১৭ নভেম্বর ২০১৮

পেট পুরে খাবেন কিন্তু মেদ জমবে না, কীভাবে সম্ভব?

গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করলেও দেহে মেদ জমবে না, এমন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব - সংগৃহীত

আপনি যতই চর্বিযুক্ত খাবার খান না কেন, গায়ে মেদ জমার সুযোগ থাকবে না - এও কি সম্ভব?

হ্যাঁ, সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন গবেষক এমনটাই জানিয়েছেন। তারা জানান, বিশেষ এক ধরণের ওষুধের মাধ্যমে মানবদেহে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া সম্ভব।

এই গবেষণার সহ রচয়িতা ও গবেষক ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান এরিখম্যান জানান খুব সহজেই আবিষ্কার করা যেতে পারে এ ধরণের ওষুধ।

এরিখম্যান বলেন, "আমার যতটুকু জানতে পারি, চর্বি পাকস্থলিতে জমা হয়। রসবাহী ধমণী (লিম্ফ্যাটিক ভেসেল), যেগুলোকে ল্যাকটিওস বলা হয়, এর মাধ্যমে চর্বি জমা হয় পাকস্থলিতে।"

এরিখ্যম্যান জানান, চর্বি উপাদানগুলো ছিদ্রের মাধ্যমে সহজেই ল্যাকটিওসের ভেতরে প্রবেশ করে। এই ছিদ্রগুলোকে বলা হয় 'বাটন'।

ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা কিছু ইঁদুরের ওপর একটি পরীক্ষা চালান গবেষকরা। ইঁদুরগুলোর দেহে অবস্থিত ল্যাকটিওসে ওই 'বাটন' বা ছিদ্রগুলো ছিল না। যার ফলে ছিদ্রের মাধ্যমে ইঁদুরের দেহে চর্বি প্রবেশ করার বা জমার কোনো সুযোগ ছিল না।

তিনি বলেন, "দুটি জিন পরিবর্তন করে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে এই ইঁদুরগুলোকে। আমাদের তৈরি করা ইঁদুরগুলোর দেহের ল্যাকটিওসে ওই ছিদ্রগুলো নেই। কাজেই উচ্চ মাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার খেলেও ইঁদুরগুলোর ওজন খুব একটা বাড়েনি।"

গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন এই প্রভাবগুলো প্রাণীর দেহে কোনো ওষুধের মাধ্যমে তৈরি করা যায় কিনা। এমন একটি ওষুধ যা ল্যাকটিওসের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে এবং চর্বি শোষণ থেকে বিরত রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্লুকোমা রোগীদের জন্য এই ধরণের ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জাপান ও চীনেও বিশেষ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা এধরণের ওষুধের বিধান দিয়ে থাকে বলে জানান এরিখম্যান।

"আমাদের ধারণা, এই ধরণের ওষুধ ওজন কমানো এবং মানবদেহে স্থূলতার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে।"

তবে মানুষের দেহে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের আগে কি পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত এবং এর পরিণাম কি হতে পারে সেবিষয়ে সুষ্ঠ যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন এরিখম্যান।

একইসাথে এর ব্যবহারে কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে সেবিষয়েও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এরিখম্যান বলেন, "নতুন কোনো ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করতে ১২ থেকে ১৫ বছর লেগে যায়।"

"এক্ষেত্রে যেহেতু ওষুধ রয়েছেই, সেটিকেই মানবদেহে ব্যবহারের জন্য উপযোগী হিসেবে তৈরি করা যায় কিনা সে বিষয়ে কাজ করার চিন্তা করছি আমরা।"

এরিখম্যান জানান, এই ওষুধের পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের জন্য আগ্রহী অনেকেই।

 

আরো পড়ুন : চিনি-লবণ ও সাথে এক 'সাদা বিষ'

স্বাস্থ্য নিয়ে যারা সচেতন, তারা দুটি ‘সাদা বিষ’ এড়িয়ে চলেন। এগুলো হল চিনি ও লবণ। চিনির বিষয়টা অনেকেরই ভালো করে জানা। অনেকে ভাবছেন লবণ আবার বিষ হলো কীভাবে? আসলে কাঁচা লবণ শরীরের জন্য বিষই। অতিরিক্ত লবণ ক্ষতিকর। কিন্তু এই দুটি বস্তু ছাড়াও নিজের অজান্তেই আরো একটি মারাত্মক সাদা বিষ প্রতিনিয়ত গ্রহণ করে চলেছি আমরা। তার নাম সোডিয়াম গ্লুটামেট বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট। এটি প্রক্রিয়াজাত খাবারের অন্যতম উপাদান। রেস্তরাঁ’র খাবারে এর ব্যবহার সম্পর্কে অনেকেরই কোনও ধারণা নেই। তবে প্রাকৃতিকভাবেই কিছু খাবারে সোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে। সাধারণত এটি সাদা রঙের ক্রিস্টালাইন পাউডার আকারে থাকে। দেখতে অনেকটা চিনি বা লবণের মতোই। স্বাদ-গন্ধ বাড়ানোর একটি উপাদান এটি। স্বাদ বাড়াতে অনেকে এটি খাবারে ঢেলে দেন। কিন্তু ঘটনা অন্য খানে ঘটতে থাকে।

মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম এটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমাণ যদি নগণ্য হয় তবে নিরাপদ হতে পারে এটি। কিন্তু সামান্যতেই দারুণ ক্ষতি ঘটে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি আছে এবং এই উপাদানটিতে সংবেদনশীল, তাদের বিপদের শেষ নেই। বেশি খেলে তো কথাই নেই। বেশিরভাগ প্রক্রিয়াজাত খাবারে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে। চিপস, প্যাকেটজাত স্যুপ, ক্যানের খাবারে এটা প্রচুর দেয়া হয়। এসব খাবার অস্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণই হলো এই বস্তুটির উপস্থিতি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে মেলা এই উপাদানটি একই। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবারে এটি থাকে বেশি পরিমাণে। তাই সেগুলি খুব ক্ষতিকর। ক্যানে থাকে এমন সসেজ, চিপস, স্যুপ, হট ডগস, বিয়ার এবং আরো এ ধরনের অনেক খাবারে এটি থাকে। আর প্রকৃতিগতভাবে পনির, টোম্যাটো সস, ওয়ালনাট, ডাল, গম ইত্যাদিতেও থাকে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট। এ কারণে ওই সব খাবার আরও বেশি খেতে মন চায়। অতিরিক্ত খাওয়ার নেশা চাপে। স্থূলতা এবং বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়।

খাওয়ার পর মাদক যেমন মস্তিষ্কের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে, একই আচরণ করে এই উপাদানটি। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারে সোডিয়াম গ্লুটামেট থাকার কারণে ডায়াবেটিসও দানা বাঁধে। অ্যাড্রিনাল স্ট্রোকের ঝুঁকি বয়ে আনে এই উপাদান। কাজেই এখন থেকে তৃতীয় এই সাদা বিষ থেকে সাবধান হতে শুরু করুন।


আরো সংবাদ

সকল