২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

নেইমার-মেসি। - ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ছাড়া ফুটবল কল্পনা করা যায় না। এই দুই দেশের ফুটবল খেলার ভক্ত সারা বিশ্বে রয়েছে। আর আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের- ম্যাচ হল ফুটবল প্রেমীদের কাছে সেটা এক অন্যরকম ব্যাপার। তাদের ম্যাচের উত্তাপ পৌঁছে যায় সারা বিশ্বে। পুরো ফুটবল বিশ্ব দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির মহাদ্বৈরথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। আর এই উত্তেজনা মাঠে গড়াতে যাচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবরে।

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে তাদের বিশ্ব ভ্রমণের সূচি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ১২ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা। এর চারদিন পর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব ফুটবল দেখবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের লড়াই। জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি।

দুই দলের শেষ ১০ মোকাবেলায় সমান ৪টি করে জয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। আর সব শেষ দু‘দলের দেখায় আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারায়।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনা শেষ ষোল থেকেই বিদায় নেয়। মেসি-নেইমারদের বিদায়ে বিশ্বকাপের উত্তাপটা কিছুটা হলেও কমে যায়।


আরো পড়ুন: জয় তুলে আনলো তরুণ আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরমেন্সের পর বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিষন্ন ছিলেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছেন না। দলের হয়ে অংশ নেননি আজকের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও। তবে গুয়েতমালার বিপক্ষে দল জয় পেয়েছে ৩-০তে। গোল তিনটি করেছেন গঞ্জালো মার্টিনেজ, জিওভানি লো সেলসো ও জিওভানি সিমিওনে।

মেসিকে ছাড়া এ যেন অন্য এক আর্জেন্টিনা। তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে নতুন কোচ লিওনেল স্কালোনির পরীক্ষা সফল হয়েছে।

আজ বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৯টায় ক্যালিফোর্নিয়ায় গুয়েতমালার বিপক্ষে মাঠে নামে তরুণ আর্জেন্টিনা।

প্রথমার্থেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন মার্টিনেজ। ২৭তম মিনিটে লে সোলসোর শটে ইলিয়াস ভাসকেসের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পেয়েছিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

৩৫তম মিনিটে লো সেলসোর দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান লো সেলসো। এই মিডফিল্ডারের বুলেট গতির ভলি ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না গোলরক্ষকের।

৪৪তম মিনিটে ততীয় গোলটি করেন অভিষিক্ত সিমিওনে। প্রথমার্ধের তিন গোল নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

দিনের অপর প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ গোলে হারায় ব্রাজিল।

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের প্রথম জয়

রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। গোল দুটি করেন নেইমার ও ফিরমিনো। আজ বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যাচ শুরুর ১১তম মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ফিরমিনো। ডান দিক থেকে আক্রমণে ওঠা দগলাস কস্তার ছয় গজ বক্সে বাড়ানো দারুণ ক্রসে ডান পায়ের ভলিতে বল লক্ষ্যে পাঠান ফিরমিনো।

এরপর ৪৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নেইমার। ডান দিক দিয়ে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া লিভারপুল মিডফিল্ডার ফাবিনিয়োকে যুক্তরাষ্ট্রের উইল ট্রাপ ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকরা কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। তবে প্রতিপক্ষের জালে বল ছুঁড়তে ব্যর্থ হয়। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।


আরো পড়ুন : ধন্যবাদ মেসি, ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা...

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ মেসি, ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা। ইসরাইলের সাথে প্রীতি ম্যাচটি বাতিল করার পর এভাবেই ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগামী শনিবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। সেই ম্যাচটি যাতে মেসিরা বাতিল করে তার জন্য অনুরোধ করে আসছিল ফিলিস্তিনিরা। অবশেষে রাজনৈতিক চাপের মুখে ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দেয় আর্জেন্টিনা। স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন ইএসপিএন স্পোর্টসকে ম্যাচ বাতিলের কথাটি জানিয়েছেন। তিনি জানান, 'শেষ পর্যন্ত তারা সঠিক কাজটি করেছে।'

এ ঘোষণার পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে পিএফএ এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি এবং তার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানায়।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জিবরিল রজব বলেছেন, 'মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং খেলা জয়লাভ করেছে এবং এ ম্যাচ বাতিলের মাধ্যমে ইসরাইলকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়েছে।'

এদিকে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে এ ম্যাচ বাতিলের খবর প্রকাশ করার পর ইসরাইলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে পশ্চিম তীরে লিওনেল মেসির একটি পোস্টারে লেখা হয়েছিল, "আপনি একটি দখলকৃত জায়গায় প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। মানবতার পক্ষে দাঁড়ান।"

এ ম্যাচ বাতিলের আগে রজব ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা যাতে লিওনের মেসির ছবি এবং নকল জার্সিতে অগ্নিসংযোগ করে।

ফিলিস্তিনি ক্যাম্পেইন গ্রুপ আভাজ এ ম্যাচ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।

গত সোমবার পিএফএ সভাপতি জিব্রিল রজব জেরুসালেমের টেডি স্টেডিয়ামকে ভেন্যু নির্ধারণের প্রতিবাদে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন এবং বিশ্ব ফুটবলের মূল সংস্থা ফিফার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তাতে রজব বলেছিলেন, 'ইসরাইল খেলাকেও রাজনীতিকরণ করেছে। ৯ ‍জুন টেডি স্টেডিয়ামে ইসরাইল যে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছে সেটি সম্পূণ অনৈতিক।'

তিনি বিবৃতিতে আরো বলেন, 'যেখানে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯৪৮ সালের আগে এই স্থানে ফিলিস্তিনের গ্রাম ছিল। সেখান থেকে এর অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে ইসরাইলে এই এলাকা দখল করেছিল। ইসরাইল একটি দখলদার বাহিনী। তারা অপশক্তির প্রয়োগ করছে। এরা বৈশ্বিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন করে আসছে। ইসরাইল খেলার মূলনীতিরও বিরোধী। এই ম্যাচের কারণে আর্জেন্টিনাকে তার খেলোয়াড়ি এবং নৈতিকতার বিষয়ে মূল্য দিতে হবে। ইসরাইল ‘ইহুদিদের জন্য অখন্ড জেরুসালেম’ বলে আর্জেন্টিনার জনগনকে ভুল বুঝাচ্ছেন।'

তাদের অনুরোধ রেখে ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা আসার পর আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তকে' সাহসী নৈতিক সিদ্ধান্ত' হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা।

আভাজ ক্যাম্পেইন গ্রুপের পরিচালক অ্যালিস জে বলেছেন, 'এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে জেরুসালেমে খেলার সাথে বন্ধুত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ এর কয়েক মাইল দূরে ইসরাইলি বন্দুকধারীরা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনদের গুলি করে মারছে।'

বিশ্বকাপের আগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য সর্বশেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। পশ্চিম জেরুসালেমের একটি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।

জেরুসালেম ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের জন্য খুবই স্পর্শকাতর জায়গা।

পুরো জেরুসালেমকে ইসরাইল মনে করে অবিভক্ত রাজধানী। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে মনে করে।

আর্জেন্টিনা এবং ইসরাইলের মধ্যকার ম্যাচটি প্রথমে হাইফা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি পশ্চিম জেরুসালেমে সরিয়ে আনা হয়। এ সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করেছিল ফিলিস্তিনিদের।

সাম্প্রতি ফিলিস্তিনদের বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার গাজা সীমান্তে আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসা দেয়ার সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় রাজান আশরাফ আল নাজার নামে একজন ফিলিস্তিনি নার্স নিহত হন। ২১ বছর বয়সী নিহত নাজার স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনেস এলাকায় এ ঘটনার শিকার হন তিনি।

বিক্ষোভ চলার সময় আহত একজনকে চিকিৎসা দিতে ইসরাইল সীমান্তের কাছে ছুটে যান নাজার। সেখানেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন। নাজার চিকিৎসা পেশাজীবীদের মতো সাদা পোশাক পরে ছিলেন। তার ওপর তিনি ইসরাইলি সেনাদের উদ্দেশে দুই হাত উপরে তুলে সঙ্কেতও দিয়েছিলেন। তার পরও ইসরাইলি সেনারা তার ওপর গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান নাজার। এই ঘটনায় উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, গতমাসে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে আনার মাধ্যমে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সূত্র : গোল ডট কম, ইএসপিএন, বিবিসি ও রয়টার্স


আরো সংবাদ