২০ জুন ২০১৯

বাছাই পর্বে কারা হবে প্রতিপক্ষ?

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বড় দলগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে - ফাইল ছবি

সমশক্তির দল লাওস। র‌্যাঙ্কিংয়ে মাত্র দুই ধাপ এগিয়ে তারা। বাংলাদেশের ১৮৮ আর লাওসদের ১৮৬। এই দলকে হারাতে কি ঘামই না ঝরাতে হয়েছে জেমি ডে বাহিনীকে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের দুই পর্ব মিলে মাত্র এক গোল। ৬ জুন ভিয়েনতিয়েনের মাটিতে ১-০ গোলের জয়ের পর মঙ্গলবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র।

এই চার পয়েন্ট প্রাপ্তিই বাংলাদেশকে ছাড়পত্র এনে দিয়েছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ চীন এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলার। বাছাই পর্বে কোন কোন দলকে পাওয়া যাবে প্রতিপক্ষ হিসেবে তা জানা যাবে জুলাইতে অনুষ্ঠিতব্য ড্রতে। তবে যে কষ্ট করে লাল-সবুজদের লাওস বাধা ডিঙ্গানো তাতে বাছাইপর্বে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাদের।

মঙ্গলবার একই দিনে বাংলাদেশের মতোই বাছাইপর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে গুয়াম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মঙ্গোলিয়া। গুয়াম হোম ম্যাচে ৫-০তে ভুটানকে, মালয়েশিয়া ৫-১ গোলে পূর্ব তিমুরকে, কম্বোডিয়া ২-১ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে কোয়ালিফাই করে। শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচে ম্যাকাওয়ের কাছে হারলেও ফিরতি ম্যাচ খেলতে ম্যাকাও কলম্বোতে আসেনি নিরাপত্তার অজুহাতে। ফলে এএফসি জয়ী ঘোষণা করে লঙ্কানদের। অন্য দিকে মঙ্গোলিয়া অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-২ গোলে ব্রুনেইয়ের কাছে হারলেও একটি অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে ইতিহাস গড়ে চলে গেছে বাছাইপর্বে। হোমে তারা ২-০তে জয়ী হয়েছিল।

এই প্রাক-বাছাইপর্বে খেলা কোনো দলকেই আর বাছাই পর্বে পাবে না বাংলাদেশ। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে এশিয়ার সেরা দলগুলোর একটি ( জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব বা অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো একটি), মধ্য এশিয়ান উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান বা কিরগিজস্তানকে এবং ভারত, নেপাল, আফগানিস্তানদের মতো দলগুলো। ফলে এদের বিপক্ষে আরো ভালো খেলার বিকল্প নেই।

২০১৫ সালে (২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ) বাছাইপর্বে বাংলাদেশ খুব খারাপ করেছিল। কোনো ম্যাচেই তাদের জেতা হয়নি। উল্টো হালি হালি গোলে হার। একটি মাত্র ড্র তাজিকিস্তানের বিপক্ষে নিজ মাঠে। ১০ জনের তাজিকিস্তানের বিপক্ষে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত হাস্যকর রক্ষণাত্মক খেলে ১-১ এ ড্র। সেই আসরে বাংলাদেশ আট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া, জর্দান, তাজিকিস্তান এবং কিরগিজস্তানের কাছে ৩২ গোল হজম করে। দিতে পেরেছে দু’টি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০ এবং ৪-০, জর্দানের কাছে ৮-০ ও ৪-০, কিরগিজস্তানের কাছে ৩-১ এবং ২-০ এবং তাজিকিস্তানের কাছে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৫-০তে ধরাশায়ী হয় লর্ড উইক ডি ক্রুয়েফের বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ সর্বশেষ জিতেছিল ২০০১ সালে সৌদি আরবের মাটিতে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩-০তে।

তবে এবার বাছাইপর্বে ভালো করার আশাবাদ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। জানান, ‘বাছাইপর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকবে। তখন হবে ভিন্ন গেম প্ল্যান, ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি। এশিয়ান গেমসে সে কৌশলেই আমরা জয় পেয়েছিলাম কাতারের বিপক্ষে। প্রতি ভিন্ন ভিন্ন খেলাতেই থাকে নতুন কিছু। আমরা অভ্যস্ত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাছাইপর্বে এবার আমরা জয়ের মুখ দেখবো। ম্যাচও উপহার দেবো ভালো।’ তার এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্য, ‘এবার বাংলাদেশ লিগে চার-পাঁচটা ভালো ভালো দল আছে। উন্নতমানের নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন বাংলাদেশী ফুটবলাররা। সুতরাং তাদের পক্ষে সম্ভব।’


আরো সংবাদ