২০ জুলাই ২০১৯

টিভি কার্টুনের কালার পরিবর্তনে খিঁচুনি হয়

-

অনেকক্ষণ টিভি কার্টুন দেখলে এপিলেপসি রোগীর খিঁচুনি বেড়ে যায়। আমেরিকার নিউরোলজি সোসাইটি তাদের সাম্প্রতিক প্রকাশিত বাৎসরিক রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
১৯৯৭ সালে জাপানে এ ধরনের আরেকটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে দেখানো হয়েছিল যে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ৬৮৫ জন শিশু একই সঙ্গে এপিলেপসিজনিত খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়। তাদের সবাই তখন টিভির জনপ্রিয় কার্টুন ‘পকেট মনস্টার’ দেখছিল। গবেষকেরা কালপ্রিট হিসেবে এটাকেই দায়ী করেছিলেন। টিভি কার্টুনের দ্রুত পরিবর্তনশীল আলোকচ্ছটা অথবা ভিডিও স্ক্রিন বা টিভির স্ক্রিনের ছবির আলো পরিবর্তনকে এপিলেপসিজনিত খিঁচুনির অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধরনের খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে তাকে ফটোসেনসিটিভ এপিলেপসি বলে। আলো এবং আঁধারের দ্রুত পরিবর্তন ব্রেনের স্নায়ুকোষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ফটোসেনসিটিভ এপিলেপসির রোগীদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎপ্রবাহ মস্তিষ্কের মাংস পেশির অতিমাত্রায় সংকোচন, এমনকি জ্ঞান হারানোর জন্য দায়ী। ফটোসেনসিটিভ এপিলেপসি একেবারে নতুন কোন ব্যাপার না হলেও এ ধরনের ব্যাপার জাপানিদের দৃষ্টি উন্মোচন করেছে।
কার্টুন দেখার সময় খিঁচুনি হয়েছে এ রকম চারজন বালকের ওপর এক সমীক্ষা চালানো হয়। অবশ্য এদের কেউই খিঁচুনিজনিত রোগে ভুগছিল না। যদিও কারো কারো এ রকম পারিবারিক ইতিহাস ছিল। পৃথক পৃথকভাবে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ও কালার টিভির কার্টুন দেখার সময় ওই বালকদের মস্তিষ্কের ব্রেইন ওয়েভ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সাদা কালো কার্টুনে চারজনের দুজন এবং কালার কার্টুনে চারজনের সবারই ব্রেনে অস্বাভাবিক খিঁচুনি ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। কালার কার্টুনের লাল ও নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের দ্রুত পরিবর্তনশীল আলোকচ্ছটাকে এজন্য দায়ী করা হচ্ছে।
ষ ডা: মৌসুমী রিদওয়ান


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi