১৮ জুন ২০১৯

কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনা ও সৌদি আরবের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল

ফুটবল
কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনা ও সৌদি আরবের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল - ছবি: সংগৃহীত

আগামী মাসে আর্জেন্টিনা ও সৌদি আরবের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ব্রাজিল দলে প্রথমবারের মতো ডাকা হয়েছে বার্সেলোনার উইঙ্গার ম্যালকমকে। এছাড়াও দলে ফিরেছেন মার্সেলো ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

কোচ তিতের ঘোষিত ২৩ জনের দল থেকে বাদ পড়েছেন থিয়াগো সিলভা ও উইলিয়ান। ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন ডগলাস কস্তা। তার অনুপস্থিতিতে ২১ বছর বয়সী ম্যালকমকে প্রথমবারের মতো প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য ডাকা হয়েছে। বার্সার হয়ে শেষ ম্যাচে মাত্র ৬ মিনিট মাঠে ছিলেন ম্যালকম। গোঁড়ালি ও থাইয়ের ইনজুরির কারনে কস্তা দল থেকে বাদ পড়ায় তিতে ম্যালকমকে সুযোগ দিতে ভুল করেননি। যদিও জুভেন্টাসের ফরোয়ার্ড কস্তা সাসোলোর বিপক্ষে সিরি-আ ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনার জেড়ে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। ব্রাজিল বস বলেছেন, ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে কস্তা বাদ পড়েছেন। ঘটনাটি স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনা যাই হোক না কেন পুরো বিষয়টিতে আমাকে সতর্ক থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সে বাদ পড়েছে, এটাই মূল কথা। সেলেসাওদের পক্ষ থেকে এখন বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আমরা সব তথ্য জানতে চেয়েছি। তবে তার সাথে পরর্তীতে সময় সাপেক্ষে আলোচনা করা হবে।

ম্যালকম ছাড়াও বোর্দো ডিফেন্ডার পাবলো ও তরুণ গ্রেমিও গোলরক্ষক ফিলিপ প্রথমবারের মতো ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় ৩৩ বছর বয়সী সিলভা ও উইলিয়ান দল থেকে বাদ পড়েছেন। ইতোমধ্যেই ৩৩ বছর বয়সী সিলভার উত্তরসূরী হিসেবে পাবলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রিয়াল মাদ্রিদ লেফট-ব্যাক মার্সেলো তার অভিজ্ঞতার নিরিখে আবারো দলে ফিরেছেন। তার সাথে আরো ফিরেছেন ম্যানচেস্টার সিটি ট্রায়ো জেসুস, ডানিলো ও এডারসন। এই চারজনই সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও এল সালভাদোরের বিপক্ষে ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরব ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ দু’টি হবে যথাক্রমে ১২ ও ১৬ অক্টোবর। ম্যাচ দু’টিই হচ্ছে সৌদি আরবে। ১২ অক্টোবরের ম্যাচটি হবে সৌদি আরবের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে। আর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে।

দুই দলের শেষ ১০ মোকাবেলায় সমান ৪টি করে জয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। আর সব শেষ দু‘দলের দেখায় আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারায়।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনা শেষ ষোল থেকেই বিদায় নেয়। মেসি-নেইমারদের বিদায়ে বিশ্বকাপের উত্তাপটা কিছুটা হলেও কমে যায়।

ব্রাজিল স্কোয়াড :
গোলরক্ষক : এলিসন, এডারসন, ফিলিপ
ডিফেন্ডার : ডানিলো, ফাবিনহো, মার্সেলো, মারকুইনহোস, এডার মিলিয়াতো, পাবলো, এ্যালেক্স সান্দ্রো
মিডফিল্ডার : আর্থার, রেনাটো অগাস্টো, কাসেমিরো, ফিলিপ কুটিনহো, ফ্রেড, ম্যালকম, রিচারলিসন
ফরোয়ার্ড : এভারটন, রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, নেইমার।

আরো পড়ুন :
কেন শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় ভাসে বাংলাদেশ?
বিবিসি, ১৪ জুন ২০১৮
বাংলাদেশের বিশ্বকাপের সিংহভাগ জুড়ে থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিয়ে উন্মাদনা। বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই রাস্তাঘাট পতাকায় ছেয়ে যায়। জার্মানি, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো দলের সমর্থক থাকলেও মূলত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিয়েই আলোচনা বেশি হয় বাংলাদেশে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঢাকার ছোট-বড় পোশাক কারখানা থেকে শুরু করে পাড়ার দর্জির দোকানেও যেসব পতাকা তৈরি হয় তার সিংহভাগই ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার।

চায়ের দোকানের আড্ডায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব, অফিসের সহকর্মীরাও এই এক মাস ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মত টেলিভিশনে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানো হয় ১৯৮৬ সালে। তাও শুধুমাত্র নকআউট পর্বের খেলাগুলোই দেখানো হয়। প্রবীণ ফুটবল ভক্তদের মতে, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে ব্যাপক উম্মাদনার শুরুটা তখন থেকেই।

সে সময় আবাহনী-মোহামেডানের খেলা ছিল তরুণ ফুটবল ভক্তদের আলোচনার প্রধান বিষয়। তাই স্বভাবতই ছিয়াশির বিশ্বকাপ সেসময়কার তরুণদের মনে দাগ কাটে।

প্রবীণ সাংবাদিক নাজমুল আমিন কিরণ বলেন, বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণালী যুগ যখন শুরু হয় তখনই এই ফুটবল নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়। ব্রাজিল আর্জেন্টিনা বরাবরই এদেশে ফেভারিট।

‘একটা সময় পেলের কারণে ব্রাজিল, ম্যারাডোনার কারণে আর্জেন্টিনা।’

‘তখন টিভি বলতেই ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। চার বছর পর বিশ্বকাপ দেখাতো তাও সবগুলো ম্যাচ দেখাতো না।’

কিরণ বলেন, জার্মানি বা ফ্রান্সও তখন ভালো খেলতো কিন্তু ব্রাজিল অথবা আর্জেন্টিনার মতো তারকা খেলোয়াড় ছিল না। আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা, ব্রাজিলের পেলে প্রথমে, পরে রোনালদো, এখন আর্জেন্টিনার মেসি।

মূলত ৮৬ ও ৯০'র বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার প্রদর্শনী মানুষকে আর্জেন্টিনার সমর্থনে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর ম্যারাডোনার সমর্থকরাই আর্জেন্টিনার সমর্থন দিয়ে আসছে। এরপরের যুগটাই ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলে রাজত্ব করে।

১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জেতে শক্তিশালী ইতালিকে হারিয়ে, ১৯৯৮ সালে ফাইনালে উঠে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে যায়, ২০০২ সালে আবারো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল।

মূলত: বাংলাদেশে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখানোর পর থেকে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দাপট থাকার কারণেই এই সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি হয় ও এই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কখনো এটা খুনসুটির পর্যায়ে থাকলেও, মারামারির মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে বাংলাদেশে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক দশক যাবত চা বিক্রি করছেন আব্দুল জলিল স্বপন, তিনি ঢাকায় আসেন ১৯৮৪ সালে। তিনি বলেন, ছিয়াশির বিশ্বকাপে খেলা দেখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে টিভি নিয়ে আসা হয়। প্রচুর মানুষ আসতো তখন খেলা দেখতে। তখনই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠী দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ব্রাজিলের ভক্তরা আর্জেন্টিনার ভক্তদের পছন্দ করে না, তেমনি আর্জেন্টিনার ভক্তরাও ব্রাজিলের ভক্তদের পছন্দ করতো না। "এটা অনেকটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থনের মতো হয়ে যায়"।

আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক জাহিদ হাসানের মতে, আর্জেন্টিনার সমর্থক তৈরিতে টেলিভিশনেরর একটি বড় ভূমিকা আছে।

তিনি বলেন, টেলিভিশন আসার পর যে দুটি বিশ্বকাপ দেখতে পেরেছে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা। তার প্রথমটিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, পরেরটিতে ফাইনাল খেলেছে। তাই এই দুটি বিশ্বকাপ এখানে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

শুরুতে ম্যারাডোনার ব্যক্তিত্ব, খেলার ধরণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করে। জাহিদের মতে, ম্যারাডোনাই আর্জেন্টিনার এতো বড় সমর্থক গোষ্ঠী তৈরির অন্যতম প্রভাবক।

ব্রাজিলের একজন সমর্থক শান্ত কৈরির মতে, ব্রাজিলের সমর্থক তৈরি হয়েছে দুটো প্রজন্মকে ঘিরে। প্রথমটি পেলের যুগ, ষাটের দশকে অনেকেই পেলের খেলার কারণে ব্রাজিল সমর্থন করতো কিন্তু তখন প্রচার বেশি ছিল না। তাই মাতামাতি কম ছিল।

এরপর নব্বইয়ের দশকে ফুটবল অঙ্গনে ব্রাজিলের উত্থান বড় ভূমিকা রাখে সমর্থক গোষ্ঠী তৈরিতে।

তবে খেলা ছাড়াও অনেকেই পারিবারিক কারণে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা সমর্থন করে আসছেন।


আরো সংবাদ