২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কেন হয়?

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কেন হয়? - ছবি : সংগৃহীত

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সমস্যা কমবেশি অনেকেরই হয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা কম পানি পান করেন তাদের এ সমস্যা বেশি। প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি হয়। এটি কোনো রোগ নয়; রোগের উপসর্গ। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই খুব প্রচলিত সমস্যা। তবে পুরুষের তুলনায় নারীর সমস্যা একটু বেশি হয়।

প্রস্রাবে সংক্রমণ কেন হয়?
জরায়ুমুখের প্রদাহ, যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ বা ক্ল্যামাইডিয়ার মতো জীবাণু সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ ছাড়া তলপেটে ব্যথা, মাসিক ব্যথা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সাবান বা কসমেটিকস বা প্যাডে অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন কারণে প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে। বারবার সংক্রমণ হলে ডায়াবেটিস, কিডনি বা পাথর সমস্যা, মূত্রথলিতে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখে নিন।

প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুয়ায়ী সঠিক মেয়াদে ও সঠিক মাত্রায় সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে। আর যাদের ঘন ঘন সংক্রমণ হয়, তারা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে পারেন।
এসব বিষয়ে জানিয়েছেন এ্যাপোলো হাসপাতালের গাইনি কনসালট্যান্ট ডা: সোনিয়া মুখার্জি।

তিনি বলেন, প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ার সঙ্গে বেশির ভাগ নারীই পরিচিত। বিশেষ করে মধ্য বয়সী ও বয়স্ক নারীদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। প্রস্রাবে সংক্রমণ সন্দেহ হলে অবশ্যই পরীক্ষা করা ও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। যাদের ঘন ঘন সংক্রমণ হয়, তারা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে পারেন।
ডা: সোনিয়া বলেন, মাসিকের সময়, অধিক সময় নেপকিন ব্যবহার, সঙ্গীর প্রস্রাবে সংক্রমণ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াও বিভিন্ন কারণে নারীর প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হতে পারে।

এক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধান হতে হবে। সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই প্রচুর পানি পান করতে হবে।
আসুন জেনে নিই প্রস্রাবে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে-
প্রচুর পানি পান করুন
প্রস্রাবে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রস্রাবে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি।

আমিষ নয়; প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খাওয়া উচিত
মাসিক চলাকালীন আমিষ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় আমিষের বদলে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে হবে।
ঘন ঘন সংক্রমণ
প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুয়ায়ী সঠিক মেয়াদে ও সঠিক মাত্রায় সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে। আর যাদের ঘন ঘন সংক্রমণ হয়, তারা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে পারেন।

পানিপানের পরিমাণ বাড়ান
পানিপানের পরিমাণ বাড়ালে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার সমস্যা কম হবে। পানি শরীর থেকে দূষিত ব্যাকটেরিয়াগুলো বের করে দেবে। এটি প্রস্রাব ঠিকঠাকমতো হতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সমস্যা হলে তরল খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। যেমন ধরুন- স্যুপ, জুস এবং পাশাপাশি পানিজাতীয় ফল ও সবজি খেতে হবে।
গরম চাপ
গরম চাপও দিতে পারেন। এতে ব্লাডারের চাপ কমবে এবং ব্যথা কমবে। এ জন্য আপনি হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন অথবা কোনো কাপড় তাপে গরম করে পেটে ব্যবহার করতে পারেন। একে তলপেটে ৫ মিনিট রাখুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। আবার দিন। এভাবে কয়েকবার করুন।

দই
দইয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া। এটি শরীরের পিএইচের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কমাতে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ দই খান।
সঙ্গীর সঙ্গে মেলামেশা
সঙ্গীর সঙ্গে মেলামেশার আগে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনার সঙ্গীর প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়েছে কিনা। যদি তা হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই মেলামেশা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সঙ্গীর প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে তা আপনারও হতে পারে।

আরো পড়ুন :
দূর হ বিষণ্নতা
ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

‘মন ভালো নেই- এই কথাটা অনেক লোকের মুখেই শোনা যায়। নিত্যদিনের অসুখী ভাব মানুষের মনে জন্ম দেয় বিষণ্নতার। কারণ একমাত্র মনে মধ্যে সীমিত নয়- পারিপার্শ্বিক কারণ জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। বিষণœতা মূলত এমন এক ব্যাধি যা মানুষকে আত্মহননে উৎসাহ জোগায়। যারা সারাক্ষণ বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের মধ্যে দেখা দেয় নানা উপসর্গ। ঘুমের ব্যাঘাত, অবসাদগ্রস্ততা, মাথাব্যথা, বুকে কিংবা পেটে ব্যথা, খাবার গ্রহণে অনীহা, ওজন কমে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, যৌনশক্তি হ্রাস পাওয়া, কোনো কিছুতে মনোনিবেশ না করা- এসব যে নিত্যদিনের সঙ্গী। বিষণ্নতাগ্রস্ত ব্যক্তিদের জীবনের প্রতি চলে আসে প্রচণ্ড হতাশা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের চেয়ে মহিলারাই বেশি করে বিষণ্নতায় ভোগেন। তবে বিষণ্নতার জন্য আত্মহত্যা করে থাকেন পুরুষরাই বেশি। কেন এ বিষণ্নতা।

গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের প্রাপ্তির সঙ্গে যখন স্বপ্নের অসঙ্গতি ঘটে তখন বিষণ্নতা ভর করে। প্রতিদিন একঘেয়ে কাজও বিষণ্নতার এটি কারণ। এ ছাড়া যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করছেন সেগুলো বিষণœতা ঘটাতে পারে। এই ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে রেসারপিন, মেথাইল ডোপা, বেটা বব্লকার প্রভৃতি। হৃদরোগের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ ডিজিটালিস অনেক ক্ষেত্রে বিষণ্নতার কারণ। হাঁপানি, চর্মরোগ, আর্থ্রাইটিস প্রভৃতি অসুখে ব্যবহৃত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বিষণ্নতা ঘটায়। যারা সর্দি-কাশির জন্য নিয়মিত এন্টিহিস্টামিন ওষুধ খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে বিষণ্নতা। যারা থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছেন তারাও বিষাদগ্রস্ত হয়ে ওঠেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের পূর্বে বিষণ্নতায় ভোগার লক্ষণ দেখা দেয়। কেউ কেউ সন্তান প্রসাবের পর হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের জন্য বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। ডায়াবেটিস কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগও বিষণ্নতার জন্য দায়ী। শরীরে পুষ্টির অভাব ঘটলে বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। যৌন কাজে অসফলতা বিষণ্নতার একটি প্রধান কারণ। মোটামুটিভাবে নানা কারণে একজন মানুষ বিষণ্নতায় আক্রান্ত হতে পারে।

কিভাবে দূর করবেন এই বিষণ্নতা
১। কারণ নির্ণয় করুন
অনেকেই জানেন না তিনি কি কারণে বিষণ্নতায় ভুগছেন। মন খারাপ হলে কিংবা কোনো কিছু ভালো না লাগলে তার কারণ খুঁজে বের করুন। যদি কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। আপনি যদি কোনো বিশেষ ওষুধ খেতে থাকেন সে ব্যাপারটা চিকিৎসককে বলুন। কারণ বিভিন্ন ওষুধ নিণœতার সৃষ্টি করে।
২. পৃষ্টিযুক্ত খাবার খান
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ঘটলে বিষণ্নতা দেখা দেয়। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাবে বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। শরীরে লৌহ উপাদানে ঘাটতি বিষণ্নতার জন্ম দেয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন এটা বেশি পরিলক্ষিত হয়। তাই সর্বদা পুষ্টিযুক্ত খাবার খান। ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ যেসব খাদ্যদ্রব্যের রয়েছে সেই খাবারগুলো বেছে বেশি করে খান।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ব্যায়াম অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার বিষণ্নতা কাটিয়ে দেবে। প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় অন্তত এক মাইল মুক্ত বাতাসে হেঁটে আসুন। খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই। স্রেফ হাঁটুন। এ ছাড়া হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। ১০ বার বুক ডন, ওঠবস, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটা এই চারটি বিষয়ের মধ্যে থেকে আপনার পছন্দমতো একটি বেছে নিয়ে অনুশীলন করুন। কেটে যাবে আপনার বিষণ্নতা।

৪. প্রাণ খুলে হাসুন
কখনো মুখ গোমড়া করে থাকবেন না। যেকোনো হালকা বিষয় হলেও হাসতে শিখুন। গবেষণায় দেখা গেছে হাসি ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে।

৫. দুশ্চিন্তাকে তাড়া করুন
মনে রাখবেন, কখনো যেন দুশ্চিন্তা আপনাকে তাড়া না করে বরং আপনি দুশ্চিন্তাকে তারা করুন। জীবনের সবকিছুকে সহজভাবে নিন। মনে রাখবেন, একজন মানুষ এক জীবনে সবকিছু হতে পারে না। আপনি যা হতে পারেননি তার জন্য মনে ক্ষোভ পুষে রাখবেন না। বরং বর্তমান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। বর্তমানকে সাজিয়ে তুলুন আপনার সামর্থ্য দিয়ে।

৬. বেড়িয়ে আসুন কিছু দিন
মাঝে মাঝে একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য স্বস্তি পেতে বেড়িয়ে আসুন অন্য কোনো জায়গা থেকে। আপনার প্রিয়জনকে সঙ্গে নিন। উপভোগ করুন জীবনের অপার মাধুর্য। প্রকৃতিকে উপলব্ধি করুন। সাগর তীরে গিয়ে একেবারে ছেলে মানুষ হয়ে যান। দেখবেন বেঁচে থাকাটা মন্দ না।

৭. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি এসব করেও আপনার বিষণ্নতা না কাটে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকই আপনার ভালো বন্ধু, যিনি বাতলে দেবেন আপনার সঠিক গন্তব্যের দিকনির্দেশনা।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা।
ফোন: ০১৬৭৩৪৪৯০৮৩ (রোমান)

 


আরো সংবাদ