২২ জুলাই ২০১৯

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে লাল-সবুজ উৎসব

-

 কে বলে এদেশের ফুটবল ঝিমিয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গেল লাল সবুজ সমর্থকদের সেই পুরনো উন্মাদনা। এদেশের ফুটবল যে এখনো দর্শককে টানে সেটি আরো একবার প্রমাণিত হলো। মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল দর্শকদের জোয়ার। আজ যেন সেটি পূর্ণতা পেল।

বিকেল চারটায় নেপাল ভুটান ম্যাচ শুরু হয় প্রায় খালি গ্যালারিতে। তবে এই ম্যচের সময় যত গড়ায় ততই গ্যালারি ভরতে থাকে দর্শকে। কারণ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি যে বাংলাদেশের! প্রথম ম্যাচ শেষ হতে হতে ভরে যায় পশ্চিম গ্যালারি। আর সাতটা বাজার আগেই পূর্ণ সব গ্যালারি। বিকেল থেকে স্টেডিয়ামের বাইরের চত্বরে ভীড় করতে থাকে নানা সাজের দর্শকরা। ভুভুজেলার শব্দে মুখর হয় চারদিক। লাল-সবুজ পতাকা জার্সি আর টুপিতে সেজেছেন অনেকে। নানা বয়সের দর্শক।

নয়া পল্টন এলাকা থেকে বাবার হাত ধরে খেলা দেখতে এসেছে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া রেজোয়ানুজ্জামান। বলল, বাংলাদেশের জয় দেখতে এসেছি। বাবার কিনে দেয়া লাল-সবুজ রঙা টুপি পরে বিপুল উচ্ছ্বাসে মাঠে ঢোকে এই শিশুটি। ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন ছাত্রের একটি দলকে দেখা গেল স্টেডিয়ামে প্রবেশের অপেক্ষায়। কারো গায়ে লল-সবুজ জার্সি, কারো হাতে পতাকা।

ষাটোর্ধ কালাম হোসেন এদেশের ফুটবলের পুরনো দর্শক, বললেন ফুটবলের সাথে আত্মার সম্পর্ক। সব মিলে যেন উৎসবে রুপ নিয়েছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। মাঠের হিসেবে আজকের ম্যাচটি উভয় দলের জন্য সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার। নিজ নিজ প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে উভয় দল।

এবার পাকিস্তান সাফে খেলছে ফিফা কর্তৃক তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে। এই লম্বা সময়ে তারা ফুটবল থেকে দূরে থাকলেও ব্রাজিলিয়ান কোচ হোসে নগেইরার ছোঁয়ায় এবং প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতিতে এরা অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে। যে সূত্র ধরেই উদ্বোধনী ম্যাচে সাফের অন্যতম ফেবারিট নেপালকে ২-১ গোল পরাজিত করে পাকিস্তান। গোলদাতাও তাদের দুই ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার হাসান বশির ও মোহাম্মদ আলী। অবশ্য প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশ আজ জিতে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ম্যাচের আগের দিনই বলেছেন, ভুটানকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে আমাদের। ফলে আজও জয়ের আশা করছি। অবশ্য ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে। সব মিলিয়ে দুই দেশের ১৭ বার সাক্ষাৎ। এতে লাল-সবুজদের জয় সাতটিতে। পাঁচটিতে শেষ হাসি পাকিস্তানের। বাকি পাঁচ ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি কোনো দলই।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi