিষন্নতায় আক্রান্ত হলে তাকে যেন কেউ কোনো বিদ্রুপ না করে এবং সহযোগিতার হাত বাড়ায়। অন্যথায় বিষন্নতায় আক্রান্ত রোগীর অবস্থার আরো অবনতি ঘটে থাকে।

মুখের অভ্যন্তরে যেসব আলসার সহজে ভালো হয় না, সেসব ক্ষেত্রে রোগীর প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে। সবাই সবার দিকে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে একদিকে যেমন অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব, অন্য দিকে সুস্থ সুন্দর একটি জীবন সমাজকে সামনের দিকে ও প্রগতির দিকে অগ্রসর করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ফোন : ০১৮১৭-৫২১৮৯৭

 

আরো পড়ুন : শিশুর জন্য জিংক

অধ্যাপিকা ডা: ওয়ানাইজা রহমান

শিশুদের জন্য জিংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, জিংক সাপলিমেন্ট যে সব শিশুরা পেয়েছে তাদের মাঝে শিশু মৃত্যুর হার কম। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় জিংক শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামক রোগ, নিমোনিয়া এসব রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে জিংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কম ওজনের শিশুদের জন্যও জিংক প্রয়োজন। জিংক শিশুদের ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। জিংকের অভাবে শিশুদের এক্সোডার্মাটাইটিস হতে পারে। এতে শিশুর ঠোঁটে, জিভে লালচে ঘা হতে পারে। পায়ুপথেও ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ডায়রিয়া হয়। প্রতিদিন আধা চামচ দিনে দুইবার জিংক সিরাপ শিশুর জন্য প্রয়োজন। শিশুর সুস্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে জিংক সাপলিমেন্ট দিন।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat