২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিন ফুটবল দল - ছবি : সংগ্রহ

টানটান উত্তেজনার ম্যাচে তাজিকিস্তানকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের এবারের আসরের শিরোপা জিতলো ফিলিস্তিনি। শুক্রবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে তাজিকদের হারায় ফিলিস্তিনিরা।

আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের খেলায় নির্ধারিত সময় ছিলো গোলশূন্য। অতিরিক্ত সময়ের ত্রিশ মিনিটেও গোল করতে পারেনি কোন দল। শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফিলিস্তিনি চার শটের চারটিই গোল করে, আর তাজিকদের পাঁচ শটের দুটি ঠেকিয়ে দেন ফিলিস্তিনি গোল রক্ষক। ফলে ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের আর পঞ্চম শট নিতেই হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে নিয়মিত গোলরক্ষককে তুলে আরেক গোলরক্ষককে মাঠে নামান তাজিকিস্তানের কোচ। উদ্দেশ্য টাইব্রেকার ঠেকিয়ে দেশকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ট্রফি উপহার দেয়া; কিন্তু বদলি খায়রিয়েভ কিছুই করতে পারেননি। বরং তাকে টপকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালের হিরো বনে গেলেন ফিলিস্তিন কিপার রামি হামাদা।

ফাইনাল সেরা এই কিপার টাইব্রেকারে তাজিকিস্তানের দুটি শট ঠেকিয়ে তিনি ফিলিস্তিনবাসীকে এনে দিলেন তৃতীয় আর্ন্তজাতিক শিরোপা। পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৪-৩ এ ম্যাচ জিতে ট্রফি দেশে নিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের এ্ই দেশটি জয় করেছিল ২০১৫ সালের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ও ২০১৪ সালের আল নাকবা কাপ। অন্যদিকে ২০০৬ সালে এই মাঠে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ জেতা তাজিকিস্তানকে এবার রানার্সআপ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি ও ৫০ হাজার ডলার এবং রানার্সআপ দল ট্রফি ও ২৫হাজার ডলার পেল প্রাইজমানি হিসেবে। ফাইনাল শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফিলিস্তিন এই আসরের নতুন চ্যাম্পিয়ন।

শুরুটা ভালোই করেছিল তাজিকিস্তান। চেপে ধরে র‌্যাংকিংয়ে ২০ ধাপ এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনকে। অবশ্য এরপরেই ম্যাচে ফেরে ফিলিস্তিন। বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরী করে গোলের। দূর্ভাগ্য ও তাজিক গোলরক্ষকের দৃঢ়তা তাদের লিড নিতে দেয়নি এই সময়ে। ২৩ মিনিটে হেলাল মূসা ও ২৯ মিনিটে ইসলামের দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন তাজিক গোলরক্ষক রুস্তম রিজোয়েভ।
২৬ মিনিটে অবশ্য নিয়তি তাদের গোল পেতে দেয়নি। থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন খালেদ সালেম। এরপর বডি ডজে পরাস্ত করেন দুই ডিফেন্ডারকে। কোণটা দূরুহ হয়ে গেলেও খালেদ সালেম ডান ডায়ের টো দিয়ে শট নেন । সেই শট প্রতিহত হয় তাজিকিস্তানের পোস্টে। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে দুঃখ জনক ঘটনা। ফিলিস্তিনের সামেহ মারাবাহকে মাথা দিয়ে ঢুস মারেন তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুলো। এরপর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলারা। বাংলাদেশের রেফারী মিজানুর রহমান ইরাকের চতুর্থ রেফারী জিয়াদ তাহমেরের সাথে আলোচনা করে লালকার্ড দেখান তাজিক দলপতিকে।

৩৪ মিনিটে তাজিকিস্তান ১০ জনে পরিণত হওয়ার পর আরো চড়াও হয়ে খেলার কথা ফিলিস্তিনের; কিন্তু সেমিফাইনালের পর ফাইনালের আগে একদিন কম বিশ্রাম পাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দলটি মোটেই সুবিধা করতে পারছিলনা। বরং এক ফুটবলার কম নিয়ে তুমুল লড়াই করে মধ্য এশিয়ান দেশটি। আক্রমণ শানাতে থাকে ক্রমাগত। ৪১ ও ৪৩ মিনিটে এবং ইনজুরি টাইমে খুরশেদভ ও করমনের তিনটি গোলচেষ্টা বিফলে যায়। বিরতির পর আবার ছন্দে ফেরে ফিলিস্তিন। অবশ্য তাতেও কাজ হয়নি স্ট্রাইকার খালেদ সালেমের মিসের কারনে। ৫৭ মিনিটে তাজিকিস্তানকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক। আবদুল্লাহ জাজের বাম পায়ের হাওয়ায় ভাসানো প্লেসিং শূন্যে শরীর উড়িয়ে তা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন রুস্তম। ৭৬ মিনিটে তাজিকিস্তানও গোলের দেখা পেল না ক্রসবারের বাধায়। নাজারভের শট বাধাপ্রাপ্ত হয় বারে। ইনজুরি টাইমে তাজিক স্ট্রাইকার দিলসোধ পোস্টের ভেতর বলে পা ছোঁয়াতে না পারায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

গোল শূন্য এই ৩০ মিনিটও। অবশ্য ৯৬ মিনিট ও ১১৯ মিনিটে দুইবার গোলের খুব কাছে চলে যায় ফিলিস্তিন। পাবলো ব্রাভো ও দাবাঘের যথাক্রমে শট ও হেড পোস্ট এবং ক্রসবার ঘেঁষে যাওয়ায় রেফারিকে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারনে রেফারিকে টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়। এতে ৪-৩ এ ম্যাচ জিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন দল হলো ফিলিস্তিন। আর রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাজিকদের। টাইব্রেকারে তাজিকদের গাফফারাভ, নাজারভ ও আশরভ গোল করলেও করমন ও তাভরেজির শট রুখে দেন ফিলিস্তিন কিপার। ফিলিস্তিনের জোনাথন, মাহমুদ, মুসাব ও আবদুল লতিফ গোল করেন।

আসরের সেরা তরুন ফুটবলারের পুরস্কার পান বাংলাদেশের বিপলু আহমেদ। ২ গোল করা তাজিক স্ট্রাইকার করমন হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। টুর্নামেন্ট সেরা ফিলিস্তিন ক্যাপ্টেন আবদুল লতিফ। ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে বাংলাদেশ।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme