১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ভারত ৩: ১ পাকিস্তান

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত - সংগৃহীত

ক্রিকেট বা হকির মতো অতোটা আলোচনায় আসে না ভারত ও পাকিস্তানের ফুটবল লড়াই। এরপরও উপমহাদেশের এই দুই দেশের ফুটবল ম্যাচে থাকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ। ২০০৩ সালে এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই পাকিস্তান ১ গোলে হারিয়েছিল ভারতকে। তবে বুধবার আর সে পথে হাঁটতে পারেনি পাকিস্তান। বরং তাদের প্রথম বারের মতো সাফের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন সেমিতেই থামিয়ে দেয় সাতবারের এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ৩-১ তে ম্যাচ জিতে ভারত এখন ১৫ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপের সাথে ফাইনালের অপেক্ষায়। ২০০৯ এর ঢাকা সাফের ফাইনালেও দেখা হয়েছিল ভারত ও মালদ্বীপের। তাতে শেষ হাসি ভারতীয়দের। উল্লেখ্য সে আসরের মতো এবারও ভারত এসেছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে।

এবারের সাফের কালকের এই দ্বিতীয় সেমি ফাইনালের প্রথমার্ধ দুই দলের গোলশূন্য থাকার নেপথ্য উভয় গোলরক্ষকের দৃঢ়তা। ১১, ২৫ এবং ২৭ মিনিটে পাকিস্তানের পোস্ট অক্ষত থেকেছে মূলত: গোলরক্ষকের প্রবল প্রতিরোধে। কখনও ডানে কখনও বামে শরীর ফেলে দলকে গোলের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন ইউসুফ ইজাজ ভাট। তার এই কৃতিত্বে হতাশ হতে হয় যথাক্রমে ভিনিত রাই, মানভীর সিং এবং আশিক কুরুনিয়াকে।

শেষ প্রহরী এভাবে দলকে রক্ষা করার পর পাকিস্তানও আক্রমনে উঠে আসে। শুরু থেকে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ম্যাচ খেলতে থাকা পাকিস্তান ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ পায়। মুহাম্মদ রিয়াজের শট রুখে দিয়ে ভারতের কিপার সুভাশীষ বোস তার ভুলেরই দায় শোধ করেছেন। ডিফেন্ডারের ব্যাক পাস হাত দিয়ে ধরে বক্সে হ্যান্ডবল করেন তিনি। তা থেকেই ফ্রি-কিক এবং রিয়াজের শট। ইনজুরি টাইমে পাকিস্তান লিড পায়নি কপাল দোষে। অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেনের লবে ব্যাক হেড নেন হাসান বশির। তাতে আগেই সুভাশীষ বোস বলের ফ্লাইট মিস করলেও বল চলে যায় বার ঘেঁষে।

৪৯ মিনিটে ভারতের লিড। তা চমৎকার আক্রমনের সফল পরিসমাপ্তিতে। আশিক কুরুনিয়ার ক্রসে মানভীর সিংয়ের খুব কাছ থেকে করা ডান পায়ের ফ্লিক প্রথম পোস্টে অসহায় করে দেয় গোলরক্ষক ইউসুফকে। ৬৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান দ্বিগুন ভারতের। সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত করেন সেই মানভীর সিং। বদলী লালিয়ানজুলা মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পাস দেন ভিনিত রাইকে। ভিনিত সে বল মানভীরকে বাড়িয়ে দিলে ডান পায়ের চমৎকার বুদ্ধিদ্বীপ্ত শটে আসরের তৃতীয় গোল করেন তিনি। মালদ্বীপের বিপক্ষেও গোল ছিল মানভীরের।

৮৪ মিনিটে ভারত তাদের তৃতীয় গোল পায় দুই মিনিট আগে মাঠে নামা বদলী সুমতি পাসির হেডে। আশিক কুরুনিয়ার ক্রসে হেড করেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাকিস্তানের হাসান বশির দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কমান। এর আগে ৮৬ মিনিটে থাইল্যান্ডের রেফারী সিভাকর্ন উদম মাঠে মারামারি করার জন্য পাকিস্তানের মহসীন আলী এবং ভারতের লালয়িানজুলাকে লালকার্ড দেখিয়ে বহিস্কার করেন

আরো পড়ুন : ৯ বছর পর সাফের ফাইনালে মালদ্বীপ
মালদ্বীপ ৩:০ নেপাল
ক্রীড়া প্রতিবেদক ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:০০

কোনো ম্যাচ না জিতে এবং কোন গোল না দিয়ে টস ভাগ্যে এবারের সাফের সেমি ফাইনালে আসা মালদ্বীপের। যা তাদের ফুটবলের গত বিশ বছরের ইতিহাসের সাথে বেমানান। এই নিয়ে বেশ চাপে ছিলেন তাদের ক্রোয়েশিয়ান কোচ পিটার সেগার্ট। আলী আশফাকের মতো ফুটবলারকে তিনি রাখেননি দলে। কিন্তু বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় মালদ্বীপ জাতীয় দল।

একে একে তিন বার বল পাঠাল এবারের সাফের প্রথম পর্বে সবচেয়ে ভালো দলের খ্যাতি পাওয়া নেপালের জালে। স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে এসেছিল নেপাল। বুধবার নেপাল জয়ের মাধ্যমে ৯ বছর পর আবার সাফ ফুটবলের ফাইনালে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।


২০০৯ সালে এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই তারা সর্বশেষ সাফের ফাইনালে খেলেছিল। সাফের ফাইনালে এটি মালদ্বীপের পঞ্চম উপস্থিতি। অন্য দিকে নেপালও পঞ্চমবারের মতো বাদ পড়লো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই আসরের সেমিফাইনাল থেকে। ১৫ সেপ্টেম্বর তারা ফাইনাল খেলবে ভারত-পাকিস্তান দ্বিতীয় সেমিতে জয়ী দলের বিপক্ষে।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে ০-২ গোলে হেরে টসে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করার পর মালদ্বীপ কোচ বলেছিলেন, সেমিতে আমরা ঠিকই গোল করবো এবং ফাইনালে যাবো। তার শিষ্যরা সে কাজই করে দেখালো বৃষ্টিভেজা মাঠে। তাদের তিনটি গোলের পরই বাড়তি উল্লাস ছিল কোচ সেগার্টের। শূন্যে লাফিয়েছেন। অন্যদের জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। ম্যাচ শেষেতো কাউকে বাদ দেননি কোলাকুলি করতে। নিশ্চয়ই গত সাফে আফগানিস্তানকে ফাইনালে নেয়ার পর এবার মালদ্বীপ ফাইনালে নিয়ে বেশ খুশি তিনি। সাথে মুখ বন্ধ করলেন সমালোচকদের।

ম্যাচের সময় বৃষ্টির সাথে শুরু হয় বজ্রপাত। ফলে ম্যাচের ২৭ মিনিটের সময় পর বজ্রপাতের হাত থেকে ফুটবলারদের রক্ষা করতে খেলা বন্ধ রাখেন ম্যাচ কমিশনার চাইনিজ তাইপের চেন লিয়াং। ৩২ মিনিটি পর আবার খেলা শুরু। অবশ্য এর আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মালদ্বীপের দখলে। ৯ মিনিটে এগিয়ে যায় ২০০৮ এর সাফ চ্যাম্পিয়নরা। অধিনায়ক আকরাম আবদুল গনির বাম পায়ের নেয়া বাঁকানো ফ্রি-কিকে পা ছোঁয়াতে চেষ্টা করেন মালদ্বীপের এক ফুটবলার; কিন্তু তিনি বলের নাগাল পাননি। আবার বলটি ঠেকাতে ব্যর্থ হন নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বুও। ফল যা হওয়ার তাই, সোজা জালে।

এরপর শুরু হয়ে নেপালীদের ম্যাচে ফেরার প্রাণান্তকর চেষ্টা। কিন্তু তাদের তারকা ফুটবলার ভারত খাওয়াজ ৪১ মিনিটে সূবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করায় সমতা আসেনি। বিমল ঘার্তি মাগারের শট গোলরক্ষক মোহাম্মদ ফয়সালের হাত ফসকে বের হলে সেই বল বাইরে মারেন ভারত খাওয়াজ। ৬১ মিনিটে বিমলের হেডে বাধা বিপক্ষ কিপার। এরপর ৬৮ ও ৭৬ মিনিটে আবার গোল মিস নেপালের।

২০১৩ সাফের সেমিতে বিদায় নেয়া নেপাল যখন গোল পরিশোধে মরিয়া তখন মালদ্বীপ কোচ কাউন্টারে জয় নিশ্চিতের কৌশল অবলম্বন করেন। তাতেই ফল। ৫০ মিনিটে হাসান নিয়াজ গোলরক্ষকে একা পেয়েও যে শট নেন তা ঠেকান নেপালের কিপার। ৭৮ মিনিটেও হুসাইন সুফিয়ানের হেডে বাধা কিরন। তবে ৮৪ মিনিটে আর টেনশনে থাকেত হয়নি মালদ্বীপকে। বদলী আসাদুল্লাহ আবদুল্লাহর শট ডিফেন্স ক্লিয়ার করলে সেই বল বক্সের বাইরে গিয়ে পড়ে ইব্রাহিম হোসেন ওয়াহেদের পায়ে। মুহুর্তেই তার শট বোকা বানায় নেপালের শেষ প্রহরীকে। ম্যাচ তখনই শেষ। তাই বলে ডিফেন্সিভ হয়ে পড়েনি মালদ্বীপ। যে কারনে ৮৭ মিনিটে আবার তাদের গোল উৎসব। এবারও গোলদাতা ইব্রাহিম হোসেন ওয়াহেদ।

ইনজুরি টাইমে ফের বিমলকে মালদ্বীপের কিপার হতাশ করলে ৩ গোলের হার নিয়ে সাফের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন অপূর্ণই রাখতে হয় নেপালকে।


আরো সংবাদ