২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অ্যাজমা রোগে যোগ ব্যায়াম

-

মেডিক্যাল সায়েন্স বলে, হাঁপানি সারে না। আমরা কেউই মেডিক্যাল সায়েন্সের ঊর্ধ্বে নই। সে জন্য সরাসরি না বলে একটু ঘুরিয়ে বলতে পারি, প্রত্যেক দিন যোগাসন করলে এক দিনও হাঁপানি আক্রমণ করতে পারবে না। তার মানে কিন্তু এই নয় যে, যার হাঁপানি নেই, যোগাসন করলে তাকে কোনো দিনই হাঁপানি আক্রমণ করবে না। যার হাঁপানি আছে নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করলে তার হাঁপানি সেরে যাবে। হাঁপানি আসলেই কোনো রোগ নয়, এটি একটি উপসর্গ মাত্র। ভেতরের রোগটির জন্যই মানুষ হাঁপাতে থাকে। তবে সাধারণভাবে এ রোগকে সবাই হাঁপানি বলেই উল্লেখ করে থাকে।
বিভিন্ন কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। সর্দি-কাশি থেকে ব্রঙ্কাল অ্যাজমা হতে পারে। ধুলাবালি থেকে হাঁপানি হতে পারে। বংশগত কারণে এই রোগ হতে পারে। এই রোগ আসলে নিঃশ্বাসের। ফুসফুস প্রয়োজনমতো বাতাস টানতে পারে না, প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ফুসফুসে পৌঁছায় না। যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা যেটা করি সেটা হলো, ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করা। কতগুলো ব্যায়ামের সাহায্যে ফুসফুসকে সক্রিয় করে তোলা যায়।
তবে এসব ব্যায়াম এবং আসন রোগের অবস্থা বুঝে করতে হয়। যেমনÑ নিঃশ্বাসের কষ্ট দুই রকমের হতে পারে। কারো শ্বাস টানতে কষ্ট হয়, কারো শ্বাস ফেলতে কষ্ট হয়। কেউ দীর্ঘ দিন ধরে এই রোগে ভোগেন, আবার কেউ অল্প দিন ধরে ভুগছেন।
হাঁপানি রোগীকে কী কী যোগ ব্যায়াম বা আসন করতে হবে। এগুলো খুবই সহজ ব্যায়াম। যে কেউ করতে পারবেন।
১. ডিপ ব্রিদিং উইথ চেস্ট এক্সপ্যানশন : সোজা হয়ে দাঁড়ান। হাত দু’টি সোজা করে সামনের দিকে তুলুন। হাতের পাতা দু’টি একসাথে থাকে। এবার জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে হাত দু’টি বুকের দু’পাশে ছড়িয়ে নিয়ে আসুন, একই সাথে গোড়ালি উঁচু করতে হবে। এবার নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে হাত দু’টি আগের অবস্থায় নিয়ে আসুন। ১০ বার করুন। একটু বিশ্রাম নিন। এভাবে তিনবার করুন, না পারলে পাঁচবার করে।
২. সিট আপ : চিত হয়ে শুয়ে পড়–ন। দু’হাত মাথার পাশ দিয়ে সোজা করে রাখুন। এবার আস্তে আস্তে হাত সোজা রেখেই কোমর বাঁকিয়ে দু’হাতের আঙুল দিয়ে দু’পায়ের পাতা স্পর্শ করুন। আবার হাত সোজা রেখেই আস্তে আস্তে চিত হয়ে শুয়ে পড়–ন।
৩. লেগ ক্রসিং : পা সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়–ন। এবার দু’টি পা-ই ৪৫ ডিগ্রি উঁচু করে তুলে ধরুন। এবার দু’টি পা-ই এক সাথে ওপর-নিচ করে ক্রস করতে থাকুন। ২০ বার করে না পারলে ১০ বার করে করুন। মনে রাখতে হবে প্রত্যেকটি ব্রিদিং এক্সারসাইজের পর একটু বিশ্রাম নিতে হবে। সাধারণ ডিপ ব্রিদিং নেবেন। সব এক্সারসাইজের পর তিন থেকে পাঁচ মিনিট শবাসনে বিশ্রাম নেবেন। হাঁপানি আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্রিদিং এক্সারসাইজ ছাড়াও আপনাকে কয়েকটি যোগাসন করতে হবে।
৪. উপবিষ্ট পবনমুক্তাসন : পা দু’টি সোজা করে ছড়িয়ে বসুন। এবার বাম পাটি মুড়ে বাম দিকের বুকের সাথে বা হাঁটু দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে চেপে ধরুন। ২০ বার গুনুন। এবার আস্তে আস্তে পা ছেড়ে দিয়ে সোজা করুন। একইভাবে ডান পা ডান বুকে চেপে ধরুন। ২০ বার গুনতে থাকুন। গোনা হয়ে গেলে দু’পা সোজা করুন। শবাসনে বিশ্রাম নিন।
৫. অর্ধ কুর্মাসন : বজ্রাসনে বসুন। হাত দু’টি জড়ো করে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে মাথা মাটিতে ছোঁয়ান। পেট এবং বুক উরুর সাথে লেগে থাকবে। ২০ বার পর্যন্ত গুনুন। নিঃশ্বাস নিতে নিতে উঠে বসুন। তিনবার করুন। শবাসনে বিশ্রাম করুন।
৬. মৎস্যোসন : পদ্মাসনে বসে চিত হয়ে শুয়ে পড়–ন। হাঁটু দু’টি মাটির সমান্তরালে থাকবে। গলা ও মুখ ওপরের দিকে তুলে ঘাড় যথাসম্ভব পেছনের দিতে বেঁকিয়ে দিতে হবে। ব্রমতালু মাটি স্পর্শ করবে। ঘাড় পেছন দিকে বেঁকিয়ে নেয়ার সময় পেট ও বুক ওপরের দিকে তুলে দিতে হবে। ডান হাত দিয়ে বাম পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন।
পদ্মাসনে বসতে কষ্ট হলেও বা না পারলে সুখাসনে বসেও এই আসন করতে পারেন। আবার পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে এই আসনটি করতে পারেন। যাদের চেস্ট বা বুকের খাঁচার গঠনে ত্রুটি আছে তাদের জন্য এই আসন খুবই উপকারী।


আরো সংবাদ