২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এই বর্ষায় কিছু নিয়ম মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন

-

বর্ষাকালে যতই বৃষ্টির আনন্দ থাকুক না কেন, অসুখ-বিসুখের প্রকোপ থেমে থাকে না। চার দিকে ভেজা ভেজা পরিবেশ। দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। সর্দি, কাশি, জ্বর, বর্ষার সাধারণ রোগ। এ ছাড়া রয়েছে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো মারাত্মক রোগ। ডেঙ্গুর প্রকোপও দেখা দেয় এ সময়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, বর্ষাকালে আবহাওয়া থাকে স্যাঁতসেঁতে, সে কারণে কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। একটু সাবধানতা অবলম্বন করে চললেই এসব রোগ থেকে রক্ষা পেয়ে বর্ষা কাটিয়ে দেয়া যায় নিরুদ্বিগ্নভাবে। তাই বর্ষায় সুস্থ থাকতে হলে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম।

- যাদের বৃষ্টির পানিতে ভিজলে ঠাণ্ডায় অসুস্থ হওয়ার সমস্যা থাকে, তাদের বৃষ্টিতে ভেজা থেকে দূরে থাকতে হবে। যদি বৃষ্টিতে ভিজে যান তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ভেজা স্থান শুকিয়ে নিতে হবে। ভেজা কাপড় তাড়াতাড়ি পাল্টে নিতে হবে। বৃষ্টির পানি শরীরের যেখানেই লাগুক পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

- বর্ষায় চুলেরও যত্ন নিতে হবে। চুল ভেজা থাকলে গন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া ফাঙ্গাল ইনফেকশন ছড়াতে পারে। সে কারণে বৃষ্টিতে চুল ভিজলে বাসায় এসে চুল মুছে খোলা রেখে ধীরে ধীরে শুকিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষায় খুশকি সমস্যাও দেখা দেয়, সে কারণে একদিন পরপর শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

- বর্ষাকালে যে রোগ বেশি দেখা দেয় তা হলো সর্দি-কাশি বা জ্বর। সাধারণত সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর দু-এক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। বেশি প্রয়োজন হলে প্যারাসিটামল-জাতীয় ট্যাবলেট খেলে কাজ হবে। জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।

- বর্ষায় যেসব রোগ হয় তা সাধারণত পানিবাহিত। অবশ্যই পানি ফুটিয়ে, ছেঁকে পান করতে হবে। গোসল, অজু, কুলি করা, হাত-মুখ ধোয়া, থালাবাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধ পরিষ্কার হতে হবে।

- যাদের অ্যাজমা বা সাইনাসের সমস্যা আছে, তাদের একটু বে+শি সতর্ক থাকতে হবে। শরীর ভেজা রাখা যাবে না। স্যাঁতসেঁতে ঘরে থাকা যাবে না। প্রচুর আলো-বাতাস আসে এমন ঘরে বাস করতে হবে।

- বর্ষায় সাধারণত চর্মরোগ বেশি হয়। চর্মরোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। হাত ও পায়ের নখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

- শিশুদের ক্ষেত্রে বর্ষায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ঠাণ্ডায় শিশুদের টনসিলের ব্যথা এমনকি নিউমোনিয়া হতে পারে। শিশুদের ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। বর্ষাকালে বাড়িতে খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামল-জাতীয় ট্যাবলেট হাতের কাছে রাখুন।

- সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানির সাথে মধু খেলে সারা দিন শরীর চাঙ্গা থাকবে। এ ছাড়া গোসলের সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

- বর্ষায়ও প্রচুর ঘাম হয়ে থাকে। এ থেকে মুক্তি পেতে ঘাম হলেই মুছে ফেলতে হবে। ঘামের কারণে অনেকের পায়ের মোজা থেকে গন্ধ বের হয়। এর জন্য বারবার মোজা বদলে ফেলতে হবে। সুতি মোজা পরতে হবে। মোজা পরার আগে পায়ে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে গন্ধ কিছুটা কমবে। এ ছাড়া ভেজা পা যত দ্রুত সম্ভব শুকিয়ে ফেলতে হবে।

- বর্ষায় শহরাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। এ সময় ডেঙ্গু যেন না ছড়ায় সে জন্য বাসার আশপাশে যেসব জলাধার বা পানি জমে এমন পাত্র সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘরের দেয়ালে যেন পানি পড়ে ফাঙ্গাস না জন্মায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘর যাতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে না থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এ থেকে রোগবালাই হয় বেশি।

- বর্ষায় গ্রামাঞ্চলে পোকামাকড়, সাপ ও জোঁকের উৎপাত বেশি হয়, সে কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

আরো পড়ুন : ঘরে বসে খেলা

শওকত আলী রতন

কিশোর বয়সী সন্তানদের নিয়ে মা-বাবাদের এমনিতেই চিন্তা একটু বেশি থাকে। কারণ এই বয়সীদের মধ্যে আবেগ একটু বেশি থাকে। ভালো-মন্দ তেমন বুঝতে পারে না। ফলে সহজেই চাকচিক্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

আজকাল কিশোর বয়সীরা মোবাইল ফোনে অতিমাত্রায় আসক্ত থাকে আর এ নিয়ে চিন্তিত থাকেন অভিভাবকেরা। অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাটা একজন পরিপূর্ণ মানুষের জন্য যতটা ক্ষতিকর তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে শিশু-কিশোরদের জন্য। কম বয়সের মানুষ এক মিনিট ফোনে কথা বললে মস্তিষ্কে যে কম্পন সৃষ্টি হয় সেটা স্থির হতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। তাই মোবাইল ফোন থেকে যতটা দূরে রাখা যায় শিশু কিশোরদের ততই মঙ্গল।

মার্কিন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১১ বছরের শিশুদের প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এটা নিয়ে গবেষণা না করলেও সংখ্যাটা একেবারে কম হবে না নিশ্চয়ই। আমাদের দেশে বেশির ভাগ কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করে অর্থাৎ কেউ ইন্টারনেটে থাকে আবার কেউ মোবাইলে গেমস খেলে। কিন্তু কিশোরদের জন্য আসক্তি যে কতটা ক্ষতিকারক তা না বুঝেই সন্তানের সাথে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দিয়ে দেন।

শারীরিক-মানসিক দিক দিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এ ব্যাপারে তারা প্রায় উদাসীন। বিশেষজ্ঞদের মতে শিশু-কিশোরদের হাতে আসলে মোবাইল দেয়া একেবারেই উচিত নয়। মোবাইল ফোন শিশুদের জন্য অসম্ভব ক্ষতির কারণ হতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই। শিশু-কিশোরদের এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের ভাবতে হবে সবার আগে, আর এ থেকে পরিত্রাণের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ব্লু হোয়েল গেমস সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি। ব্লু হোয়েল গেমসে আসক্ত হয়ে কয়েকজন কিশোর আত্মহননের পথ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে। অথচ বাবা-মাকে অতি যতেœ গড়া সেই আদরের সন্তানের এমন করুন পরিণতি চোখের সামনে দেখতে হয়েছে। অনেকে মোবাইলের অন্য গেমসগুলোতে আসক্তি হয়ে লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করছে। এ নিয়ে সন্তানের সাথে অভিভাবকদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ সন্তানের হাতে একটি অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন দেয়ার আগে এর কুফল সম্পর্কে একটু সচেতনেতা থাকলে অবশ্যই মোবাইল ফোনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো।

ইনডোর ও আউটডোরে আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই নানা ধরনের খেলার প্রচলন রয়েছে। যেগুলো যুগ যুগ ধরে টিকে রয়েছে আমাদের দেশে। এসব খেলা সহপাঠীদের কিংবা বন্ধুদের নিয়ে খেলা যায় আবার কিছু খেলা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা যায়। ফুটবল ও ক্রিকেটের জন্য আউট ডোরের প্রয়োজন। প্রতিটি এলাকায় কমবেশি খেলার মাঠ রয়েছে। রুটিনমাফিক ও শৃঙ্খলার সাথে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা গেলে শারীরিক গঠনে ভূমিকা রাখবে, তেমনি মানসিকভাবেও বুদ্ধিবৃত্তি ঘটবে। তা ছাড়া, কিশোর বয়সে সন্তানকে ঘরের মধ্যে বন্দী না রেখে বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখালে পরবর্তীতে তার জন্য সহজ হয়।

ইনডোরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা যায় দাবা, লুডু, ব্যাটমিন্টন ও ক্যারম ইত্যাদি। এসব খেলাও মেধা বিকাশে সহায়তা করে। কিশোর বয়সী সন্তানের সাথে অবসর সময়ে এ ধরনের খেলায় অংশ নিলে অবসর সময়ও কাটে, অন্য দিকে নিজের ঘরে এ ধরনের খেলার চর্চার মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার ও আচরণ শিখতে পারবে। তাদের জন্য পরিবারই হচ্ছে ভালো কিছু শেখার ভালো মাধ্যম। সন্তানের আচার-আচরণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না এ বিষয়ে বাবা মাকে রাখতে হবে নজরদারি। তাই আপনার সন্তানের জন্য যা কিছু ভালো তা আপনাকে সবার আগে বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী শিক্ষা দিতে হবে আবার যা কিছু মন্দ তা আপনার মাধ্যমেই পরিহার করাতে হবে।


আরো সংবাদ