১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মরিনহোকে স্বস্তি দিলেন লুকাকু

রোমেলু লুকাকু - সংগৃহীত

তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর জোড়া গোলে বার্নালিকে রোববার ২-০ গোলে পরাজিত করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। যদিও ইউনাইটেডের জন্য ম্যাচটি ছিল আরেকটি শিক্ষণীয় ও বিতর্কিত ম্যাচ।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে এ্যালেক্সিস সানচেজের পরিবর্তে বদলী খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার ১০ মিনিটের মধ্যে ইংলিশ তারকা মার্কোস রাশফোর্ড বার্নলির স্কটিশ ডিফেন্ডার ফিল বার্ডসলিকে মাথা দিয়ে গুঁতো দেয়ার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন। ফলে বাকি সময়টা ১০ জনকে নিয়েই খেলতে হয়েছে ইউনাইটেডকে।

এর মাত্র দুই মিনিট আগে পল পগবা পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট করলে সফরকারীরা ম্যাচের খেই হারিয়ে ফেলে। যদিও প্রথমার্ধেই লুকাকুর দুই গোলেই শেষ পর্যন্ত স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে হোসে মরিনহোর দল। ব্রাইটন ও টটেনহ্যামের বিপক্ষে আগের টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের পরে মরিনহোর জন্য এই জয়টা বেশ জরুরি ছিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউনাইটেডকে ২৬ মিনিটে এগিয়ে দেন লুকাকু। কালকের ম্যাচে মূল একাদশে মরিনহোর বিবেচনায় ডাক পেয়েছিলেন এ্যালেক্সিস সানচেজ। এই চিলিয়ান তারকার ক্রসেই দু’জন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে হেড করে লুকাকু বার্নালি গোলরক্ষক জো হার্টকে পরাস্ত করেন। এরপর ৪৪ মিনিটে সানচেজের ব্যাক হিল থেকে লুক শ’র পা ঘুড়ে বল বার্নালি এরিয়ার মধ্যে পৌঁছায়। সেখান থেকে জেসে লিনগার্ডের ডিফ্লেকটেড শট থেকে লুকাকু মাত্র ৬ গজ দুর থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধ নিয়ে ইউনাইটেড স্বস্তিতে থাকলেও তা আড়াই হাজার সফরকারী সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি। যদিও টার্ফ মুরে আসা এই সমর্থকরা মরিনহোকে পুরো ম্যাচে বেশ ভালই সমর্থন দিয়ে গেছেন। তবে ক্লাবের এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান এড উডওয়ার্ডকে ঠিকই সমর্থকদের কটুক্তি শুনতে হয়েছে। তার বিপক্ষে মত দিয়ে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘এড উডওয়ার্ড, ব্যর্থতায় বিষেশজ্ঞ।’ মূলত ট্রান্সফার মার্কেটে ক্লাবের অনীহা প্রকাশের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি সমর্থকরা। আর এর পেছনে তারা বারবারই উডওয়ার্ডকেই দায়ী করে আসছে।

ম্যাচের শুরুতে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসহীন ইউনাইটেডের সামনে শঙ্কা ছিল ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মত লিগের প্রথম চারটি ম্যাচের তিনটিতেই পরাজিত হওয়ার। যদিও ম্যাচ শুরুর আগে মরিনহো অনেকটাই স্বস্তিতে ছিলেন। এ সময় তাকে দলের কর্মকর্তাদের সাথে হাসি ঠাট্টাও করতে দেখা গেছে। তবে খেলা মাঠে গড়ানোর সাথে সাথে ইউনাইটেড ক্রমেই বল ও পজিশনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয়। প্রথম নয় মিনিটে লিনগার্ড একাই তিনটি সুযোগ নষ্ট করেন। এর মধ্যে একটি অল্পের জন্য রক্ষা করেন হার্ট। লুকাকুর একটি প্রচেষ্টাও হার্ট ফিরিয়ে দেন। হার্ট যেখানে দল সামলাতে অনেকটাই ব্যস্ত ছিলেন সেখানে তার প্রতিপক্ষ ডেভিড ডি গিয়াকে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। অবশেষে ৬৩ মিনিটে ডি গিয়াকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছিল বার্নালি। তবে ক্রিস উডের হেড অনেকটাই সহজেই আটকে দেন ডি গিয়া।


আরো সংবাদ