২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এবার চাইনিজ তাইপে লিগে সাবিনা

এবার চাইনিজ তাইপে লিগে সাবিনা - সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিনিয়ন মহিলা জাতীয় দল মাঠে নামছে তার নেতৃত্বে। বিদেশী লিগে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন তিনি। সিনিয়র দলের সাফল্যের সাথে জুনিয়র দলের অর্জনেও তার ভূমিকা। বয়সভিত্তিক দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সাবিনা খাতুন এখন নানান দেশে লিগ খেলছেন। মালদ্বীপ লিগ খেলে গত বছর নাম লেখান ভারতীয় মহিলা লিগের দলে সেতু এফসিতে।

এবারও তা এই দলে খেলার সুযোগ আছে। এরই মধ্যে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন চাইনিজ তাইপের প্রিমিয়ার লিগের দল হ্যাং ইউয়েন এফসির সাথে। এই ক্লাবের জার্সী গায়ে মাঠে নামতে ১৬ এপ্রিল পূর্ব এশিয়ান এই দেশে যাচ্ছেন সাবিনা। এই স্ট্রাইকারের সাথে ক্লাবটির চুক্তি নভেম্বর পর্যন্ত। তথ্যটি দেন বাফুফের টেকনিক্যাল ও স্ট্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি।

নভেম্বর পর্যন্ত যে সাবিনা একটানা চাইনিজ তাইপেতে থাকবেন, তা নয়। বাফুফে চাইলেই তাকে জাতীয় দলের জন্য আনতে পারবে। তা প্রতি ফিফা প্রীতি ম্যাচের সময়। সাবিনা ছাড়া এবার এখন পর্যন্ত অন্য কোনো বাংলাদেশী মহিলা ফুটবলারকে ডাকা হয়নি বিদেশী লিগে। গতবার সাবিনার সাথে কৃষ্ণারানী সরকারও খেলেছিলেন সেতু এফসিতে। অবশ্য জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য অন্য কাউকে ছাড়বেও না বাফুফে। এখন একই সাথে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের ক্যাম্প চলছে। ২২ এপ্রিল থেকে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবল।

এজন্য অনুশীলনে কৃষ্ণা, মাসুরা, শিউলি, স্বপ্না, মারজিয়া, মৌসুমীরা। মারিয়া , মনিকা, তহুরা, আনাই, আনু চিংদের সেপ্টেম্বরের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের প্রশিক্ষন চলছে। শাহেদা আক্তার রিপা, রেহানা, নোশুনরা তৈরী হচ্ছে আগষ্ট- সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের জন্য। পল স্মলি জানালেন, অন্যদের আমরা ছাড়তে পারবো না জাতীয় দলের প্র্যাকটিসের জন্য।

অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসির চূড়ান্ত পর্ব একই সাথে অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপেরও বাছাই পর্ব। যেখানে তৃতীয় হরে পারলেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ মিলবে। এজন্য এবার অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলকে ইউরোপে পাঠানো হবে প্রস্তুতির জন্য।

ইংল্যান্ড এবং স্পেনে ৮ সপ্তাহ রাখার পরিকল্পনা তাদের। জানালেন পল। অবশ্য সব কিছুই আর্থিক সামর্থ্যরে উপর দিকে তাকিয়ে। ইংল্যান্ডের লন্ডনে এবং স্পেনে পেশাদারী ক্লাবদের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৬ দলকে সপ্তাহে দুটি করে ম্যাচ খেলানো পরিকল্পনা বাফুফের। পল জানালেন, ইউরোপে প্রত্যেক মহিলা পেশাদারী ক্লাবেরই বয়স ভিত্তিক দল আছে।
তাদের সাথেই ম্যাচ খেলার কথা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। সব ঠিক থাকলে জুলাইতে ইউরোপ সফর করবেন মারিয়ারা।

এবার সিনিয়র মহিলা জাতীয় দল ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে। তা প্রতি ফিফা প্রীতি ম্যাচের তারিখে দুটি করে। যে কারনে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফুটবলার এবং আরো সিনিয়র ফুটবলারদের বঙ্গমাতা ফুটবল শেষে ক্যাম্পেই রাখা হবে। এই ম্যাচ খেলতে অবশ্য বাংলাদেশ দল দেশের বাইরে যাবে না। বিদেশী দলকে ঢাকায় এসে ম্যাচ খেলতে অনুরোধ করা হবে।

কয়েকটি দেশ সম্মত আছে এই ম্যাচ খেলতে। এগুলো হল মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর এবং বাহরাইন। দেশের মাটিতে খেলার সুবিধা, এতে বিদেশে যাওয়ার জন্য যে মোটা অংকের বিমান ভাড়া লাগে তা আর ব্যয় হবে না বাফুফের। অতিথি দলকে শুধু থাকা খাওয়ার সুবিধা দিতে হবে। মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১২৭ এ আছে। এই প্রীতি ম্যাচ খেললে এবং জয় পেলে র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি হবে। অবশ্য পলের চিন্তু বাফুফের আর্থিক অবস্থা নিয়ে। এ জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ