১৪ আগস্ট ২০১৮

মানসিক রোগ কী?

মানসিক রোগ
মানসিক রোগ চিকিৎসার প্রধান বাধা হলো রোগীর পরিবারের অজ্ঞতা, সচেতনার অভাব, কুসংস্কার, মানসিক রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা - সংগৃহীত

মানসিক রোগ হচ্ছে রোগীর অস্বাভাবিক আচরণ, অস্বাভাবিক জীবন-যাপন যা মস্তিষ্কের রোগের কারণে হয়। যার জন্য স্বাভাবিক পারিবারিক, সামাজিক, পেশাগত জীবন ব্যাহত হয় অথবা রোগী তীব্র মানসিক যন্ত্রণা বা অস্বস্তিতে ভোগে।

মন কী? মনের কয়টি অংশ?
মন বলতে আমরা ব্রেইনকেই বুঝি। মন মানে হৃদপিণ্ড নয়। আবার মন বলতে আত্মা বা Soul কেও বুঝায় না। মন থাকে মস্তিষ্কে। মনের সাধারণত ৩টি অংশ। ক) সচেতন মন খ) অচেতন মন গ) অবচেতন মন। সচেতন মন, মনের মাত্র ১০ ভাগ। মনের ৯০ ভাগ জুড়ে রয়েছে অচেতন বা অবচেতন মন।

মানসিক রোগ কেন হয়?
প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। কারণগুলোর মধ্যে জেনেটিক বা বংশগত প্রভাব, পরিবেশগত প্রভাব, শারীরিক মানসিক যৌন নির্যাতন, অস্বাভাবিকভাবে শিশুর লালন-পালন, ইন্টারনেট সহ অন্যান্য নেশা দ্রব্যের ব্যবহার, মস্তিষ্কের গঠন জনিত সমস্যা, নিউরো ট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাব, দীর্ঘমেয়াদী অস্বাভাবিক চাপ, এছাড়া মৃগীরোগ, Stroke, ডায়াবেটিকস্, head injury, ব্রেইন টিউমার, কিডনি, যকৃত, হৃদপিণ্ডের ফেইলিয়রও মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।

আমাদের দেশের সাধারণ মানসিক রোগগুলো কী কী?
মানসিক রোগকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। নিউরোটিক এবং সাইকোটিক। নিউরোটিক বলতে আমরা টেনশন, উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক, সূচিবাই, হিস্টিরিয়া, অস্বাভাবিক ব্যাক্তিত্ব, স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, অস্বাভাবিক রাগ বা রাগ নিয়ন্ত্রণজনিত মানসিক রোগ, ইন্টারনেট বা Facebook আসক্তি, যৌন সমস্যা, ঘুমের সমস্যাকেই বুঝি। এদের সংখ্যা অনেক বেশি। সাইকোসিস বা গুরুতর মানসিক রোগ, সিজোফ্রোনিয়া, বাইপলার মুড ডিসঅর্ডার এ মাত্র ১% মানুষ ভোগে।

মানসিক রোগ চিকিৎসার প্রধান বাধাগুলো কী কী?
মানসিক রোগ চিকিৎসার প্রধান বাধা হলো রোগীর পরিবারের অজ্ঞতা, সচেতনার অভাব, কুসংস্কার, মানসিক রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা, রেফারেল না হওয়া ইত্যাদি। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ মানসিক রোগকে জ্বিন ভূতের আছর মনে করে এবং ভণ্ড পীর-ফকিরদের কাছে যায়। এতে তো রোগ ভালো হয়ই না উল্টা জটিল হয়। ভণ্ড পীর-ফকির, কবিরাজরা প্রতারণার মাধ্যমে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। তথাকথিত জিনের বাদশারা সত্যিই বাদশার মতো রাজত্ব করছে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে।

লেখক : মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মনোভূবন সেন্টার, ঢাকা।


অ্যাপথাস আলসার
ডা: নাহিদ ফারজানা

মুখে যত রকমের ক্ষত হয় অ্যাপথাস আলসার তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় এবং প্রায় সবাই কমবেশি এই অ্যাপথাস আলসারের সাথে পরিচিত।

অ্যাপথাস আলসারের কারণ : অ্যাপথাস আলসারের একেবারে সঠিক কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপথাস হতে পারে তা নিম্নরূপ :
১. বংশগতভাবে অনেক সময় অ্যাপথাস আলসার হয়ে থাকে।
২. আঘাতের ফলে হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় দাঁত ব্রাশ করার সময় মুখের কোথাও ব্রাশের খোঁচায় মুখের নরম টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হলে অ্যাপথাস আলসারের রূপ নিতে পারে।
৩. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের মাধ্যমে হতে পারে। যেমন- স্ট্রেপটোকক্কাল ইনফেকশন।
৪. রোগ প্রতিরোধের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে হতে পারে।
৫. দুশ্চিন্তা, মানসিক অবসাদ, উদ্বিগ্নতা ও রাত জাগার কারণে হতে পারে।
৬. ভিটামিন বি১২-এর অভাবে, আয়রনের অভাবে বিশেষ করে ফলিক এসিডের অভাব, মেয়েদের পিরিয়ডের সময় হতে পারে।
৭. হরমোনের অভাবে হতে পারে।
৮. হজমে সমস্যা থাকলে হতে পারে।

কোথায় হয় : গালের নরম অংশে, জিহ্বার পাশে, ঠোঁটের ভেতরে ও মাড়িতে বেশি হয়।

কাদের বেশি হয় :
- ছেলেদের বেশি হয়।
- বয়স্কদের বেশি হয়।
- পেশাদার শ্রমিক, ক্লার্কদের এবং অধূমপায়ীদের বেশি হয়।

অ্যাপথাস আলসারের ক্ষত স্থানটি পাঁচ-সাত মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই ঘায়ের মধ্যকার অংশ হলদে সাদা বর্ণের এবং বাইরে লাল রঙের লাইন দিয়ে সীমাবদ্ধ থাকে। এটা সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে এতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। রোগী খেতে পারে না। মুখ নাড়াচাড়া করতেও সমস্যা হয়।

চিকিৎসা : অ্যাপথাস আলসার নিজে নিজেই সেরে যায়। নিজে নিজেই এটা ছয় থেকে ১০ দিন থাকে। তারপর ভালো হয়ে যায়। তবে এর কিছু চিকিৎসা করলে রোগী আরাম পায়।
- টেট্রাসাইক্লিন নিয়ে কুলি করলে ভালো হয়;
- টাইঅ্যামাসিনোলোন দাঁতের পেস্ট ব্যবহার করা যায়;
- এ ছাড়া পাইরালভেক্স লোশন ব্যবহারেও ভালো হয়।

লেখিকা : ডাইরেক্টর ও ডেন্টাল সার্জন, নাহিদ ডেন্টাল কেয়ার, ১১৭/১, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১২-২৮৫৩৭২

 

আলঝেইমার্স শনাক্ত করার ৫টি উপায়

আলঝেইমার্স (মস্তিস্কের এক ধরনের রোগ যার ফলে কিছু মনে রাখতে না পারে না রোগী) অনেকসময় কয়েকবছর ধরে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুরুর দিকে অনেক সময়ই তা ধরা পড়ে না। কারণ এই রোগের লক্ষণ অন্যান্য অসুস্থতার ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে আনুমানিক সাড়ে ৮ লাখ মানুষ ধরনের সাধারণ ধরনের ডিমেনশিয়ার দ্বারা আক্রান্ত।

তাহলে কিভাবে শনাক্ত করা সম্ভব?

এটি কেবল মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয় ভুলে যাওয়া নয়, আলঝেইমার্স তার চেয়েও বেশি কিছু। কখনো কখনো কারো নাম ভুলে যাওয়া কিংবা জিনিসপত্র কোথাও রেখে সেটি ভুলে যাওযার ঘটনা প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।

ভুলে যাওয়া বার্ধক্যের সাধারণ একটি অংশ। কিন্তু সেগুলো নিশ্চিতভাবে আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার কোনো ফর্ম-এর লক্ষণ নয়।

এটি কেবল ছোট ছোট জিনিস হারানোর মামুলি বিষয় নয়।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া এই রোগের প্রথম লক্ষণ। শর্ট-টার্ম মেমোরি বা স্বল্পমেয়াদে স্মৃতি-বিভ্রাট ঘটায়। ১০ মিনিট আগের ঘটনাও লোকে ভুলে যায় কিংবা কিছুক্ষণ আগের কথা-বার্তাও ভুলে যায়।

স্মৃতিশক্তি সমস্যা মানুষকে পুনরাবৃত্তির কিংবা সম্প্রতি ঘটা কোনো ঘটনার সম্পর্কে মনে করতে দেয় না। অথবা নিত্য-দিনকার কোনো কাজ যেমন কোনো রান্নার রেসিপি বা ব্যাংক কার্ডের তথ্য ভুলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এক কাপ চা তৈরি!

সাধারণ প্রতিদিনকার কাজ কর্মও আলঝেইমার্স এর প্রাথমিক সময়টিতে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এক কাপ চা বানানো খুব জটিল কিছু নয় এবং সেটার জন্য বিশেষ কিছু শিখতেও হয় না। কিন্তু আলঝেইমার্স এটিকে খুবই কঠিন বিষয়ে পরিণত করতে পারে, কেননা পরবর্তীতে কি করতে হবে সেটি ভুলে গেলে তা বিভ্রান্ত করতে পারে অনেককে।

এই অবস্থায় পরিবর্তনগুলো খুব ছোট ছোট হতে পারে কিন্তু তা দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা তার পরিবার হয়তো অনুধাবন করতে পারে যে, ফোন ব্যবহারে সমস্যা কিংবা ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়া। তাদের কথা এবং ভাষায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সঠিক শব্দ খুঁজে পেতেও তাদের অসুবিধায় পড়তে হয়।

আমি এখানে কেন?

আপনি কোথায়? কিংবা সেখানে আপনি কেন?- ভুলে গিয়ে এমন প্রশ্নে কনফিউজড হওয়া আরেকটি সাধারণ ধরনের সংকেত। একজন একেবারে ভুলে যেতে পারে কোথাও যাওয়ার কারণ, বিশেষ করে অপরিচিত এলাকায় এবং বাড়িতেও-সেটি ঘটতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ তারা সিঁড়ি দিয়ে উঠে যেতে পারে কিংবা অন্য কোনো রুমে চলে যেতে পারে কিন্তু হয়তো জায়গাটি চিনতে পারে না। কোনো দিন বা কোনো মাস সে নিয়েও কনফিউশন তৈরি হতে পারে।

মন-মেজাজ পরিবর্তন

উপরে উল্লেখিত উপসর্গগুলো কারো মধ্যে দেখা গেলে তার মধ্যে মুড বা আচরণ পরিবর্তনের উপসর্গও থাকার সম্ভাবনা।

তারা সহজেই আপসেট কিংবা বিরক্ত হয়, প্রায়ই হতাশা দেখা দেয় এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এর ফলে দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে এবং নতুন কোনও কাজের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারে।

উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তাকে অনুসরণ করে।

অনেক মানুষই বুঝতে পারে কিছু একটা গোলমেলে

আলঝেইমার্স সোসাইটির ক্যাথরিন স্মিথ বলেন, "ডিমেনশিয়া বার্ধক্যের কোনো স্বাভাবিক দিক নয় এটি মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ। এবং এটি কেবল বয়স্ক মানুষদের আক্রান্ত করে তেমনটি নয়।"

ব্রিটেনে ৬৫ বছরের কম বয়সী ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ডিমেনশিয়াতে ভুগছে। তিনি জানান, প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝতে পারে যখন কিছু একটা গোলমেলে ঠেকে।

ডিমেনশিয়া নিয়ে বহুবছর ভালোভাবে বাঁচা সম্ভব এবং এই রোগ নির্ণয়ের ফলে আপনার জীবন রাতারাতি পাল্টে যাবে না।

তারপরও আলঝেইমার্স রোগের বিষয়ে সামাজিক কুসংস্কার রয়েছে যার ফলে আনেকেই এই রোগ প্রকাশ পেলে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকে।


আরো সংবাদ