২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ব্রণ ও ব্রণজনিত সমস্যায় চিকিৎসা

-


সুন্দর মুখশ্রী নষ্ট হয়ে অসুন্দর, ক্ষত ও অবাঞ্ছিত দাগ কার নয় দুশ্চিন্তার কারণ। আর বিশেষভাবে সুন্দরী ললনাদের জন্য বয়ে আনে এক দুঃসহ যাতনা। উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি একটি দারুণ মন কষ্টের এবং যেন এক সামাজিক আতঙ্ক। ব্রণ বা একনি হচ্ছে সিবেসাস গ্লান্ডের গোলযোগসংক্রান্ত ত্বকের একটি খুব প্রচলিত রোগ। সিবেসাস গ্লান্ডগুলো (মষধহফ) মাথা ও মুখসহ মানব দেহের সর্বত্র ত্বকের নিচে হেয়ার ফলিকল বা কেশ গর্ভের গায়ে অবস্থান করে। এরা সিরাস নামে এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ ক্ষরণ করে, যা লোমকূপ দিয়ে দেহের বাইরে এসে মুখ ও গাত্র ত্বককে মসৃণ ও তৈলাক্ত বা তেলতেলে রাখে এবং চুলকে ও তৈলাক্ত রাখে। এর ফলে ত্বকের কোষগুলো নরম থাকে এবং অকালে শুকিয়ে বা কুচকে যায় না। ত্বকের যেসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র বা লোমকূপ দিয়ে সিরাম বের হয় সেগুলো কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে সিরাম বাইরে আসতে পারে না। তা জমতে থাকে এবং এক সময় চামড়া ঠেলে ওপরে ওঠে। ফলে পিমপেল (ঢ়রসঢ়ষব) বা ফুসকুড়ির মতো দেখায় অনেক সময় ব্যাক্টেরিয়াল (ইধপশঃবৎরধষ) ইনফেকশন হয়ে পুঁজ ও জমেÑ এগুলোকেই ব্রণ বলে।
সাধারণত ১২-১৪ বছর বয়স হতে ২৮-৩০ বছর বয়স পর্যন্ত মুখে ব্রণ দেখা দেয়। ২০-২২ বছর বয়সেই সবচেয়ে বেশি থাকে; (১) জন্মগত বা পূর্বপুরুষের ধারা অনুসারে ব্রণ হতে পারে। (২) হরমোন অ্যান্ড্রোজেন, এস্ট্রোজেন সিরাম ও ত্বকে বসবাস কারী জীবাণুদের ইন্ট্রার অ্যাকশন বা ভারসাম্যের গোলযোগ হেতু। বিশেষ করে বয়সন্ধিকালে সেক্স/ঝবী হরমোন ক্ষরণ বৃদ্ধির ফলে সিবেসাম গ্লান্ড (মষধহফ) আকারে বেড়ে যায় এবং কর্মতৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়ে বেশি করে সিরাম বা তেল উৎপন্ন হয়ে ব্রণ ডেকে আনতে সাহায্য করে। (৩) খাবার থেকে অধিক মসলাযুক্ত বা গরম মসলা বেশি খেলে এই রোগ হতে পারে এবং এলার্জিটিক খাবারে বেড়ে যেতে পারে। (৪) যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সর্বদা অবস্থান করে। (৫) অনিয়মিতভাবে দুই-চার দিন পরপর পায়খানা হয় তাদের ব্রণ দেখা দেয়। (৬) অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবাই ব্রণের অন্যতম কারণ হতে পারে এবং রাত জাগরণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নোংরা জীবন যাপন, আলো- বাতাসহীন ঘরে থাকা। (৭) লিভারের ক্রিয়ার গোলযোগ, পেটের পীড়ায় ভোগা। (৮) উত্তেজক বস্তুর ব্যবহার, অতিরিক্ত কসমেটিকস ব্যবহারের কুফল এবং অত্যন্ত গরম ঠাণ্ডা থেকে। (৯) বিসদৃশ ওষুধ সেবনের ফলে এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি খাওয়ার ফলে ব্রণ হতে পারে। (১০) অতিরিক্ত আবেগের ফলে। (১১) মহিলাদের মাসিক ঋতুস্র্রাব দেখা দেয়ার আগে/পরে/সময়ে এবং গোলযোগের ফলে।

লক্ষণানুসারে ব্রণ চার শ্রেণীতে ভাগ করা যায় যথাÑ
১। একনি ভালগারিস এ ব্রণ অতি সাধারণ প্রকৃতির এতে সাদা শাসের মতো থাকে । চার-ছয় দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়। পরে কালো দাগও মিলে যায়।
২। একনি রেজিওলো এটি রক্তিম বর্ণের আশপাশের শিরাগুলো স্ফীত হয়ে উঠে। গরম থাকে। ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি হয়। সহজে আরোগ্য হতে চায় না।
৩। একনি ইন্ডোরেটা আকারে গুটিকার মতো। পরিণত বয়সে এবং পুরুষদের বেলায় বেশি দেখা যায় এবং মাসিক ঋতুর গোলযোগ হেতু।
লক্ষণ
১) ছোট ফুসকুড়ির মতো উদ্ভেদ। ২) গালে মুখে এবং পিঠে বেশি হয়। ৩) ফুসকুড়িগুলো স্ফীত হয়ে, লাল হয়, ব্যথা থাকে। ৪) উদ্ভেদগুলো টিপে দিলে অনেক সময় ভাতের মতো পদার্থ বের হয়। ৫) উদ্ভেদগুলো ধীরে ধীরে মুখমণ্ডলের চার দিকে এবং বুকে পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। ৬) অনেক সময় পেকে পুঁজ হয়ে এবং ব্যথা করতে পারে। চাপের ফলে ফোড়ার আকার ধারণ করতে পারে।
ব্রণে হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো লক্ষণানুসারে সফলতার সাথে ব্যবহার হয়Ñ আর্নিকা মন্ট, ডালকামরা, বেলিসপেরিনামে, ব্যাসিলিনাম, থুজা অক্স, হাইপেরিকাম, বেলাডোনা, কেলিব্লোম, কার্বোলিক এসিড, নেট্রাম মিউর ইত্যাদি।
সতর্কতা
যারা ব্রণে ভোগে তাদের মুখে তেল বা ক্রিম মাখা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করবেন না। ব্রণ মুখে হাত-নখ লাগানো কোনোক্রমেই সমীচীন নয়। বেশি তৈলাক্ত, চুলকানিযুক্ত খাবার বর্জনীয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে।
করণীয়
ডাক্তারের পরামর্শ মতে ওষুধ সেবন, ভালো সাবান দিয়ে আলতুভাবে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার রেখে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে অতি অল্প সময়ে হোমিওপ্যাথিতে ব্রণ এবং ব্রণের দাগ থেকে চিরমুক্তি সম্ভব ইনশাল্লাহ।

লেখক : তানজিম হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ।
চেম্বার : সিটি হোমিও ইন্টারন্যাশনাল ২৩, জয়কালি মন্দির, ঢাকা।
ফোন : ০১৯১২৮৪২৫৮৮


আরো সংবাদ