২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জেনিটাল হার্পিস

-


বাংলাদেশে বিভিন্ন যৌনব্যাধির প্রকোপ যেন বেড়ে চলেছে। ফলে আমাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ রোগগুলোর বেশির ভাগই ছোঁয়াচে অর্থাৎ সহজে একজন থেকে অন্যের দেহে ছড়িয়ে যায়। ফলে এর প্রভাব আমাদের পারিবারিক জীবনেও পড়ে। এ রোগগুলোর অন্যতম জেনিটাল হারপিস। এটি ভাইরাসবাহিত একটি যৌনরোগ, যা পুরুষ ও মহিলার নাভীর নিচে যৌনাঙ্গকে আক্রমণ করে।
কারণ : ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে হারপিস সিমপ্লেক্স টাইপ-২ এবং ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে হারপিস সিমপ্লেক্স টাইপ-১ এ রোগ হওয়ার একমাত্র কারণ।
লক্ষণ : বিশেষ লক্ষণগুলো হলোÑ
আক্রান্ত স্থানের ত্বক লাল হয়ে তার ওপর ব্যথাযুক্ত ফুসফুড়ি তৈরি হয়।
ষ কয়েক দিনের মধ্যে ফুসকুড়িগুলো ফেটে ঘা হয়ে যায়।
ষ ফুসকুড়িগুলো বারবার একই জায়গায় হয়।
ষ মহিলাদের মাসিকের রাস্তা হয়ে পানির মতো রস বের হয়।
ষ প্রস্রাবের সময় ব্যথা যা সাধারণত প্রথম আক্রমণ ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয় এবং পরবর্তী আক্রমণ ৭-৮ দিন স্থায়ী হয়। আক্রমণ স্থানের আশপাশের গ্রন্থিগুলো ব্যথাযুক্ত হয়ে ফুলে উঠতে পারে।

রোগ নির্ণয় পরীক্ষা
ষ রক্তের রুটিন পরীক্ষা
ষ রক্তের বিশেষ কয়েকটি পরীক্ষা, যেমনÑ রক্তের সুগার, ভিডিআরএল টেস্ট, টিপিএইচ এবং এইচবিএসএজি পরীক্ষা
ষ ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা
ষ ভাইরাস এন্টিবডি শনাক্তকরণ
ষ ভাইরাস স্পেসিফিক পরীক্ষা পাঞ্চ বায়োবসি
চিকিৎসা : তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনÑ
জেনারেল : উত্তেজক ফ্যাক্টরগুলো শনাক্ত করে দূর করা, জ্বরজনিত সমস্যার চিকিৎসা করা, আক্রান্ত সময়ে যৌনমিলন এড়িয়ে চলা।
লোকাল : এন্টিসেপটিক এন্টিভাইরাল ক্রিম প্রয়োগ।
সিস্টেমিক : বিশেষ মাত্রায় এন্টিভাইরাল থেরাপি। তবে রোগটির আক্রমণ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন স্বল্পমাত্রার এ ওষুধটি চালিয়ে যেতে হবে।
রোগটি যৌনবাহিত ও ছোঁয়াচে বলে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই রোগীকে চলাফেরা ও দাম্পত্য মিলনে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখবেন চিকিৎসকের কাছে যেতে দ্বিধা ও সংকোচ রোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

লেখক : ত্বক, যৌন ও এলার্জি বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
ফোন : ০১৭২৭-০৯০৪৯৯


আরো সংবাদ